আনহার বিন সাঈদ, বিশ্বনাথ -ঃ সিলেট ৩নং সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য জননেতা হাবিবুর রহমান বলেছেন, বিশ্বনাথের অলংকারি ও খাজাঞ্চি ইউনিয়ন আমার সংসদীয় আসনের বাহিরে,কিন্তু আমাকে নির্বাচিত করতে এই দুই ইউনিয়বাসীর অধিবাসীদের ঋণ শোধ করার মত নয়।
কথা গুলো এমপি হাবিবুর রহমান দক্ষিণ সুরমা রাজী বাড়ী লালার গাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত একটি ভবন ১৩ জুলাই শনিবার দুপুরে উদ্বোধনী এক অনুষ্ঠানে উপরোক্ত কথা গুলো তিনি ব্যক্ত করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি মাস্টার আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে এবং তেতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসিতের সঞ্চালনায়, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সিতার মিয়া তার বক্তব্যে লালাবাজার বাসিয়া ব্রীজ নতুন করে স্হাপনের দাবী উত্তাপন করলে,
তখন ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমপি হাবিবুর রহমান তাঁর বক্তব্যে এসব কথা তিনি বলেন।
এতে তিনি আরোও বলেন, বহুল প্রত্যাশিত লালাবাজার বাসীয়া ব্রীজের ভিত্তিপ্রস্তর স্হাপন হবে আগামী ডিসেম্বরে।
এদিকে ১২ জুলাই শুক্রবার বিকেল দুইটায় এমপি হাবিবুর রহমান স্হানীয় কিছু নেতা কর্মীকে নিয়ে লালাবাজার বাসীয়া ব্রীজ পরিদর্শন করেন।
পরির্দশন কালে এই ব্রীজটি নতুন ভাবে কোন জায়গায় স্হাপিত হবে এনিয়ে লালাবাজার বাসিয়া ব্রীজ বাস্তবায়ন পরিষদের আহবায়ক ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক হাজি ফারুক আহমদ ও লালাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা তোয়াজিদুল ইসলাম তুহিনের মধ্যে মতের দুইটি বলয় সৃষ্টি হয় বলে একটি সূত্রে জানাযায়।
হাজি ফারুক আহমদের নেতৃত্বে একটি বড় আকারের গ্রুপ ব্রীজটি বর্তমান স্হানেই স্হাপিত হতে চায় এবং চেয়ারম্যান তোয়াজিদুল ইসলাম তুহিনের নেতৃত্বে অন্য একটি গ্রুপ ব্রীজটি বাজারের দক্ষিণের তেঁতুল গাছের নিচে সেখানে স্হাপনের
লবিংয়ে ও উচ্চ পর্যায়ে বিভিন্ন তদবিরে রত বলে এলাকার শীর্ষ স্হানীয় একাধিক ব্যক্তিবর্গ জানিয়েছেন।
জানাগেছে, যখন এনিয়ে দুইটি মত সৃষ্টি হয় তখন এমপি হাবিবুর রহমান উপস্হিত ৬জনকে একটি বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন, তারা যেন আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে এই ৬জন একমত হয়ে নতুন ব্রীজটি কোন জায়গায় স্হাপিত হবে সে বিষয়টি এমপিকে জানিয়ে দেওয়া।
এমপি হাবিবুর রহমান যে ৬জনকে দায়িত্ব দিয়েছেন, তারা হলেন, লালাবাজার ব্রীজ বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক হাজি ফারুক আহমদ,
লালাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা তোয়াজিদুল ইসলাম তুহিন, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য সিতার মিয়া, লালাবাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ্যডভোকেট মুহিত হোসেন,
দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়া মীলীগের দপ্তর সম্পাদক সুজন উদ্দিন খাঁন ও লালাবাজারে বিশিষ্ট ব্যবসায়ি জিতু মিয়া,
