এখন ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আখাউড়া ধরখার রুটি শীল পাড়া গ্রামে ৫০ বছর পর দুর্গাপূজার আয়োজন

লায়ন রাকেশ কুমার ঘোষ, স্টাফ রিপোর্টার, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) -ঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রুটি গ্রামে দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর এবার দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার দুর্গা মা তাদের বাড়িতে আসছে। এজন্য আনন্দিত-উচ্ছ্বসিত ওই গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়। চলছে পুজার প্রস্তুতি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধরখার ইউনিয়নের রুটি গ্রামে ২০/২২টি হিন্দু পরিবার রয়েছে। উপজেলার অন্যান্য এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায় প্রতি বছর দুর্গাপূজা উদযাপন করলেও ওই গ্রামে দুর্গাপূজা করা হতো না। স্বাধীনতার ৪/৫ বছর বছর আগে সর্বশেষ ওই গ্রামে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। এরপর আর্থিক অসচ্ছলতা, লোকবল আর নানা জটিলতার কারণে উদ্যোগের অভাবে ওই গ্রামে আর দুর্গাপূজা হয়নি। অন্য এলাকায় গিয়ে পুজা করতো তারা। নারীদের অনেকে চলে যেত বাপের বাড়ি। তবুও পূজার পূর্ণ আনন্দ থেকে বঞ্চিত ছিল ওই গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়। এবছর যুবকদের আগ্রহে তারা দুর্গাপূজা উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রুটি শীলপাড়ার কাজল মাস্টারের বাড়িতে উঠান জুড়ে প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। একটি ভিটিতে পূজা মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। একজন নারী ধোয়ামুছার কাজ করছেন। অন্য নারীরাও বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাড়ির সামনের সড়কে সুদৃশ্য তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। সড়ক থেকে বাড়ি পর্যন্ত সরু পথের দুই পাশে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। বকুল রাণী শীল বলেন, ২৩ বছর আগে বউ হয়ে এ বাড়িতে এসেছি। কিন্ত স্বামীর বাড়িতে কোন দিন দুর্গাপূজার আয়োজন না হওয়ায় পুজার আনন্দ করতে পারিনি। আরেক নারী জোসনা রানী শীলের বিয়ে হয়েছে প্রায় ১৭ বছর হলো। তিনিও স্বামীর বাড়িতে কোন দিন পূজা হতে দেখেননি। এজন্য তাদের মন খারাপ হত কিন্তু কিছু করার ছিল না। এবার পুজার আয়োজন হওয়ায় তাদের খুব ভালো লাগবে।

জানতে চাইলে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আব্দুস সামাদ বলেন, দীর্ঘদিন পর রুটি গ্রামের শীল পাড়ায় পুজা হচ্ছে। এজন্য তাদের সাথে আমরাও আনন্দিত। তারা যাতে সুন্দরভাবে পুজা করতে পারে এজন্য আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। শীল পাড়ার বকুল রানী শীল বলেন, আগে অন্য জায়গায় গিয়ে পুজা দেখতাম। এবার আমাদের বাড়িতে দুর্গাপূজা হচ্ছে। এজন্য খুব ভালো লাগছে। উঠানো ছুটাছুটি করছিল ছোট্ট শিশু উদয় । সেও জানায় বাড়িতে পুজা আয়োজন হওয়ায় তার খুব ভালো লাগছে। পুজার জন্য নতুন কাপড় কিনেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, হিন্দু সম্প্রদায় যাতে নির্বিঘ্নে ও সুন্দরভাবে পূজা করতে পারে এজন্য আমরা সব সময় খোঁজ খবর রাখছি। তাদেরকে উৎসাহ দিচ্ছি। আমাদের এলাকায় হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। রুটি শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি, রুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজল চন্দ্র শীল বলেন, স্বাধীনতার আগে আমাদের গ্রামে দুর্গাপূজা হতো। ৬৫-৬৬ সালে সর্বশেষ দুর্গাপূজা করা হয়েছে। এখন লোকবলের অভাব, আর্থিক অসচ্ছলতা ও উদ্যােগের এবং নানা জটিলতার কারণে এতদিন পুজা উদযাপন করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, এবছর দুর্গাপূজা করার জন্য আমাদের যুবকদের আগ্রহে আমরা নিজেরা চাঁদা দিয়ে এবার দুর্গাপূজা উদযাপন করছি। এবং এ গ্রামের মুসলমানরাও আমাদেরকে উৎসাহ উদ্দীপনা দিচ্ছে। আমাদের খোঁজ খবর নিচ্ছে। সবার সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আমরা পুজা করব।

এ ব্যপারে ঐ এলাকার সকল জনগোষ্ঠীরা বলেন, যার যার ধর্ম সে পালন করবে এটা তো আনন্দের ব্যাপার। এত বছর যে কোন কারণেই হোক এতদিন তারা পূজা করেনি। এত বছর পর তারা যে এ গ্রামে পূজা করছে এজন্য আমাদের খুব ভালো লাগছে। উল্লেখ্য, এবছর আখাউড়ায় ২২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

