এখন ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তানোরে কর্মকর্তাসহ সেচ কমিটির অন্য সদস্যরা ভাগ করে নিয়েছেন বলেও গুঞ্জন

তানোর প্রতিনিধিঃ এদিকে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সাংসদ আলহাজ্ব এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী নতুন করে গভীর বা অগভীর  নলকূপের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছেন। কিন্ত্ত তার এরপরেও অজ্ঞাত কারণে  সেচ কমিটির সভাপতির ক্ষমতাবলে ইউএনও’রা এসব অবৈধ গভীর বা অগভীর নলকুপ স্থাপনের অনুমতি দিয়ে চলেছেন। এবিষয়ে তানোরের বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) বিল্লাল হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জানা গেছে,  তানোরে পোল্ট্রি খামার ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের নামে অবৈধভাবে গভীর-অগভীর নলকূপ বসিয়ে সেচ বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার সেচ বাণিজ্য করছেন একশ্রেণির নলকুপ মালিক।অথচ ভয়ংকর পরিবেশগত প্রতিকূলতার সৃষ্টি হলেও ব্যক্তি মালিকানায় গভীর-অভীর নলকূপ দেওয়া হচ্ছে। এবারো অনুমোদন পাওয়া ৩০টি গভীর নলকূপ বিভিন্ন ক্ষুদ্র শিল্পের নাম করে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিল ফাঁকি দিতেই ক্ষুদ্র শিল্পের নাম করে গভীর-অগভীর নলকূপ নেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে যা বাস্তবে সঠিক নয়। শতভাগ ব্যক্তি মালিকানার এসব গভীর-অগভীর নলকূপ থেকে সেচ বিক্রি করা হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে। সাশ্রয়ী হারে বিদ্যুৎ বিল দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে সেচ বিক্রি করে মালিকরা কোটি কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল ফাঁকি দিচ্ছেন। এবিষয়ে বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, মালিকরা কাগজপত্রে ক্ষুদ্র ও কৃষি শিল্প দেখানোর কারণ এসব খাতের বিদ্যুৎ বিল ইউনিট প্রতি ৪ টাকা ২৫ পয়সা। অন্যদিকে বাসা বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ইউনিট প্রতি বিদ্যুৎ বিল ১২ টাকা ৫০ পয়সা। রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও নেসকো এসব সংযোগ দিয়ে আসছে নির্বিচারে। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানেন কিনা তা আমরা বলতে পারছি না বলে জানান তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর এলাকা বরেন্দ্র অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। বিগত ১৯৮৫ সাল থেকে বরেন্দ্র এলাকাজুড়ে গভীর নলকূপ বসিয়ে ভূগর্ভের পানি তুলছে বিএমডিএ। ওয়ারপোর মাঠ সমীক্ষায় বরেন্দ্র অঞ্চলের দুটি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর একটি হচ্ছে রাজশাহীর তানোর ও অন্যটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল এলাকা।
জানা গেছে, রাজশাহীর তানোর ও গোদাগাড়ী এলাকা দুটি অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এসব এলাকার মধ্যে বছরের তানোরের মুণ্ডুমালা এলাকায় বছরের ৯ মাসই পানির সংকট বিরাজ করছে। গবেষণায় ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন সীমাবদ্ধ করার সুপারিশ করা হলেও উপজেলা সেচ কমিটি আরও নতুন ৩০টি গভীর-অগভীর নলকূপের লাইসেন্স অনুমোদন দেওয়ায় বিদ্যমান সংকট আরও বাড়বে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
এবিষয়ে জানতে চাইলে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ বলেন, বিএমডিএর অধিক্ষেত্রে বিশেষ করে তানোরের মতো সংকটাপন্ন এলাকায় নতুন করে গভীর-অগভীর নলকূপ স্থাপনের অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ নেই। উপজেলা সেচ কমিটি কেন কিভাবে এসব অনুমোদন দিয়েছেন বিএমডিএ তা খতিয়ে দেখবে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, রাজশাহীর প্রচন্ড খরাপ্রবণ
তানোর উপজেলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপ সেচ প্রকল্প কৃষিক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। কিন্ত্ত উপজেলা সেচ কমিটির নির্বিচারে গভীর-অগভীর নলকুপ স্থাপনের অনুমতি মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে  রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (তানোর জোন) একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে বিএমডিএ’র সেচ প্রকল্প হুমকির মুখে পড়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

