এখন ০৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চকরিয়া উপকূলের বদরখালী মহেশখালী  চ্যানেলের নদীর চর দখলে সৃজিত প্যারাবন কেটে চিংড়িঘের নিমার্ণের হিড়িক

এ,কে,এম বেলাল উদ্দিন, চকরিয়া -ঃ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী মহেশখালী  নৌ চ্যানেলে সৃজিত প্যারাবন কেটে অবৈধ ভাবে নদীর চর দখল করে চিংড়ি ঘের নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। বেশ কিছু দিন ধরে পরিবেশ বিধ্বংসী এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন চকরিয়া উপজেলার বদরখালীর একটি ভূমিদস্যু চক্র। 

এতে ক্ষমতাশীন দলের নাম ব্যবহার করে স্থানীয় যুবলীগের এক নেতার ইন্ধনে চলছে প্যারাবনের বাইন গাছ কেটে এ চিংড়ি ঘের নির্মাণের কাজ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয়-বদরখালী মহেশখালী   চ্যানেলের বদরখালী বাজারের ওয়াদা রোড়ের পানি উন্নয়ন বোর্ড সংল্গন সুইচ গেইটের পশ্চিম পাশে শত শত প্যারাবনের বাইন গাছ কেটে স্ক্রেভেটার দিয়ে মাটি কেটে করস্রোতা প্রবাহমান নদী দখল করে দিন-রাত সমান তালে ওই প্রভাবশালীরা চিংড়ি ঘের নিমার্ণের কাজ চালিয়ে গেলে রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বনবিভাগ রয়েছে নির্বিকার।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে  বলেন, সংশ্লিষ্ট  প্রশাসনের লোকজনকে ম্যানেজ করে বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির থেকে ইজারা নিয়েছেন বলে নাম ব্যবহার করে (কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে ) স্কেভেটার ও শ্রমিক দিয়ে প্রকাশ্যে দিন দুপুরে নদীর চর দখল করে চিংড়ি ঘের নির্মাণ করে যাচ্ছে জোটবদ্ধ হয়ে চক্রটি।

দখলের বিষয় নিয়ে জনগনের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে বদরখালীর এই ভূমিদস্যুরা কি প্রশাসনের চেয়েও ক্ষমতাশালী? নাকি ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে মাসোহারা নিয়ে প্রশাসন চুপ রয়েছে । অবিলম্বে নদী দখলকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের রাতে ২০ থেকে ২৫ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হয়। ফলে ভেঙ্গে যায় বেঁড়িবাধ। এরপর উপকূলীয় এলাকায় বনায়নে এগিয়ে আসে জাপানের একটি এনজিও সংস্থা ওয়াইস্কা ইন্টারন্যাশনাল। এই এনজিও সংস্থাটি প্রতি বছর জাপান থেকে শিক্ষার্থী নিয়ে এসে সবুজ বেষ্টনীর আওতায় ব্যাপক বাইন ও কেওড়া গাছের চারা রোপণ করে। এসব চারা এখন বড় গাছে পরিণত হয়েছে। সে সব চারা গাছ কেটে চিংড়ি ঘের নিমার্ণ নিমার্ণ অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, প্রকাশ্যে এসব প্যারাবন নিধন করা হলেও বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে দুর্বৃত্তরা প্রতিনিয়ত প্যারাবন নিধনে মেতে উঠেছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোল (বাপা) মহেশখালী শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, উপকুলের রক্ষা কবচ প্যারাবনের বাইন গাছ কেটে প্রবাহমান নদীর দখল করে চিংড়ি ঘের নিমার্ণ জগন্যতম অপরাধ। বলতে গেলে দখলের থাবায় মহেশখালী-বদরখালী চ্যানেলের এক সময়ের প্রাণচঞ্চল এই নদীটি এখন সরু খালে পরিণত হয়ে বোবা কান্না করছে। নদীটি উদ্ধার করে প্রাণচঞ্চল ফিরে আনা সময়ের দাবী। 

 চকরিয়া উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও)  জেপি দেওয়ান বলেন, নদী দখলকারীদের প্রশাসন কোন সময় ছাড় দেয়না। আর যদি নদী দখল করে চিংড়ি ঘের নিমার্ণ করে থাকলে শিঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

 জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, এটি  বনবিভাগের জায়গা না তবে খাস জায়গা। তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

