এখন ০৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য

বিশেষ সংবাদদাতাঃ প্রাচ্যের ড্যান্ডি খ্যাত জেলা নারায়ণগঞ্জ। ঘন বসতিপূর্ণ এ জেলায় প্রায় ৩০ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। শহরের প্রাণ কেন্দ্র খাঁনপুরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। আর এ হাসপাতালে প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন জায়গা সহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসে হাজার হাজার মুমূর্ষ রোগী ও স্বজন। সরকারি এই হাসপাতালকে ঘিরে শহর জুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে নামে-বেনামে ডায়াগনেস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক।

ডায়াগনেস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলোতে প্রতিনিয়তই নানা ধরনের প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করে পরীক্ষা বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন।

ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠা ডায়াগনেস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের নিজস্ব দালাল দ্বারা ভালো চিকিৎসা সেবা দেয়ার কথা বলে প্রতারণা করছে।

শহরের নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ঠ জেনারেল হাসপাতালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশ গেট সহ আউটডোর, জরুরি বিভাগের বিভিন্ন জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফাঁদ পেতে ঘুরা ঘুরি করছে দালালরা। টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে সকল বিভাগের সামনে রয়েছে দালালদের অবস্থান। এছাড়া এক দল দালালের অবস্থান তো ডাক্তারদের রুমের পাসেই অবস্থান করে। লাইনে থাকা রোগীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে মাত্র ১০টাকায় ডাক্তার দেখানো হয় বলে আশেপাশের

ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠা ডায়াগনেস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে নিয়ে অযথা পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে রোগীদের সর্বশান্ত করছে। এছাড়াও হাসপাতালের কিছু কিছু ষ্টাফও দালালদের সাথে যুক্ত হয়ে

ডাক্তার যে সকল পরীক্ষা করতে দেয় সে কাগজ ও রোগীকে ভুল বুঝিয়ে ডাইগোনেস্টিকের দালালদের হাতে ধরিয়ে দেয়। অনেক সময় তাদের নির্দিষ্ট সেন্টার থেকে পরীক্ষা করানোর জন্য জোড় করে নিয়ে যায়। যারা দালালদের পছন্দ মতো সেন্টার থেকে পরীক্ষা না করাতে চায় তাদের এক প্রকার হুমকি দিয়ে বলে রির্পোট নিয়ে আইসেন দেখাবোনে।

জোহরা নামের একজন রোগী ও তার স্বজন জানান, এখানে চিকিৎসা নিতে এসে দলালদের হাতে হয়রানির শিকার হয়েছি। একজন সংবাদকর্মী কথা বলতে আসায় তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় লতা নামের এক দালাল।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে যে সকল দালালরা থাকে তাদের বেশির ভাগই কমিশনে কাজ করে। যে যত বেশি রোগী পরিক্ষা করাতে পারবে সে তত বেশি কমিশন পাবে।

এ বিষয়ে ৩০০ শয্যা বিশিষ্ঠ হাসপাতালের চিকিৎসা তত্বাবধায়ক (উপ পরিচালক, স্বাস্থ্য) ডাঃ মো: আবুল বাসার বলেন, আমি একা একা দারিয়ে দেখি মসজিদের সামনে অনেক দালাল থাকে যখন আমাকে দেখে তখন সব দৌঁড়ে পালায়।

প্রতিনিয়তই দালাল মুক্ত করার লক্ষ্যে হাসপাতালে তত্বাবধায়কের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে অভিযান। মাঝেমধ্যেই অনেক দালালকে গ্রেপ্তার করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছেনা। কোন অজানা হাতছানিতে দালাল মুক্ত করা সম্ভবই হচ্ছে না বলছেন সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।

বিষয়টি নিয়ে তত্বাবধায়ক আবুল বাশার আরো জানান, জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন পুলিশ সুপার সহ বেশ কয়েক জায়গায় চিঠি দিয়েছি। আশা করছি অল্প কিছু দিনের মধ্যে রেজাল্ট চলে আসবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩৫:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