আখাউড়া ধরখার রুটি শীল পাড়া গ্রামে ৫০ বছর পর দুর্গাপূজার আয়োজন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:২০:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

লায়ন রাকেশ কুমার ঘোষ, স্টাফ রিপোর্টার, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) -ঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রুটি গ্রামে দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর এবার দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার দুর্গা মা তাদের বাড়িতে আসছে। এজন্য আনন্দিত-উচ্ছ্বসিত ওই গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়। চলছে পুজার প্রস্তুতি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধরখার ইউনিয়নের রুটি গ্রামে ২০/২২টি হিন্দু পরিবার রয়েছে। উপজেলার অন্যান্য এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায় প্রতি বছর দুর্গাপূজা উদযাপন করলেও ওই গ্রামে দুর্গাপূজা করা হতো না। স্বাধীনতার ৪/৫ বছর বছর আগে সর্বশেষ ওই গ্রামে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। এরপর আর্থিক অসচ্ছলতা, লোকবল আর নানা জটিলতার কারণে উদ্যোগের অভাবে ওই গ্রামে আর দুর্গাপূজা হয়নি। অন্য এলাকায় গিয়ে পুজা করতো তারা। নারীদের অনেকে চলে যেত বাপের বাড়ি। তবুও পূজার পূর্ণ আনন্দ থেকে বঞ্চিত ছিল ওই গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়। এবছর যুবকদের আগ্রহে তারা দুর্গাপূজা উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রুটি শীলপাড়ার কাজল মাস্টারের বাড়িতে উঠান জুড়ে প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। একটি ভিটিতে পূজা মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। একজন নারী ধোয়ামুছার কাজ করছেন। অন্য নারীরাও বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাড়ির সামনের সড়কে সুদৃশ্য তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। সড়ক থেকে বাড়ি পর্যন্ত সরু পথের দুই পাশে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। বকুল রাণী শীল বলেন, ২৩ বছর আগে বউ হয়ে এ বাড়িতে এসেছি। কিন্ত স্বামীর বাড়িতে কোন দিন দুর্গাপূজার আয়োজন না হওয়ায় পুজার আনন্দ করতে পারিনি। আরেক নারী জোসনা রানী শীলের বিয়ে হয়েছে প্রায় ১৭ বছর হলো। তিনিও স্বামীর বাড়িতে কোন দিন পূজা হতে দেখেননি। এজন্য তাদের মন খারাপ হত কিন্তু কিছু করার ছিল না। এবার পুজার আয়োজন হওয়ায় তাদের খুব ভালো লাগবে।

জানতে চাইলে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আব্দুস সামাদ বলেন, দীর্ঘদিন পর রুটি গ্রামের শীল পাড়ায় পুজা হচ্ছে। এজন্য তাদের সাথে আমরাও আনন্দিত। তারা যাতে সুন্দরভাবে পুজা করতে পারে এজন্য আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। শীল পাড়ার বকুল রানী শীল বলেন, আগে অন্য জায়গায় গিয়ে পুজা দেখতাম। এবার আমাদের বাড়িতে দুর্গাপূজা হচ্ছে। এজন্য খুব ভালো লাগছে। উঠানো ছুটাছুটি করছিল ছোট্ট শিশু উদয় । সেও জানায় বাড়িতে পুজা আয়োজন হওয়ায় তার খুব ভালো লাগছে। পুজার জন্য নতুন কাপড় কিনেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, হিন্দু সম্প্রদায় যাতে নির্বিঘ্নে ও সুন্দরভাবে পূজা করতে পারে এজন্য আমরা সব সময় খোঁজ খবর রাখছি। তাদেরকে উৎসাহ দিচ্ছি। আমাদের এলাকায় হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। রুটি শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি, রুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজল চন্দ্র শীল বলেন, স্বাধীনতার আগে আমাদের গ্রামে দুর্গাপূজা হতো। ৬৫-৬৬ সালে সর্বশেষ দুর্গাপূজা করা হয়েছে। এখন লোকবলের অভাব, আর্থিক অসচ্ছলতা ও উদ্যােগের এবং নানা জটিলতার কারণে এতদিন পুজা উদযাপন করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, এবছর দুর্গাপূজা করার জন্য আমাদের যুবকদের আগ্রহে আমরা নিজেরা চাঁদা দিয়ে এবার দুর্গাপূজা উদযাপন করছি। এবং এ গ্রামের মুসলমানরাও আমাদেরকে উৎসাহ উদ্দীপনা দিচ্ছে। আমাদের খোঁজ খবর নিচ্ছে। সবার সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আমরা পুজা করব।

এ ব্যপারে ঐ এলাকার সকল জনগোষ্ঠীরা বলেন, যার যার ধর্ম সে পালন করবে এটা তো আনন্দের ব্যাপার। এত বছর যে কোন কারণেই হোক এতদিন তারা পূজা করেনি। এত বছর পর তারা যে এ গ্রামে পূজা করছে এজন্য আমাদের খুব ভালো লাগছে। উল্লেখ্য, এবছর আখাউড়ায় ২২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।