চকরিয়া উপকূলের বদরখালী মহেশখালী  চ্যানেলের নদীর চর দখলে সৃজিত প্যারাবন কেটে চিংড়িঘের নিমার্ণের হিড়িক

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:২৮:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২

এ,কে,এম বেলাল উদ্দিন, চকরিয়া -ঃ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী মহেশখালী  নৌ চ্যানেলে সৃজিত প্যারাবন কেটে অবৈধ ভাবে নদীর চর দখল করে চিংড়ি ঘের নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। বেশ কিছু দিন ধরে পরিবেশ বিধ্বংসী এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন চকরিয়া উপজেলার বদরখালীর একটি ভূমিদস্যু চক্র। 

এতে ক্ষমতাশীন দলের নাম ব্যবহার করে স্থানীয় যুবলীগের এক নেতার ইন্ধনে চলছে প্যারাবনের বাইন গাছ কেটে এ চিংড়ি ঘের নির্মাণের কাজ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয়-বদরখালী মহেশখালী   চ্যানেলের বদরখালী বাজারের ওয়াদা রোড়ের পানি উন্নয়ন বোর্ড সংল্গন সুইচ গেইটের পশ্চিম পাশে শত শত প্যারাবনের বাইন গাছ কেটে স্ক্রেভেটার দিয়ে মাটি কেটে করস্রোতা প্রবাহমান নদী দখল করে দিন-রাত সমান তালে ওই প্রভাবশালীরা চিংড়ি ঘের নিমার্ণের কাজ চালিয়ে গেলে রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বনবিভাগ রয়েছে নির্বিকার।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে  বলেন, সংশ্লিষ্ট  প্রশাসনের লোকজনকে ম্যানেজ করে বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির থেকে ইজারা নিয়েছেন বলে নাম ব্যবহার করে (কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে ) স্কেভেটার ও শ্রমিক দিয়ে প্রকাশ্যে দিন দুপুরে নদীর চর দখল করে চিংড়ি ঘের নির্মাণ করে যাচ্ছে জোটবদ্ধ হয়ে চক্রটি।

দখলের বিষয় নিয়ে জনগনের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে বদরখালীর এই ভূমিদস্যুরা কি প্রশাসনের চেয়েও ক্ষমতাশালী? নাকি ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে মাসোহারা নিয়ে প্রশাসন চুপ রয়েছে । অবিলম্বে নদী দখলকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের রাতে ২০ থেকে ২৫ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হয়। ফলে ভেঙ্গে যায় বেঁড়িবাধ। এরপর উপকূলীয় এলাকায় বনায়নে এগিয়ে আসে জাপানের একটি এনজিও সংস্থা ওয়াইস্কা ইন্টারন্যাশনাল। এই এনজিও সংস্থাটি প্রতি বছর জাপান থেকে শিক্ষার্থী নিয়ে এসে সবুজ বেষ্টনীর আওতায় ব্যাপক বাইন ও কেওড়া গাছের চারা রোপণ করে। এসব চারা এখন বড় গাছে পরিণত হয়েছে। সে সব চারা গাছ কেটে চিংড়ি ঘের নিমার্ণ নিমার্ণ অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, প্রকাশ্যে এসব প্যারাবন নিধন করা হলেও বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে দুর্বৃত্তরা প্রতিনিয়ত প্যারাবন নিধনে মেতে উঠেছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোল (বাপা) মহেশখালী শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, উপকুলের রক্ষা কবচ প্যারাবনের বাইন গাছ কেটে প্রবাহমান নদীর দখল করে চিংড়ি ঘের নিমার্ণ জগন্যতম অপরাধ। বলতে গেলে দখলের থাবায় মহেশখালী-বদরখালী চ্যানেলের এক সময়ের প্রাণচঞ্চল এই নদীটি এখন সরু খালে পরিণত হয়ে বোবা কান্না করছে। নদীটি উদ্ধার করে প্রাণচঞ্চল ফিরে আনা সময়ের দাবী। 

 চকরিয়া উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও)  জেপি দেওয়ান বলেন, নদী দখলকারীদের প্রশাসন কোন সময় ছাড় দেয়না। আর যদি নদী দখল করে চিংড়ি ঘের নিমার্ণ করে থাকলে শিঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

 জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, এটি  বনবিভাগের জায়গা না তবে খাস জায়গা। তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড ব্যবস্থা নিতে পারবেন।