এখন ০৪:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে দালালদের দৌড়াত্ব্যের শেষ কোথায়?

বিশেষ সংবাদদাতা -ঃ প্রাচ্যের ড্যান্ডিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র খাঁনপুরে অবস্থিত “নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল”। এই হাসপাতালে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে দালালদের দৌড়াত্ব্য। টিকিট সংগ্রহ থেকে শুরু করে চিকিৎসা শেষে ঔষধ ক্রয় পর্যন্ত কোথায় নেই দালালদের অংশগ্রহণ এমন একটি জায়গায় খুঁজে পাওয়া যায় না। এমনকি জরুরী প্রয়োজনে রোগীদের অন্য কোথাও স্থানান্তরের জন্য এম্বুলেন্স এর প্রয়োজন হলে সেখানেও দালালদের সুদৃঢ় অবস্থান দেখা যায়। হাসপাতালে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে এক দালাল টিকিট কাটতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক রোগীকে বলছে আপনি ৩০ টাকা দেন আমি আপনাকে একটি টিকিট কিনে দেই অথচ যেখানে টিকিটের দাম ১০ টাকা। দালালের হাতে যেন জাদুর পরশ, সে দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যেই একটি টিকেট এনে দিল, অন্যদিকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে শত শত লোক।

এরপর বর্হিঃবিভাগের চিকিৎসা ক্ষেত্রে দেখা গেল লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য রোগীদের যেন সময় ফুরাচ্ছে না। একদিকে ডাক্তার সংকটতো রয়েছেই, অন্যদিকে ডাক্তারের কক্ষে থাকা সহযোগীকে কোনভাবে ম্যানেজ করতে পারলেই সহজে ডাক্তার দেখানো যায়, তা নাহলে গুনতে হয় অপেক্ষার প্রহর।

এরপর ডাক্তারের দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হয় ডাক্তারের পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। চেম্বার থেকেই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্ড হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়। ডাক্তারের চেম্বার হতে রোগী বাহির হওয়ার সাথে সাথে দালালরা অতন্ত্র প্রহরীর ন্যায় প্রস্তুত থাকে রোগীদের নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার জন্য। রোগীদের বিশেষ ভাবে বোঝাতে থাকে, হাতে থাকা কার্ডের নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ছাড়া অন্য কোথাও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করালে ডাক্তার সে রিপোর্ট দেখবেননা। অথচ হাসপাতালের ভিতরেই রয়েছে অত্যাধুনিক ল্যাব। এই হাসপাতালে অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিন থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকের অভাবে এক্স-রে করার পর রিপোর্ট দেয়া সম্ভব হয় না বলে রোগীদেরকে প্রায় বাহিরে গিয়ে এক্স-রে করতে হয়। হাসপাতালে রয়েছে আল্টাসনোগ্রাম করার ব্যবস্থা কিন্তু ডাক্তার না থাকা অস্থায়ীভাবে একজন ডাক্তারকে দিয়ে চালানো হচ্ছে আল্টাসনোগ্রাম প্রক্রিয়া, সেখানেও প্রয়োজনমত আল্টাসনোগ্রাম করানো সম্ভব হচ্ছেনা।

এবার দৃষ্টি গেল ইমারজেন্সি বিভাগের দিকে, সেখানে চোখ রাখতেই দেখা যায় ইমার্জেন্সি চিকিৎসা নিতে আসার রোগীদেরকে হতে হয় নানান হয়রানির শিকার। হাসপাতালের ভিতরে যেন কোন ঔষধই থাকেনা, ইমারজেন্সি চিকিৎসা নিতে আসার রোগীদের সাথে থাকা স্বজনদের ধরিয়ে দেওয়া হয় এক বিশাল স্লিপ যেখানে থাকে ঔষধ সহ প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় নানান প্রকার সরঞ্জাম। ঔষধ সহ আনা সকল সরঞ্জামের মধ্যে আংশিক ব্যবহার করে বাকি অংশটুকু যেন উদাও হয়ে যায়। কেউ প্রশ্ন করলে তাকে হেনাস্থা হতে হয় কর্তব্যরত সহকারীদের হাতে, সাথে যুক্ত হয় দালালরাও। হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতে অপরিচ্ছন্নতার বিষয়টি বিশেষ ভাবে নজরে আসে।

বিষয়গুলো নিয়ে হাসপাতালে সুপারিনটেনডেন্ট জনাব মোঃ আবুল বাশার সাহবের সাথে একান্ত আলাপকালে জানা যায় তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন সমস্যাগুলোর সমাধান করার জন্য প্রযাপ্ত লোকবলের অভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। দালান মুক্ত করার জন্য তিনি নানামুখী পদক্ষেপের কথাও বলেছেন। অপরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কথা বলতেই পাশে থাকা ইনডোরের দ্বায়িত্বরত জনাব ডাঃ মিনহাজ সাহেব বলেন আমাদের হাসপাতালে প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকও পরিচ্ছন্ন কর্মী নেই, সেই সাথে রয়েছে রোগী এবং রোগীদের সাথে আসা লোকদের অসচেতনতা। তিনি অকপটে আরো বলেন আপনারা (সাংবাদিকরা) সমস্যাগুলি তুলে ধরলে সমাধানে সহজ হবে। এছাড়াও আমাদের সুপারিনটেনডেন্ট স্যার লোকবলের সংকট নিয়েও বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন হাসপাতালের একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে। পাশাপাশি আপনারাও সহযোগিতা করবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে দালালদের দৌড়াত্ব্যের শেষ কোথায়?

