এখন ০২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবার বেহাল দশা: জনভোগান্তি চরমে

মুক্তাগাছা সংবাদদাতাঃ মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবার বেহাল দশা।  ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম ও জনভোগান্তির চিত্র এখন শিরোনামে। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য আসা সাধারণ রোগীরা অবহেলার শিকার হচ্ছেন, এমনকি সামান্য আঘাতের জন্যও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে রোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ১.৩০টার আগেই হাসপাতালের ডাক্তার ও ফার্মেসি রুম তালাবদ্ধ ছিল। স্টাফদের সাথে কথা বলেও পরিষ্কার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। রোগীরা নিরুপায় হয়ে অপেক্ষা করতে করতে শেষমেশ বাধ্য হচ্ছেন ২০ মাইল দূরের জেলা হাসপাতালে যেতে। উল্লেখ্য, প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালের প্রধান কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে, ফলে জবাবদিহিতার অভাব স্পষ্ট।

ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো নির্ধারিত সময়ের আগেই হাসপাতাল ছেড়ে প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখা। এছাড়া, সিজারের রোগীদের প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠানোরও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, “পরিচিত হলে চেষ্টা করা হয় নরমাল ডেলিভারি করতে, অপরিচিত হলে সিজার করার জন্য পাঠানো হয়।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ক্লিনিকের দালালরা মাঠে থেকেই রোগীদের বিভ্রান্ত করে সিজারের জন্য প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যান।

এছাড়াও, ইসিজি রুমে নারীদের জন্য কোনো মহিলা নার্স না থাকায় বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। শাম্মি আক্তার জানান, “ইসিজি করানোর সময় পুরুষ নার্স থাকায় অনেক মহিলা রোগী ইসিজি করাতে অস্বস্তিবোধ করেন।”

এমনকি রোগীদের সাথে অসদাচরণ, অশোভন আচরণের অভিযোগও সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন রোগী এবং তাদের আত্মীয়রা জানিয়েছেন, ডাক্তার ও নার্সদের কাছ থেকে শিষ্টাচারবর্জিত আচরণ পেতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এক সময় সারাদেশের সেরা ১০টির মধ্যে থাকলেও বর্তমানে সেবার মান নিয়ে সাধারণ মানুষ হতাশ। সেবাগ্রহীতারা উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত মনিটরিং না থাকার কারণে হাসপাতালটিকে সেবাদাতারা ব্যক্তিগত আবাসিক সম্পত্তিতে পরিণত করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক জনসংখ্যার জন্য স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র প্রতিষ্ঠানটির এই বেহাল দশা থেকে উত্তরণে মুক্তাগাছার জনগণ উপজেলা প্রশাসনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। জনবান্ধব ও গুণগত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবার বেহাল দশা: জনভোগান্তি চরমে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৪৬:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪

মুক্তাগাছা সংবাদদাতাঃ মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবার বেহাল দশা।  ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম ও জনভোগান্তির চিত্র এখন শিরোনামে। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য আসা সাধারণ রোগীরা অবহেলার শিকার হচ্ছেন, এমনকি সামান্য আঘাতের জন্যও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে রোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ১.৩০টার আগেই হাসপাতালের ডাক্তার ও ফার্মেসি রুম তালাবদ্ধ ছিল। স্টাফদের সাথে কথা বলেও পরিষ্কার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। রোগীরা নিরুপায় হয়ে অপেক্ষা করতে করতে শেষমেশ বাধ্য হচ্ছেন ২০ মাইল দূরের জেলা হাসপাতালে যেতে। উল্লেখ্য, প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালের প্রধান কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে, ফলে জবাবদিহিতার অভাব স্পষ্ট।

ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো নির্ধারিত সময়ের আগেই হাসপাতাল ছেড়ে প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখা। এছাড়া, সিজারের রোগীদের প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠানোরও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, “পরিচিত হলে চেষ্টা করা হয় নরমাল ডেলিভারি করতে, অপরিচিত হলে সিজার করার জন্য পাঠানো হয়।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ক্লিনিকের দালালরা মাঠে থেকেই রোগীদের বিভ্রান্ত করে সিজারের জন্য প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যান।

এছাড়াও, ইসিজি রুমে নারীদের জন্য কোনো মহিলা নার্স না থাকায় বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। শাম্মি আক্তার জানান, “ইসিজি করানোর সময় পুরুষ নার্স থাকায় অনেক মহিলা রোগী ইসিজি করাতে অস্বস্তিবোধ করেন।”

এমনকি রোগীদের সাথে অসদাচরণ, অশোভন আচরণের অভিযোগও সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন রোগী এবং তাদের আত্মীয়রা জানিয়েছেন, ডাক্তার ও নার্সদের কাছ থেকে শিষ্টাচারবর্জিত আচরণ পেতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এক সময় সারাদেশের সেরা ১০টির মধ্যে থাকলেও বর্তমানে সেবার মান নিয়ে সাধারণ মানুষ হতাশ। সেবাগ্রহীতারা উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত মনিটরিং না থাকার কারণে হাসপাতালটিকে সেবাদাতারা ব্যক্তিগত আবাসিক সম্পত্তিতে পরিণত করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক জনসংখ্যার জন্য স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র প্রতিষ্ঠানটির এই বেহাল দশা থেকে উত্তরণে মুক্তাগাছার জনগণ উপজেলা প্রশাসনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। জনবান্ধব ও গুণগত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।