এখন ০৩:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওসির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিক মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

কুমিল্লা প্রতিনিধি -ঃ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানার ওসি মো. ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির দলীয় পদে থাকা নেতা কর্মীদের আটক না করে সাধারণ মানুষকে আটক করে রাজনৈতিক মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করে এ ওসি। 
শনিবার দুপুরে নাঙ্গলকোট বাজারের মোজাক্কের হোসেন নামের এক পিন্টিং ব্যবসায়ীকে আকট করে বিএনপির কর্মী বলে রাজনৈতিক মামলা দিয়ে কুমিল্লা জেল হাজতে প্রেরণ করেন। অথচ মোজাক্কের কোন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। 
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মোজাক্কের নাঙ্গলকোট বাজারে পিন্টিং ব্যবসা করে আসছেন। দলমত নির্বিশেষে সকলে তার কাছে বিভিন্ন ব্যানার পেস্টুন তৈরি কাজ করান। সেই সুবাদে উপজেলা বিএনপির নেতা নজির আহম্মেদ ভূইয়াও তার কাছে ব্যানার পেস্টুনের ওয়াডার দেন। কাজও করে দেন মোজাক্কের। শনিবার দুপুরে বকেয়া টাকার জন্য বিএনপি নেতা নজির আহম্মেদ ভূইয়ার বাড়ি মৌকরা ইউপির কেশতলা গ্রামে গেলে ওসি ফারুক হোসেন এসআই পলাশ বড়ুয়াকে দিয়ে মোজাক্কেরকে আকট করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল তালাশি দিয়ে কোন কিছু না পেয়ে বিএনপি ভাংচুরের ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলো দাবি করে পুলিশ মোজাক্কেরকে কুমিল্লা জেল হাজতে প্রেরন করেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নাঙ্গলকোট বাজারের আরেক ব্যবসায়ী সোলেমান দরবার করার জন্য থানার গোল ঘরে গেলে তাকে এই এসআই পলাশ আটক করে হাজত খানায় ঢুকিয়ে দেন। পরে সোলেমানের মোবাইল তালাশি দিয়ে কোন কিছু না পেয়ে তার মোবাইল ফেইসবুকে জামায়াতের পক্ষে পোস্ট আছে তাকেও কুমিল্লা জেল হাজতে প্রেরণ করেন। অথচ সোলেমান প্রবাস থেকে বাড়ি এসে দীর্ঘদিন ধরে নাঙ্গলকোট বাজার সাইকেল পার্টসের ব্যবসা করে আসছেন। 
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট নাঙ্গলকোট বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন উপজেলা বিএনপি। এ সময় পুলিশ, আ’লীগ ও বিএনপি সংঘর্ষ বাঁধে। যা নাঙ্গলকোট রণক্ষেত্রে রুপ নেয়। ওসি ফারুক হোসেনের অদক্ষতার কারণে এ ঘটনাটি ঘটে। এনিয়ে পুলিশ বাদি হয়ে দুটি মামলা ও আ’লীগ বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন ওসি ফারুক হোসেন। মামলা হওয়ার পর থেকে ব্যাপয়ারা হয়ে উঠে পুলিশ। বিএনপির দলীয় পোস্ট পদবী নেতা কর্মীদের আকট না করে সাধারণ মানুষকে আটক রাজনৈতিক মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরন করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসার চেষ্টা করছেন। বিএনপির সরকারের আমলে চাকরি নেয়া ওসি ফারুক হোসেন তার ওসির চেয়ারকে আরো শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন আ’লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। এমনিতে তাকে পুলিশ ডিপার্টমেন্টে বিএনপির ওসি হিসেবে জানেন সবাই।  
ওসি ফারুক হোসেন নাঙ্গলকোট থানায় যোগদানের পর থানায় কোন মামলা নেনা। মানুষ থানা এসে সেবা না পেয়ে আদালতে মামলা করেন। যা প্রতি মাসে আদালতে কতটি মামলা হয়। আর থানায় কতটি মামলা হয়। আদালত গিয়ে তলব করলে তা বেরিয়ে আসবে। তার এসব কর্মকান্ডের জন্য অনেক পুলিশ সদস্য বদলি হয়ে যায়। 
ওসি সম্প্রতি বদলিকৃত এসআই ইয়ামিন সুমনকে দিয়ে বিভিন্ন বিএনপি নেতা কর্মীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। তাৎক্ষণিক ইয়ামিন সুমন কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার বদলি করেন। ইউপি নির্বাচনের সময় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা খেয়ে সততা দেখান। পরে ৬ চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ৬টি আই ফোন উপহার নেন। 

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ওসি ফারুক হোসেনকে একাদিক বার কল করলেও মোবাইল রিসিপ করেন নাই।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