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:২৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

বিশেষ সংবাদদাতা -ঃ প্রাচ্যের ড্যান্ডিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র খাঁনপুরে অবস্থিত “নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল”। এই হাসপাতালে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে দালালদের দৌড়াত্ব্য। টিকিট সংগ্রহ থেকে শুরু করে চিকিৎসা শেষে ঔষধ ক্রয় পর্যন্ত কোথায় নেই দালালদের অংশগ্রহণ এমন একটি জায়গায় খুঁজে পাওয়া যায় না। এমনকি জরুরী প্রয়োজনে রোগীদের অন্য কোথাও স্থানান্তরের জন্য এম্বুলেন্স এর প্রয়োজন হলে সেখানেও দালালদের সুদৃঢ় অবস্থান দেখা যায়। হাসপাতালে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে এক দালাল টিকিট কাটতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক রোগীকে বলছে আপনি ৩০ টাকা দেন আমি আপনাকে একটি টিকিট কিনে দেই অথচ যেখানে টিকিটের দাম ১০ টাকা। দালালের হাতে যেন জাদুর পরশ, সে দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যেই একটি টিকেট এনে দিল, অন্যদিকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে শত শত লোক।

এরপর বর্হিঃবিভাগের চিকিৎসা ক্ষেত্রে দেখা গেল লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য রোগীদের যেন সময় ফুরাচ্ছে না। একদিকে ডাক্তার সংকটতো রয়েছেই, অন্যদিকে ডাক্তারের কক্ষে থাকা সহযোগীকে কোনভাবে ম্যানেজ করতে পারলেই সহজে ডাক্তার দেখানো যায়, তা নাহলে গুনতে হয় অপেক্ষার প্রহর।

এরপর ডাক্তারের দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হয় ডাক্তারের পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। চেম্বার থেকেই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্ড হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়। ডাক্তারের চেম্বার হতে রোগী বাহির হওয়ার সাথে সাথে দালালরা অতন্ত্র প্রহরীর ন্যায় প্রস্তুত থাকে রোগীদের নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার জন্য। রোগীদের বিশেষ ভাবে বোঝাতে থাকে, হাতে থাকা কার্ডের নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ছাড়া অন্য কোথাও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করালে ডাক্তার সে রিপোর্ট দেখবেননা। অথচ হাসপাতালের ভিতরেই রয়েছে অত্যাধুনিক ল্যাব। এই হাসপাতালে অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিন থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকের অভাবে এক্স-রে করার পর রিপোর্ট দেয়া সম্ভব হয় না বলে রোগীদেরকে প্রায় বাহিরে গিয়ে এক্স-রে করতে হয়। হাসপাতালে রয়েছে আল্টাসনোগ্রাম করার ব্যবস্থা কিন্তু ডাক্তার না থাকা অস্থায়ীভাবে একজন ডাক্তারকে দিয়ে চালানো হচ্ছে আল্টাসনোগ্রাম প্রক্রিয়া, সেখানেও প্রয়োজনমত আল্টাসনোগ্রাম করানো সম্ভব হচ্ছেনা।

এবার দৃষ্টি গেল ইমারজেন্সি বিভাগের দিকে, সেখানে চোখ রাখতেই দেখা যায় ইমার্জেন্সি চিকিৎসা নিতে আসার রোগীদেরকে হতে হয় নানান হয়রানির শিকার। হাসপাতালের ভিতরে যেন কোন ঔষধই থাকেনা, ইমারজেন্সি চিকিৎসা নিতে আসার রোগীদের সাথে থাকা স্বজনদের ধরিয়ে দেওয়া হয় এক বিশাল স্লিপ যেখানে থাকে ঔষধ সহ প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় নানান প্রকার সরঞ্জাম। ঔষধ সহ আনা সকল সরঞ্জামের মধ্যে আংশিক ব্যবহার করে বাকি অংশটুকু যেন উদাও হয়ে যায়। কেউ প্রশ্ন করলে তাকে হেনাস্থা হতে হয় কর্তব্যরত সহকারীদের হাতে, সাথে যুক্ত হয় দালালরাও। হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতে অপরিচ্ছন্নতার বিষয়টি বিশেষ ভাবে নজরে আসে।

বিষয়গুলো নিয়ে হাসপাতালে সুপারিনটেনডেন্ট জনাব মোঃ আবুল বাশার সাহবের সাথে একান্ত আলাপকালে জানা যায় তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন সমস্যাগুলোর সমাধান করার জন্য প্রযাপ্ত লোকবলের অভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। দালান মুক্ত করার জন্য তিনি নানামুখী পদক্ষেপের কথাও বলেছেন। অপরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কথা বলতেই পাশে থাকা ইনডোরের দ্বায়িত্বরত জনাব ডাঃ মিনহাজ সাহেব বলেন আমাদের হাসপাতালে প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকও পরিচ্ছন্ন কর্মী নেই, সেই সাথে রয়েছে রোগী এবং রোগীদের সাথে আসা লোকদের অসচেতনতা। তিনি অকপটে আরো বলেন আপনারা (সাংবাদিকরা) সমস্যাগুলি তুলে ধরলে সমাধানে সহজ হবে। এছাড়াও আমাদের সুপারিনটেনডেন্ট স্যার লোকবলের সংকট নিয়েও বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন হাসপাতালের একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে। পাশাপাশি আপনারাও সহযোগিতা করবেন।