ব্রীজ কোন স্হানে স্হাপিত হবে এনিয়ে এলাকার কিছু বিশিষ্ট জনেরা যে, মতামত প্রকাশ করেছেন তা এখানে নিম্নে উল্লেখ করা হলো।
লালাবাজার বাসীয়া ব্রীজ বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক হাজি ফারুক আহমদ বলেন, আমাদের পূর্বেই সিদ্বান্ত ছিল এই ব্রীজ বর্তমান স্হানেই স্হাপিত করণের।
এতএব, অত্র এলাকার অধিবাসীদের কল্যাণে এই ব্রীজ বর্তমান স্হানেই স্হাপিত হউক এটাই আমার কথা।
আর শেষ পর্যন্ত আমি এই সিদ্বান্তে অটল ও অবিচল থাকবো। জনগণের স্বার্থকেই বিবেচনা করা হবে। অত্র অঞ্চলের অধিবাসীরা এই মতের সাথে একমত হবে বলে আমার বিশ্বাস।
সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সালিস ব্যক্তিত্ব ফালাকুজ্জামান চৌধুরী জগলু বলেন,আমি এই বিষয়ে কিছুই মন্তব্য করবোনা! কারণ বিষয়টি নিয়ে আরোও চিন্তার বিষয় রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
লালাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা তোয়াজিদুল ইসলাম তুহিন বলেন, অত্র অঞ্চলের অনেক মানুষজন এমপি হাবিবুর রহমানের কাছে গিয়ে অনুরোধ করেছেন, ব্রীজটি বাজারের দক্ষিণের তেঁতুল গাছের নিচে অর্থাৎ ঈদগা’র ধারে স্হাপিত করণের জন্য।
তিনি বলেন, মাননীয় এমপি ১২ জুলাই ব্রীজ পরিদর্শন কালে ভালকি গ্রামের লালাবাজারের ব্যবসায়ি জিতু মিয়া একটি কথায় বলেছিলেন, জিতু মিয়ার কথা ছিলো আমাদের জায়গা আছে বাজারের দক্ষিণের তেঁতুল গাছের নদীর পশ্চিম পাড়ে আমরা জায়গা দিব এবং অন্য যাদের জায়গা সেখানে আছে তাদেরকেও বলা হবে জায়গা দানের জন্য।
চেয়ারম্যান তুহিন বলেন, সে জন্য এলাকার মানুষ মাননীয় এমপির কাছে গিয়ে অনুরোধ করেন নতুন এই ব্রীজ তেঁতুল গাছের নিচে স্হাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
অলংকারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেল বলেন, তারা ৬ জন যখন সিদ্বান্ত দিয়ে দিবেন তাহলেত আমাদের মতামতের কোনো প্রয়োজন নেই! তবে ব্রীজ যেখানে আছে সেখানেই স্হাপিত হলে এলাকার মানুষের কল্যাণ হবে।
তেতলী ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ওলিউর রহমান ওলি বলেন, আমি তেতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমার ইউনিয়নের অধিবাসীদের স্বার্থসিদ্ব বিষয় রয়েছে সেখানে।
কিন্তু এমপি সাহেব এসে ব্রীজ পরিদর্শন করে গেলেন কিন্তু আমি দাওয়াতই পেলাম না! তিনি বলেন, ব্রীজ যেখানে আছে সেখানেই হলে পরে অত্র এলাকার অধিবাসীরা লাভবান হবে।
লালাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক দুইবারের চেয়ারম্যান ও জামায়াতে ইসলামি দক্ষিণ সুরমা উপজেলা শাখার আমীর খায়রুল আফিয়ান চৌধুরী বলেন, যদি বর্তমান বাজারের উন্নতি চান তাহলে যেখানে আছে বাজার সেখানেই ব্রীজ স্হাপিত হওয়াটা ভালো।
আর যদি বাজার আরোও প্রসারিত
করতে চান তাহলে বাজারের দক্ষিণের তেঁতুল গাছের ধারে স্হাপিত হলে ভালো হয়।
শিল্পপতি মোনায়েম খাঁন বাবুল বলেন, আমাদের দীর্ঘ দিনের সিদ্বান্ত এই ব্রীজ বাস্তবায়নের। এতএব, ব্রীজ যেখানে আছে সেখানেই হলে অত্র এলাকার অধিবাসীরা উপকৃত হবে।
বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সেলিম আহমদ সেলিম বলেন, এখন আবার এই প্রশ্ন কেন? ব্রীজ এদিকে না সেদিকে ? এমপি এসেছেন কি এখানে দরবার সৃষ্টির জন্য?













