এখন ০৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তানোরে সেচ পাম্পে আগুন নিয়ে মিশ্রুপ্রতিক্রিয়া

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোরে পূর্ব বিরোধের জের ধরে সেচ পাম্পের যন্ত্রাংশ ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও বোরিং নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার এই ঘটনায় সেচ পাম্প মালিক কালনা গ্রামের শামসুদ্দীনের পুত্র মামুনুর রশিদ বাদি হয়ে একই গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের পুত্র বেলাল উদ্দিন, তার ভাই হেলাল উদ্দিন ও একই গ্রামের আবদুল আজিজের পুত্র আবদুল লতিফকে আসামি করে তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। উপজেলার তালন্দ ইউপির কালনা গ্রামের ফসলী মাঠে এই ঘটনা ঘটেছে।এদিকে এঘটনায় পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে, বাদি ঘটনা সত্যি দাবি করেছেন। তবে বিবাদীরা বলছে, পুর্ববিরোধের জের ধরে তাদের ফাঁসিয়ে বসে আনতে প্রতিপক্ষ সেচ পাম্প ঘরে আগুন দেয়ার নাটক করেছে। অন্যদিকে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্রুপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, বইছে মুখরুচোক নানা গুঞ্জন।

এদিকে সচেতন মহলের ভাষ্য, এটা সম্পুর্ণ সাজানো ঘটনা। কারণ যদি কেউ শক্রতা করে কারো সেচ পাম্পের বোরিং নষ্ট করে তবে আগুন দেয়া বা ভাঙচুর করার কথা নয়, বোরিং নষ্ট মানেই সেচ পাম্প অচল, তাহলে ভাঙচুর বা আগুন দেয়ার প্রয়োজন কি। আবার রাঁতের আঁধারে ফসলি মাঠে অবস্থিত সেচ পাম্পের ঘরে আগুন দিলে সেটা পুড়ে ছাই হবার কথা, সেই ক্ষেত্রেও পাম্প ভাঙচুর করার কথা নয়। এছাড়াও খোয়া বালি দিয়ে বোরিং নস্টের দাবি করেছে মামুন, তবে বোরিং এখানো উঠানো হয়নি, তাহলে মামুন কিভাবে বুঝলেন খোয়া বালিই দিয়ে বোরিং নস্ট করা হয়েছে, আবার ফসলি মাঠের মাঠে সেচ পাম্পের ঘরে আগুন দিলে যদি কেউ সেটা নেভাতেও যায়,তাহলে যেতে ঘরের সিংহভাগ পুড়ে যাবার কথা, সেটা হয়নি এতে কি বোঝায় ? তাই এটা সাজানো নাটক বই কিছু নয়। এসব বিষয় মাথায় নিয়ে তদন্ত করা হলেই আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে তারা মনে করছেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে মামুনুর রশিদ বলেন, তিনি প্রায় ২০ বছর আগে প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ করে কালনা ফসলি মাঠে সেচ পাম্প স্থাপন করেন। তিনি বলেন, এই বছর মাঠ থেকে আলু তোলার রাস্তাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে বেলালের বিরোধ হয়। মামুন আরো বলেন, এর আগেও তারা দুইবার তার সেচ পাম্পের ঘরের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট করেছিল। যার প্রেক্ষিতে তিনি তাদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলাও করেন, সেই মামলায় বেলাল ও হেলালসহ তার সঙ্গীরা আদালতে মুচলেকাও দিয়ে আসেন। মামুন বলেন, এরই জের ধরে তারা গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই সেচ পাম্পের ঘরে অগ্নিসংযোগসহ পাম্পের যন্ত্রাংশ নষ্টের পাশাপাশি বোরিং এর ভেতরে খোয়া ও বালিই দিয়ে বোরিং নষ্ট করেছে। এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বেলাল উদ্দিন বিরোধের কথা স্বীকার করলেও পাম্পের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন, তাদের ফাঁসিয়ে বসে আনতে মামুন এমন নাটক করেছে। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ ও সটিক তদন্ত করা হলে সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে তারা শতভাগ বিশ্বাসী। এব্যাপারে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জাান মিয়া বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

তানোরে সেচ পাম্পে আগুন নিয়ে মিশ্রুপ্রতিক্রিয়া

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০৩:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোরে পূর্ব বিরোধের জের ধরে সেচ পাম্পের যন্ত্রাংশ ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও বোরিং নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার এই ঘটনায় সেচ পাম্প মালিক কালনা গ্রামের শামসুদ্দীনের পুত্র মামুনুর রশিদ বাদি হয়ে একই গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের পুত্র বেলাল উদ্দিন, তার ভাই হেলাল উদ্দিন ও একই গ্রামের আবদুল আজিজের পুত্র আবদুল লতিফকে আসামি করে তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। উপজেলার তালন্দ ইউপির কালনা গ্রামের ফসলী মাঠে এই ঘটনা ঘটেছে।এদিকে এঘটনায় পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে, বাদি ঘটনা সত্যি দাবি করেছেন। তবে বিবাদীরা বলছে, পুর্ববিরোধের জের ধরে তাদের ফাঁসিয়ে বসে আনতে প্রতিপক্ষ সেচ পাম্প ঘরে আগুন দেয়ার নাটক করেছে। অন্যদিকে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্রুপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, বইছে মুখরুচোক নানা গুঞ্জন।

এদিকে সচেতন মহলের ভাষ্য, এটা সম্পুর্ণ সাজানো ঘটনা। কারণ যদি কেউ শক্রতা করে কারো সেচ পাম্পের বোরিং নষ্ট করে তবে আগুন দেয়া বা ভাঙচুর করার কথা নয়, বোরিং নষ্ট মানেই সেচ পাম্প অচল, তাহলে ভাঙচুর বা আগুন দেয়ার প্রয়োজন কি। আবার রাঁতের আঁধারে ফসলি মাঠে অবস্থিত সেচ পাম্পের ঘরে আগুন দিলে সেটা পুড়ে ছাই হবার কথা, সেই ক্ষেত্রেও পাম্প ভাঙচুর করার কথা নয়। এছাড়াও খোয়া বালি দিয়ে বোরিং নস্টের দাবি করেছে মামুন, তবে বোরিং এখানো উঠানো হয়নি, তাহলে মামুন কিভাবে বুঝলেন খোয়া বালিই দিয়ে বোরিং নস্ট করা হয়েছে, আবার ফসলি মাঠের মাঠে সেচ পাম্পের ঘরে আগুন দিলে যদি কেউ সেটা নেভাতেও যায়,তাহলে যেতে ঘরের সিংহভাগ পুড়ে যাবার কথা, সেটা হয়নি এতে কি বোঝায় ? তাই এটা সাজানো নাটক বই কিছু নয়। এসব বিষয় মাথায় নিয়ে তদন্ত করা হলেই আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে তারা মনে করছেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে মামুনুর রশিদ বলেন, তিনি প্রায় ২০ বছর আগে প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ করে কালনা ফসলি মাঠে সেচ পাম্প স্থাপন করেন। তিনি বলেন, এই বছর মাঠ থেকে আলু তোলার রাস্তাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে বেলালের বিরোধ হয়। মামুন আরো বলেন, এর আগেও তারা দুইবার তার সেচ পাম্পের ঘরের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট করেছিল। যার প্রেক্ষিতে তিনি তাদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলাও করেন, সেই মামলায় বেলাল ও হেলালসহ তার সঙ্গীরা আদালতে মুচলেকাও দিয়ে আসেন। মামুন বলেন, এরই জের ধরে তারা গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই সেচ পাম্পের ঘরে অগ্নিসংযোগসহ পাম্পের যন্ত্রাংশ নষ্টের পাশাপাশি বোরিং এর ভেতরে খোয়া ও বালিই দিয়ে বোরিং নষ্ট করেছে। এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বেলাল উদ্দিন বিরোধের কথা স্বীকার করলেও পাম্পের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন, তাদের ফাঁসিয়ে বসে আনতে মামুন এমন নাটক করেছে। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ ও সটিক তদন্ত করা হলে সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে তারা শতভাগ বিশ্বাসী। এব্যাপারে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জাান মিয়া বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।