এখন ০৫:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্ধ্যায় তালাক রাতে বিয়ে

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ- রাজশাহীর তানোরে ইউপি সদস্য ও গ্রাম্য মাত্তব্বরের বিরুদ্ধে সালিশের নামে প্রতারণা ও প্রহসণের অভিযোগ উঠেছে। গ্রামবাসী জানান, এদিন কথিত সালিশ বৈঠকে এক সন্তানের জননীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে স্বামীকে এক তরফা তালাক দিয়ে একই সময়ে অপর ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়েছে। গত সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) শ্রীখন্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একপ্রবাসী পরিবার ও সবজি বিক্রেতা দুটি পরিবার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনিত হয়েছে। এখবর ছড়িয়ে পড়লে সালিশদার ও কাজির দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে গ্রামবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৭ অক্টোবর বৃহস্প্রতিবার দিবাগত রাতে
কৃষ্ঠপুর গ্রামের এরাজ মন্ডলের পুত্র সবজি ব্যবসায়ী ও দুই সন্তানের জনক আলমগীর মন্ডলকে (৪০) জনৈক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় গ্রামবাসী আটক করেন। কিন্ত্ত মামুন, ইউপি সদস্য (মেম্বার) শরিফুল ইসলাম রাজা ও শিমুল ঘটনা মিমাংসার কথা বলে ভিকটিমকে আইনের আশ্রয় নিতে নিষেধ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় শ্রীখন্ডা গ্রামে ইউপি সদস্য রাজার বাড়িতে শিমুল ও মামুনের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে ভিকটিমের ইচ্ছের বিরুদ্ধে তার প্রবাসী স্বামীকে এক তরফা তালাক দিতে বাধ্য করা হয় এবং একই বৈঠকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেনমোহরে ভূয়া কাগজে আলমগীরের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়। জামায়াত নেতা ও কাজি মিজানুর রহমান বিয়ে (ভুয়া) রেজিষ্ট্রি করায়। ভিকটিমের স্বজনরা জানান, তার স্বামী প্রবাসী এবং পুত্র হাফেজ।
কিন্তু মাতব্বররা টাকার বিনিময়ে বিচারের নামে প্রহসণ করেছেন। এমনকি মেম্বারের বাড়িতে সালিশ বসে আর পাশ্ববর্তী নাজমুলের বাড়িতে বিয়ে হয়। আমরা কাজিকে একাধিকবার ফোন দিয়ে নিষেধ করার পরও তিনি ভূয়া কাগজে রেজিস্ট্রি করেন আর শিমুল কালেমা পড়ায়। অথচ ধর্মীয় মতে তালাকের তিন মাস পর ব্যতিত বিয়ের কোনো সুযোগ নাই। এবিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য (মেম্বার) শফিকুল ইসলাম রাজা জানান, তালাক হওয়া পর্যন্ত তিনি ছিলেন, তারপরে ছিলেন না। ওই রাতেই চাপ প্রয়োগে বিয়ে দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে, এক পর্যায়ে তিনি অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। এবিষয়ে শিমুল বলেন,সালিশে ওই নারী স্বইচ্ছায় এক তরফা তালাক দিয়েছেন। এবিষয়ে পাঁচন্দর ইউপির কাজি ও কামারগাঁ ইউপির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কাজি জামায়াত নেতা মিজানুর রহমান জানান, গৃহবধু এক তরফা তালাক দিবে এজন্য আমাকে ডাকা হয়েছিল। তবে আমি ব্যস্ত থাকায় আমার ছেলে গিয়ে তালাকনামা করেন। আপনার ছেলে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেনে ভূয়া কাগজে রেজিস্ট্রি করেছে প্রশ্ন করা হলে তিনি অস্বীকার করেন। তবে তালাকের কাগজ দেখতে চাইলে অপারগতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ চলতি বছরে এই কাজির নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদুক, নিবন্ধন শাখা ও জেলা রেজিস্টার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয় কামারগাঁ ইউপির আশরাফুল।এবিষয়ে কামারগাঁ ইউপি চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি ফরহাদ বলেন, এবিষয়ে তিনি অবগত নন, তবে এমনটি হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে চাইলে ভুক্তভোগী আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

