মিরু হাসান বাপ্পী, বগুড়া সংবাদদাতা -ঃ বগুড়ায় রেলওয়ে কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট মার্কেটে অবৈধভাবে নির্মিত শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১ থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চলা এক অভিযানে এসব দোকান উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা পূর্ণেন্দু দেব।
অভিযান চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকরা রায়হান আলী নামে রেলওয়ের এক কর্মচারীকে মারপিট করেন। পরে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন।
এসময় দোকানিরা অভিযোগ করে বলেন, বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনে প্রধান বুকিং সহকারি হিসেবে কর্মরত রায়হান আলীর ইন্ধনে ওই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। তার পিতা হায়দার আলী সরকার মার্কেটের জন্য লীজ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান রেলওয়ে কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক পরিচালক এবং বগুড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি।
রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা পূর্ণেন্দু দেব জানান, রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণ পূর্ব দিকে অব্যবহৃত ১ লাখ ৯৫ হাজার বর্গফুট জায়গায় মার্কেট নির্মাণের জন্য ওই সংস্থার কর্মচারী কল্যাণ স্ট্রাটকে লীজ দেওয়া হয়। সেখানে বগুড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের উদ্যোগে সহস্রাধিক দোকান নির্মাণের জন্য আব্দুল মান্নান আকন্দ নামে এক ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর ২০১৭ সালে ওই মার্কেটের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তারপর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতি ও ঠিকাদারের পক্ষ থেকে যৌথভাবে দোকান বরাদ্দ দেওয়া শুরু হয়। প্রতিটি দোকানের জন্য ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, ওই মার্কেটের জন্য প্রণীত নকশায় গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য মার্কেটের সামনে ১২ হাজার ৬০০ বর্গফুট জায়গা ফাঁকা রাখা হয়েছিল। কিন্তু মার্কেটের নির্মাণ ঠিকাদার আব্দুল মান্নান আকন্দ সেই জায়গায় অবৈধভাবে শতাধিক দোকান নির্মাণ করেন। দোকানগুলো তাকে অপসারণের জন্য বলা হলেও তিনি তা শোনেননি। সে কারণে বুধবার সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়।
ঠিকাদার আব্দুল মান্নান আকন্দ বলেন, ২০১৭ সালে যখন জায়গাটি লীজ দেওয়া হয়েছিল তখন রেলওয়ের পক্ষ থেকে কোন নকশা তৈরি করা হয়েছিল না। দোকানগুলো নির্মাণের পর নকশা করা হয়। তার দাবি উচ্ছেদ করা শতাধিক দোকানের মধ্যে মাত্র ২০জনের কাছ থেকে বরাদ্দ বাবদ ৬ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, রেলওয়ে কর্মকর্তারা নকশা সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছেন। নকশা সংশোধন হলে আগের জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের দোকান নির্মাণ করে দেওয়া হবে।
বগুড়া রেলওয়ের কানুনগো গোলাম নবী জানান, নকশায় গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য যে ১২ হাজার ৬০০ বর্গফুট জায়গা রাখা হয়েছিল সেটি উদ্ধার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নকশা সংশোধন করা হবে কি’না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন













