রাজশাহী প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে অনলাইনে এমপিও’র আবেদন করতে কলেজ, স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারিদের হয়রানি বেড়েছে এবং পদে পদে আর্থিক সুবিধা দিতে হচ্ছে বলে শিক্ষকদের মাঝে আলোচনা রয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষক-কর্মচারিদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। কিন্ত্ত চাকরি হরানোর ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, দেশের শিক্ষকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে অনলাইনে এমপিও কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কিন্ত্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসের একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারির অনিয়ম-দূর্নীতি ও নানা ঝক্কি-ঝামেলায় এটি ভোগান্তির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে বলে শিক্ষকরা মনে করছে। ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা তিন পর্যায়ে-কর্মকর্তা-কর্মচারিদের খুশি করা, তা না হলে ফাইল আটকে রাখা, সময়ক্ষেপণসহ নানা ধরণের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ফলে শিক্ষকরা বাধ্য হয়েই পদে পদে আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে। অনলাইনে এমপিও (মান্থলি পে-অর্ডার বা বেতনের মাসিক অংশ) আবেদন করতে কতিপয় কর্মকর্তাকে আবেদন প্রতি পাঁচ হাজার টাকাসহ কর্মচারীকেও আর্থিক সুবিধা দিতে হয়। এছাড়াও শিক্ষকদের টাইম ও উচ্চতর বেতন স্কেল প্রদানে বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা দিতে হচ্ছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। উপজেলার চাঁদপুর দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয় ও দরগাডাঙ্গা স্কুল এ্যান্ড করেজের
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকরা জানান, অনলাইনে আবেদনের পাশপাশি তিন সেট কাগজপত্রও জমা দিতে হয় উপজেলা শিক্ষা অফিসে। তারা বলেন, সেখানে এতো জটিলতা যে আর্থিক সুবিধা না দিলে নানা ক্রুটি-বিচ্যুতি ধরা হয় স্বাভাবিক নিয়মে কাজ হয় না তাই তারা বাধ্য হয়েই কর্মকর্তা-কর্মচারিদের খুশি করার চেস্টা করেন। এছাড়াও আবেদনের তিন সেটের একটি জেলায় আরেকটি আঞ্চলিক দফতরে যায়। তাদের এই দুই দফতরেও ধরনা দিতে হচ্ছে, অথচ আগে মাউশিতে ধরনা দিলেই হতো। উপজেলার শ্রীখন্ডা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্চূক এক শিক্ষক বলেন, শিক্ষক হয়েও শিক্ষা অফিসে কাজ করতে পদে পদে জন্য ঘুষ দিতে হয়, এর থেকে বড় লজ্জা আর কি হতে পারে। তিনি বলেন, তিনি নিজেও কতিপয় কর্মকর্তাকে পাঁচ হাজার ও কর্মচারীকে এক হাজার টাকা দিয়ে আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে তানোর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষকরা অবৈধ সুবিধা না পেলেই নানা অভিযোগ উঙ্খাপন করতে পারেন। তার বিরুদ্ধে উঙ্খাপিত অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারবেন না বলে তিনি চ্যালেঞ্জ করেন। এবিষয়ে রাজশাহী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।