সন্ধ্যায় তালাক রাতে বিয়ে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৪৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ নভেম্বর ২০২২

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ- রাজশাহীর তানোরে ইউপি সদস্য ও গ্রাম্য মাত্তব্বরের বিরুদ্ধে সালিশের নামে প্রতারণা ও প্রহসণের অভিযোগ উঠেছে। গ্রামবাসী জানান, এদিন কথিত সালিশ বৈঠকে এক সন্তানের জননীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে স্বামীকে এক তরফা তালাক দিয়ে একই সময়ে অপর ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়েছে। গত সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) শ্রীখন্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একপ্রবাসী পরিবার ও সবজি বিক্রেতা দুটি পরিবার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনিত হয়েছে। এখবর ছড়িয়ে পড়লে সালিশদার ও কাজির দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে গ্রামবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৭ অক্টোবর বৃহস্প্রতিবার দিবাগত রাতে
কৃষ্ঠপুর গ্রামের এরাজ মন্ডলের পুত্র সবজি ব্যবসায়ী ও দুই সন্তানের জনক আলমগীর মন্ডলকে (৪০) জনৈক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় গ্রামবাসী আটক করেন। কিন্ত্ত মামুন, ইউপি সদস্য (মেম্বার) শরিফুল ইসলাম রাজা ও শিমুল ঘটনা মিমাংসার কথা বলে ভিকটিমকে আইনের আশ্রয় নিতে নিষেধ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় শ্রীখন্ডা গ্রামে ইউপি সদস্য রাজার বাড়িতে শিমুল ও মামুনের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে ভিকটিমের ইচ্ছের বিরুদ্ধে তার প্রবাসী স্বামীকে এক তরফা তালাক দিতে বাধ্য করা হয় এবং একই বৈঠকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেনমোহরে ভূয়া কাগজে আলমগীরের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়। জামায়াত নেতা ও কাজি মিজানুর রহমান বিয়ে (ভুয়া) রেজিষ্ট্রি করায়। ভিকটিমের স্বজনরা জানান, তার স্বামী প্রবাসী এবং পুত্র হাফেজ।
কিন্তু মাতব্বররা টাকার বিনিময়ে বিচারের নামে প্রহসণ করেছেন। এমনকি মেম্বারের বাড়িতে সালিশ বসে আর পাশ্ববর্তী নাজমুলের বাড়িতে বিয়ে হয়। আমরা কাজিকে একাধিকবার ফোন দিয়ে নিষেধ করার পরও তিনি ভূয়া কাগজে রেজিস্ট্রি করেন আর শিমুল কালেমা পড়ায়। অথচ ধর্মীয় মতে তালাকের তিন মাস পর ব্যতিত বিয়ের কোনো সুযোগ নাই। এবিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য (মেম্বার) শফিকুল ইসলাম রাজা জানান, তালাক হওয়া পর্যন্ত তিনি ছিলেন, তারপরে ছিলেন না। ওই রাতেই চাপ প্রয়োগে বিয়ে দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে, এক পর্যায়ে তিনি অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। এবিষয়ে শিমুল বলেন,সালিশে ওই নারী স্বইচ্ছায় এক তরফা তালাক দিয়েছেন। এবিষয়ে পাঁচন্দর ইউপির কাজি ও কামারগাঁ ইউপির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কাজি জামায়াত নেতা মিজানুর রহমান জানান, গৃহবধু এক তরফা তালাক দিবে এজন্য আমাকে ডাকা হয়েছিল। তবে আমি ব্যস্ত থাকায় আমার ছেলে গিয়ে তালাকনামা করেন। আপনার ছেলে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেনে ভূয়া কাগজে রেজিস্ট্রি করেছে প্রশ্ন করা হলে তিনি অস্বীকার করেন। তবে তালাকের কাগজ দেখতে চাইলে অপারগতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ চলতি বছরে এই কাজির নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদুক, নিবন্ধন শাখা ও জেলা রেজিস্টার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয় কামারগাঁ ইউপির আশরাফুল।এবিষয়ে কামারগাঁ ইউপি চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি ফরহাদ বলেন, এবিষয়ে তিনি অবগত নন, তবে এমনটি হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে চাইলে ভুক্তভোগী আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।