এখন ০৩:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউপি চেয়ারম্যানকে ফাঁসাতে মামলা এলাকায় উত্তেজনা

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী
নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দুই বারের নির্বাচিত জননন্দিত চেয়ারম্যান, ইউপি আওয়ামী লীগের সম্পাদক ও মান্দা ইউপি চেয়ারম্যান ফোরামের সভাপতি আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান সুমনকে ফাঁসিয়ে বসে আনতে প্রতিপক্ষ বিভিন্ন কৌশলে নানা অপতৎপরতা শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, ইউপি নির্বাচনে সুমনের কাছে পরাজিত হবার পর থেকে প্রতিশোধ নিতে প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যাচার করেই চলেছেন। কিন্ত্ত কোনো কিছুতেই সুমনকে বসে আনতে ব্যর্থ হয়ে এবার সুমনের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা করানো হয়েছে অভিযোগ উঠেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসির মাঝে তীব্রক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছে, তাদের ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা মানে পুরো ইউপির মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করার সামিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি ভারশোঁ ইউপির বালিচ গ্রামের বাসিন্দা জালাল উদ্দিনের পুত্র বখাটে শরিফুল ইসলাম মদ্যপ অবস্থায় রাস্তা দিয়ে যাবার সময় নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের প্রাইভেট কারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে পড়ে যায়। এ সময় পথচারীরা তাকে উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠায়, এমনকি চিকিৎসার জন্য চেয়ারম্যান তাকে কিছু টাকাও দেন। অথচ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এই ঘটনা ভিন্নখাতে প্রভাবিত করে চেয়ারম্যান সুমনকে ফাঁসাতে অভিনব কৌশল অবলম্বন করে শরিফুলকে দিয়ে চেয়ারম্যান সুমনের বিরুদ্ধে আদালতে সাজানো মামলা করানো হয়। শরিফুলের করা অভিযোগে বলা হয় চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন তার সঙ্গে শত্রুতা করে আসছিলেন। এরই জের ধরে গত সোমবার সন্ধ্যায় ভারশোঁ বাজারে যাওয়ার পথে চেয়ারম্যান তার ব্যক্তিগত প্রাইভেট কার দিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে প্রাণে মারার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে রোড দিয়ে পিটিয়ে তার হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পরে তিনি মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই ধরনের কোন মারামারির ঘটনা ঘটেনি, বা কারো জানা নেই। তারা বলেন, দুই বার দলীয় প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমনের মান ক্ষুন্ন করার জন্য একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরে
তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করে আসছেন, এটাও তাদের মিথ্যা অভিযোগ।
সচেতন মহলের প্রশ্ন চেয়ারম্যান তাকে কেনো গাড়ী চাঁপা দিবেন, তাকে যদি পিটাতে চাই, তাহলে চেয়ারম্যান তার লোক দিয়ে তাকে পিটাতে পারতেন, সে তো এমন কোনো ভিআইপি নয় যে গোপণে রাস্তায় তাকে গাড়ী চাঁপা দিতে হবে।
এছাড়াও অভিযোগে বলা হয়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তার ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে, তার অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তাহলে তো তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে রড দিয়ে পেটানোর দাগ থাকার কথা, সেই দাগ তো নাই। চেয়ারম্যান সুমন একজন স্বজ্জন মানুষ, এর আগে তার বিরুদ্ধে কেউ এমন কোনো ঘটনার প্রমাণ দিতে পারবেন না। আসলে প্রতিপক্ষের কাছে থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের কুপরামর্শে শরিফুল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছেন বলে মনে করছেন ইউপির সাধারণ মানুষ। জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে, এমন বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর অভিযোগ উঙ্খাপন করা মানে পুরো ইউপির জনগণের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সামিল। এমন জঘন্যতম মিথ্যাচার এই জনপদের মানুষ কখানো মেনে নিবেন না। এবিষয়ে জানতে চাইলে শরিফুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আলতাজের পক্ষে ভোট করায় আমার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন। এরই জের ধরে বিভিন্ন সময় মেরে ফেলার হুমকি দিতেন তিনি। এমত অবস্থায় গত সোমবার বাজারে যাওয়ার পথে তার প্রাইভেট কার দিয়ে আমাকে ধাক্কা দেন। পরে লোহার রড দিয়ে মারধর করে বাম হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে হুমকি প্রদানের বিষয়ে পূর্বে কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অভিযোগ করেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শরিফুল ইসলাম বলেন, কোন অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি এটাই আমার সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। তিনি আরো বলেন মোস্তাফিজুর রহমান সুমনকে চেয়ারম্যান পদ থেকে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত আমি থামবো না। এদিকে তার এমন বক্তব্য প্রমাণ করে এটা তার ষড়যন্ত্র। এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন বলেন, রাস্তায় বাঁক থাকা ও শরিফুলের অসতর্কতার
কারণে তার সঙ্গে প্রাইভেট কারের ধাক্কা লেগেছিল, যা ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত নিছক একটি দুর্ঘটনা। শরিফুলকে রড দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোহ সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন বানোয়াট উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। তিনি বলেন, সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ-প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। এবিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুর রহমান জানান, শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