বিশেষ সংবাদদাতাঃ প্রাচ্যের ড্যান্ডি খ্যাত জেলা নারায়ণগঞ্জ। ঘন বসতিপূর্ণ এ জেলায় প্রায় ৩০ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। শহরের প্রাণ কেন্দ্র খাঁনপুরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। আর এ হাসপাতালে প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন জায়গা সহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসে হাজার হাজার মুমূর্ষ রোগী ও স্বজন। সরকারি এই হাসপাতালকে ঘিরে শহর জুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে নামে-বেনামে ডায়াগনেস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক।

ডায়াগনেস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলোতে প্রতিনিয়তই নানা ধরনের প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করে পরীক্ষা বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন।

ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠা ডায়াগনেস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের নিজস্ব দালাল দ্বারা ভালো চিকিৎসা সেবা দেয়ার কথা বলে প্রতারণা করছে।

শহরের নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ঠ জেনারেল হাসপাতালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশ গেট সহ আউটডোর, জরুরি বিভাগের বিভিন্ন জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফাঁদ পেতে ঘুরা ঘুরি করছে দালালরা। টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে সকল বিভাগের সামনে রয়েছে দালালদের অবস্থান। এছাড়া এক দল দালালের অবস্থান তো ডাক্তারদের রুমের পাসেই অবস্থান করে। লাইনে থাকা রোগীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে মাত্র ১০টাকায় ডাক্তার দেখানো হয় বলে আশেপাশের

ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠা ডায়াগনেস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে নিয়ে অযথা পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে রোগীদের সর্বশান্ত করছে। এছাড়াও হাসপাতালের কিছু কিছু ষ্টাফও দালালদের সাথে যুক্ত হয়ে

ডাক্তার যে সকল পরীক্ষা করতে দেয় সে কাগজ ও রোগীকে ভুল বুঝিয়ে ডাইগোনেস্টিকের দালালদের হাতে ধরিয়ে দেয়। অনেক সময় তাদের নির্দিষ্ট সেন্টার থেকে পরীক্ষা করানোর জন্য জোড় করে নিয়ে যায়। যারা দালালদের পছন্দ মতো সেন্টার থেকে পরীক্ষা না করাতে চায় তাদের এক প্রকার হুমকি দিয়ে বলে রির্পোট নিয়ে আইসেন দেখাবোনে।

জোহরা নামের একজন রোগী ও তার স্বজন জানান, এখানে চিকিৎসা নিতে এসে দলালদের হাতে হয়রানির শিকার হয়েছি। একজন সংবাদকর্মী কথা বলতে আসায় তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় লতা নামের এক দালাল।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে যে সকল দালালরা থাকে তাদের বেশির ভাগই কমিশনে কাজ করে। যে যত বেশি রোগী পরিক্ষা করাতে পারবে সে তত বেশি কমিশন পাবে।

এ বিষয়ে ৩০০ শয্যা বিশিষ্ঠ হাসপাতালের চিকিৎসা তত্বাবধায়ক (উপ পরিচালক, স্বাস্থ্য) ডাঃ মো: আবুল বাসার বলেন, আমি একা একা দারিয়ে দেখি মসজিদের সামনে অনেক দালাল থাকে যখন আমাকে দেখে তখন সব দৌঁড়ে পালায়।

প্রতিনিয়তই দালাল মুক্ত করার লক্ষ্যে হাসপাতালে তত্বাবধায়কের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে অভিযান। মাঝেমধ্যেই অনেক দালালকে গ্রেপ্তার করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছেনা। কোন অজানা হাতছানিতে দালাল মুক্ত করা সম্ভবই হচ্ছে না বলছেন সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।

বিষয়টি নিয়ে তত্বাবধায়ক আবুল বাশার আরো জানান, জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন পুলিশ সুপার সহ বেশ কয়েক জায়গায় চিঠি দিয়েছি। আশা করছি অল্প কিছু দিনের মধ্যে রেজাল্ট চলে আসবে।