একেএম বেলাল উদ্দিন, চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি -ঃ- কক্সবাজারের চকরিয়ায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী কতৃক দুই ভাইকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখমের ঘটনায় অবশেষে আদালতের নির্দেশে মামলা দায়ের।
থানায় দেওয়া এজাহার থেকে পাঁচ আসামি বাদ দিতে বাদীকে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার সকালে জেসমিন আকতার বাদী হয়ে ২০ জনের নামে চকরিয়া সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার বাদী জেসমিন আকতার যুগান্তরকে বলেন, গত শুক্রবার রাতে বিয়ে খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে কোনাখালী এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা তার দুই ভাই আলাউদ্দিন ও সালাহউদ্দিনকে দা ও কিরিচ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। আলাউদ্দিনের হাতে, পায়ে ও পিঠে ৩২টি কুপ এবং সালাহউদ্দিনের শরীরে ১৩টি কুপের আঘাত রয়েছে। বর্তমানে আলাউদ্দিন ঢাকা মেডিকেলে ও সালাহউদ্দিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। উক্ত ঘটনায় গত রবিবার চকরিয়া থানায় এজাহার দায়ের করি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আবদুল জব্বার ও মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান মামলা নেওয়ার আশ্বাসে রবিবার রাত সাড়ে বারোটা পর্যন্ত আমাকে থানায় বসিয়ে রাখেন। রাতেই মামলা রেকর্ড হবে জানিয়ে আমাকে বাড়ি চলে যেতে বললে আমি বাড়ি চলে যাই। পরে থানা থেকে আমার কাছে খবর দেয় সকালে থানায় আসতে। সোমবার সকালে চকরিয়া থানায় আসলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মিজানুর রহমান আমার দেওয়া এজাহারের ১ ও ২ নং আসামি সহ ৫ জন আসামিকে বাদ দিলে থানায় মামলা হবে, নতুবা মামলা হবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেয়।
জেসমিন আকতার আরও বলেন, আসামিরা বিত্তশালী হওয়ায় পুলিশ তাদের পক্ষ নিয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকা আসামিদের মামলা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য আমাকে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাই বিভিন্ন অজুহাতে মামলা দায়েরে গড়িমসি করেছেন। অবশেষে মঙ্গলবার সকালে চকরিয়া সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে মামলা দায়ের করি।
এদিকে বিজ্ঞ আদালত প্রাথমিক তথ্য যাচাই করে মামলাটি রেকর্ড ভুক্ত করতে চকরিয়া থানাকে নির্দেশ দেন বলে নিশ্চিত করেন বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আবু সালেহ।
আসামি বাদ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টির বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আবদুল জব্বার বলেন, বাদীর জমা দেওয়া এজাহারে বিশ জনকে আসামি দেওয়ায়, সেখান থেকে পাঁচ জনকে বাদ দিতে চাপ নয়, অনুরোধ করা হয়েছিল।