ওসির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিক মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:০৯:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২২

কুমিল্লা প্রতিনিধি -ঃ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানার ওসি মো. ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির দলীয় পদে থাকা নেতা কর্মীদের আটক না করে সাধারণ মানুষকে আটক করে রাজনৈতিক মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করে এ ওসি। 
শনিবার দুপুরে নাঙ্গলকোট বাজারের মোজাক্কের হোসেন নামের এক পিন্টিং ব্যবসায়ীকে আকট করে বিএনপির কর্মী বলে রাজনৈতিক মামলা দিয়ে কুমিল্লা জেল হাজতে প্রেরণ করেন। অথচ মোজাক্কের কোন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। 
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মোজাক্কের নাঙ্গলকোট বাজারে পিন্টিং ব্যবসা করে আসছেন। দলমত নির্বিশেষে সকলে তার কাছে বিভিন্ন ব্যানার পেস্টুন তৈরি কাজ করান। সেই সুবাদে উপজেলা বিএনপির নেতা নজির আহম্মেদ ভূইয়াও তার কাছে ব্যানার পেস্টুনের ওয়াডার দেন। কাজও করে দেন মোজাক্কের। শনিবার দুপুরে বকেয়া টাকার জন্য বিএনপি নেতা নজির আহম্মেদ ভূইয়ার বাড়ি মৌকরা ইউপির কেশতলা গ্রামে গেলে ওসি ফারুক হোসেন এসআই পলাশ বড়ুয়াকে দিয়ে মোজাক্কেরকে আকট করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল তালাশি দিয়ে কোন কিছু না পেয়ে বিএনপি ভাংচুরের ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলো দাবি করে পুলিশ মোজাক্কেরকে কুমিল্লা জেল হাজতে প্রেরন করেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নাঙ্গলকোট বাজারের আরেক ব্যবসায়ী সোলেমান দরবার করার জন্য থানার গোল ঘরে গেলে তাকে এই এসআই পলাশ আটক করে হাজত খানায় ঢুকিয়ে দেন। পরে সোলেমানের মোবাইল তালাশি দিয়ে কোন কিছু না পেয়ে তার মোবাইল ফেইসবুকে জামায়াতের পক্ষে পোস্ট আছে তাকেও কুমিল্লা জেল হাজতে প্রেরণ করেন। অথচ সোলেমান প্রবাস থেকে বাড়ি এসে দীর্ঘদিন ধরে নাঙ্গলকোট বাজার সাইকেল পার্টসের ব্যবসা করে আসছেন। 
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট নাঙ্গলকোট বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন উপজেলা বিএনপি। এ সময় পুলিশ, আ’লীগ ও বিএনপি সংঘর্ষ বাঁধে। যা নাঙ্গলকোট রণক্ষেত্রে রুপ নেয়। ওসি ফারুক হোসেনের অদক্ষতার কারণে এ ঘটনাটি ঘটে। এনিয়ে পুলিশ বাদি হয়ে দুটি মামলা ও আ’লীগ বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন ওসি ফারুক হোসেন। মামলা হওয়ার পর থেকে ব্যাপয়ারা হয়ে উঠে পুলিশ। বিএনপির দলীয় পোস্ট পদবী নেতা কর্মীদের আকট না করে সাধারণ মানুষকে আটক রাজনৈতিক মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরন করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসার চেষ্টা করছেন। বিএনপির সরকারের আমলে চাকরি নেয়া ওসি ফারুক হোসেন তার ওসির চেয়ারকে আরো শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন আ’লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। এমনিতে তাকে পুলিশ ডিপার্টমেন্টে বিএনপির ওসি হিসেবে জানেন সবাই।  
ওসি ফারুক হোসেন নাঙ্গলকোট থানায় যোগদানের পর থানায় কোন মামলা নেনা। মানুষ থানা এসে সেবা না পেয়ে আদালতে মামলা করেন। যা প্রতি মাসে আদালতে কতটি মামলা হয়। আর থানায় কতটি মামলা হয়। আদালত গিয়ে তলব করলে তা বেরিয়ে আসবে। তার এসব কর্মকান্ডের জন্য অনেক পুলিশ সদস্য বদলি হয়ে যায়। 
ওসি সম্প্রতি বদলিকৃত এসআই ইয়ামিন সুমনকে দিয়ে বিভিন্ন বিএনপি নেতা কর্মীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। তাৎক্ষণিক ইয়ামিন সুমন কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার বদলি করেন। ইউপি নির্বাচনের সময় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা খেয়ে সততা দেখান। পরে ৬ চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ৬টি আই ফোন উপহার নেন। 

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ওসি ফারুক হোসেনকে একাদিক বার কল করলেও মোবাইল রিসিপ করেন নাই।