ইউপি চেয়ারম্যানকে ফাঁসাতে মামলা এলাকায় উত্তেজনা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:১২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী
নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দুই বারের নির্বাচিত জননন্দিত চেয়ারম্যান, ইউপি আওয়ামী লীগের সম্পাদক ও মান্দা ইউপি চেয়ারম্যান ফোরামের সভাপতি আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান সুমনকে ফাঁসিয়ে বসে আনতে প্রতিপক্ষ বিভিন্ন কৌশলে নানা অপতৎপরতা শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, ইউপি নির্বাচনে সুমনের কাছে পরাজিত হবার পর থেকে প্রতিশোধ নিতে প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যাচার করেই চলেছেন। কিন্ত্ত কোনো কিছুতেই সুমনকে বসে আনতে ব্যর্থ হয়ে এবার সুমনের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা করানো হয়েছে অভিযোগ উঠেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসির মাঝে তীব্রক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছে, তাদের ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা মানে পুরো ইউপির মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করার সামিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি ভারশোঁ ইউপির বালিচ গ্রামের বাসিন্দা জালাল উদ্দিনের পুত্র বখাটে শরিফুল ইসলাম মদ্যপ অবস্থায় রাস্তা দিয়ে যাবার সময় নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের প্রাইভেট কারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে পড়ে যায়। এ সময় পথচারীরা তাকে উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠায়, এমনকি চিকিৎসার জন্য চেয়ারম্যান তাকে কিছু টাকাও দেন। অথচ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এই ঘটনা ভিন্নখাতে প্রভাবিত করে চেয়ারম্যান সুমনকে ফাঁসাতে অভিনব কৌশল অবলম্বন করে শরিফুলকে দিয়ে চেয়ারম্যান সুমনের বিরুদ্ধে আদালতে সাজানো মামলা করানো হয়। শরিফুলের করা অভিযোগে বলা হয় চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন তার সঙ্গে শত্রুতা করে আসছিলেন। এরই জের ধরে গত সোমবার সন্ধ্যায় ভারশোঁ বাজারে যাওয়ার পথে চেয়ারম্যান তার ব্যক্তিগত প্রাইভেট কার দিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে প্রাণে মারার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে রোড দিয়ে পিটিয়ে তার হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পরে তিনি মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই ধরনের কোন মারামারির ঘটনা ঘটেনি, বা কারো জানা নেই। তারা বলেন, দুই বার দলীয় প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমনের মান ক্ষুন্ন করার জন্য একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরে
তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করে আসছেন, এটাও তাদের মিথ্যা অভিযোগ।
সচেতন মহলের প্রশ্ন চেয়ারম্যান তাকে কেনো গাড়ী চাঁপা দিবেন, তাকে যদি পিটাতে চাই, তাহলে চেয়ারম্যান তার লোক দিয়ে তাকে পিটাতে পারতেন, সে তো এমন কোনো ভিআইপি নয় যে গোপণে রাস্তায় তাকে গাড়ী চাঁপা দিতে হবে।
এছাড়াও অভিযোগে বলা হয়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তার ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে, তার অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তাহলে তো তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে রড দিয়ে পেটানোর দাগ থাকার কথা, সেই দাগ তো নাই। চেয়ারম্যান সুমন একজন স্বজ্জন মানুষ, এর আগে তার বিরুদ্ধে কেউ এমন কোনো ঘটনার প্রমাণ দিতে পারবেন না। আসলে প্রতিপক্ষের কাছে থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের কুপরামর্শে শরিফুল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছেন বলে মনে করছেন ইউপির সাধারণ মানুষ। জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে, এমন বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর অভিযোগ উঙ্খাপন করা মানে পুরো ইউপির জনগণের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সামিল। এমন জঘন্যতম মিথ্যাচার এই জনপদের মানুষ কখানো মেনে নিবেন না। এবিষয়ে জানতে চাইলে শরিফুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আলতাজের পক্ষে ভোট করায় আমার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন। এরই জের ধরে বিভিন্ন সময় মেরে ফেলার হুমকি দিতেন তিনি। এমত অবস্থায় গত সোমবার বাজারে যাওয়ার পথে তার প্রাইভেট কার দিয়ে আমাকে ধাক্কা দেন। পরে লোহার রড দিয়ে মারধর করে বাম হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে হুমকি প্রদানের বিষয়ে পূর্বে কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অভিযোগ করেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শরিফুল ইসলাম বলেন, কোন অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি এটাই আমার সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। তিনি আরো বলেন মোস্তাফিজুর রহমান সুমনকে চেয়ারম্যান পদ থেকে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত আমি থামবো না। এদিকে তার এমন বক্তব্য প্রমাণ করে এটা তার ষড়যন্ত্র। এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন বলেন, রাস্তায় বাঁক থাকা ও শরিফুলের অসতর্কতার
কারণে তার সঙ্গে প্রাইভেট কারের ধাক্কা লেগেছিল, যা ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত নিছক একটি দুর্ঘটনা। শরিফুলকে রড দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোহ সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন বানোয়াট উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। তিনি বলেন, সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ-প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। এবিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুর রহমান জানান, শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।