তানোরে কর্মকর্তাসহ সেচ কমিটির অন্য সদস্যরা ভাগ করে নিয়েছেন বলেও গুঞ্জন

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০৭:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ ২০২৪

তানোর প্রতিনিধিঃ এদিকে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সাংসদ আলহাজ্ব এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী নতুন করে গভীর বা অগভীর  নলকূপের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছেন। কিন্ত্ত তার এরপরেও অজ্ঞাত কারণে  সেচ কমিটির সভাপতির ক্ষমতাবলে ইউএনও’রা এসব অবৈধ গভীর বা অগভীর নলকুপ স্থাপনের অনুমতি দিয়ে চলেছেন। এবিষয়ে তানোরের বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) বিল্লাল হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জানা গেছে,  তানোরে পোল্ট্রি খামার ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের নামে অবৈধভাবে গভীর-অগভীর নলকূপ বসিয়ে সেচ বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার সেচ বাণিজ্য করছেন একশ্রেণির নলকুপ মালিক।অথচ ভয়ংকর পরিবেশগত প্রতিকূলতার সৃষ্টি হলেও ব্যক্তি মালিকানায় গভীর-অভীর নলকূপ দেওয়া হচ্ছে। এবারো অনুমোদন পাওয়া ৩০টি গভীর নলকূপ বিভিন্ন ক্ষুদ্র শিল্পের নাম করে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিল ফাঁকি দিতেই ক্ষুদ্র শিল্পের নাম করে গভীর-অগভীর নলকূপ নেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে যা বাস্তবে সঠিক নয়। শতভাগ ব্যক্তি মালিকানার এসব গভীর-অগভীর নলকূপ থেকে সেচ বিক্রি করা হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে। সাশ্রয়ী হারে বিদ্যুৎ বিল দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে সেচ বিক্রি করে মালিকরা কোটি কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল ফাঁকি দিচ্ছেন। এবিষয়ে বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, মালিকরা কাগজপত্রে ক্ষুদ্র ও কৃষি শিল্প দেখানোর কারণ এসব খাতের বিদ্যুৎ বিল ইউনিট প্রতি ৪ টাকা ২৫ পয়সা। অন্যদিকে বাসা বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ইউনিট প্রতি বিদ্যুৎ বিল ১২ টাকা ৫০ পয়সা। রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও নেসকো এসব সংযোগ দিয়ে আসছে নির্বিচারে। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানেন কিনা তা আমরা বলতে পারছি না বলে জানান তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর এলাকা বরেন্দ্র অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। বিগত ১৯৮৫ সাল থেকে বরেন্দ্র এলাকাজুড়ে গভীর নলকূপ বসিয়ে ভূগর্ভের পানি তুলছে বিএমডিএ। ওয়ারপোর মাঠ সমীক্ষায় বরেন্দ্র অঞ্চলের দুটি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর একটি হচ্ছে রাজশাহীর তানোর ও অন্যটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল এলাকা।
জানা গেছে, রাজশাহীর তানোর ও গোদাগাড়ী এলাকা দুটি অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এসব এলাকার মধ্যে বছরের তানোরের মুণ্ডুমালা এলাকায় বছরের ৯ মাসই পানির সংকট বিরাজ করছে। গবেষণায় ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন সীমাবদ্ধ করার সুপারিশ করা হলেও উপজেলা সেচ কমিটি আরও নতুন ৩০টি গভীর-অগভীর নলকূপের লাইসেন্স অনুমোদন দেওয়ায় বিদ্যমান সংকট আরও বাড়বে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
এবিষয়ে জানতে চাইলে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ বলেন, বিএমডিএর অধিক্ষেত্রে বিশেষ করে তানোরের মতো সংকটাপন্ন এলাকায় নতুন করে গভীর-অগভীর নলকূপ স্থাপনের অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ নেই। উপজেলা সেচ কমিটি কেন কিভাবে এসব অনুমোদন দিয়েছেন বিএমডিএ তা খতিয়ে দেখবে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, রাজশাহীর প্রচন্ড খরাপ্রবণ
তানোর উপজেলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপ সেচ প্রকল্প কৃষিক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। কিন্ত্ত উপজেলা সেচ কমিটির নির্বিচারে গভীর-অগভীর নলকুপ স্থাপনের অনুমতি মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে  রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (তানোর জোন) একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে বিএমডিএ’র সেচ প্রকল্প হুমকির মুখে পড়েছে।