এখন ০৩:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তানোর পৌরসভায় প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়ায় বাড়ছে ক্ষোভ

আলিফ হোসেন, তানোর -ঃ রাজশাহীর তানোর পৌরসভায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দরপত্র আহবান ও কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও প্রকল্পের বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এখানো প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু না হওয়ায় পৌরবাসীর মাঝে চাঁপাক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন হবে কি না সেটি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে প্রকল্প গ্রহণেও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, তানোর পৌরসভায় ২০২২-২৩ চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯টি প্যাকেজে ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। সুত্র জানায়, চলতি বছরের ৯ জুন বৃহস্পতিবার দরপত্র আহবান এবং ১৯ জুন রোববার প্রিটেন্ডার সভা করা হয়। সিডিউল বিক্রির শেষ কার্যদিবস ২৮ জুন মঙ্গলবার, দাখিলের শেষ কার্যদিবস ২৯ জুন বুধবার এবং একইদিন পৌরভবনে বিকেল ৩টায় সিডিউল খোলার দিন ধার্য করা হয়। দরপত্র কার্যক্রম সম্পন্ন হবার দিন থেকে আগামি ৬০ দিনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, দরপত্র কার্যক্রম সম্পন্নের প্রায় দু’সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও, এখানো কোনো প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়নি এমনকি নির্মাণ সামগ্রী ফেলা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, এক নম্বর
প্যাকেজে হরিদেবপুর আনন্দের-প্রফুল্লর বাড়ি পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন নির্মাণ, মিলনের বাড়ি থেকে মোজাহারের বাড়ি পর্যন্ত ব্রিকস ড্রেন নির্মাণ, ইউনুসের বাড়ির পাশে ব্রিকস ড্রেন নির্মাণ ও বাবুর বাড়ির পাশে ক্রসড্রেন নির্মাণে বরাদ্দ প্রায় ৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। দুই নম্বর প্যাকেজে গোকুল আলতাবের বাড়ি থেকে রেজাউলের বাড়ি পর্যন্ত ব্রিকস ড্রেন নির্মাণে বরাদ্দ ৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। তিন নম্বর প্যাকেজে মথুরা লালচানের বাড়ি থেকে রেজাউলের বাড়ি পর্যন্ত ব্রিকস ড্রেন ,মথুরা মোড়ে ক্রসড্রেন ও চাপড়া আয়েনের বাড়ির কাছে আরসিসি রাস্তা নির্মাণে বরাদ্দ প্রায় ৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা।
চার নম্বর প্যাকেজে কুঠিপাড়া রাজ্জাকের বাড়ি থেক সলেমানের বাড়ি পর্যন্ত ব্রিক ড্রেন, তানোর পুরানপুকুর মসজিদের পাশে সিড়িঘাটসহ প্রটেকশন ওয়াল ও মথুরাপুর মসজিদের দেয়াল-মেঝেতে টাইলসকরণে বরাদ্দ প্রায় ৬ লাখ ১৩ হাজার টাকা। পাঁচ নম্বর প্যাকেজে তানোরপাড়া লুৎফরের বাড়ি থেকে রাস্ত পর্যন্ত ব্রিকস ড্রেন, বকুলের বাড়ি থেকে এমদাদুলের বাড়ি পর্যন্ত ব্রিক ড্রেন, তানোর মুন্নাপাড়া মুনসুরের বাড়ি থেকে কালামের বাড়ি পর্যন্ত ব্রিকস ড্রেন ও গোল্লাপাড়রা সাত্তারের বাড়ির পাশে ব্রিকস ড্রেন নির্মাণে বরাদ্দ প্রায় ৫ লাক ১১ হাজার টাকা। ছয় নম্বর প্যাকেজে আমশো দক্ষিনপাড়া ওয়াক্তিয়া মসজিদ থেকে রাস্তা পর্যন্ত্য ব্রিকস ড্রেন নির্মাণ, আমশো বাচ্চুর বাড়ির পাশের পুকুরে প্যালাসিটিংকরণ ও তাতিয়ার পাড়া শাহাবানের বাড়ি থেক হারুনের বাড়ি পর্যন্ত পুকুর পাড়ে প্যালাসিটিংকরণে বরাদ্দ প্রায় ৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা। সাত নম্বর প্যাকাজে জিওল দক্ষিনপাড়া ওমরের বাড়ি থেকে রাস্তা পর্যন্ত ব্রিকস ড্রেন, রফিকের বাড়ি থেকে রাস্তা পর্যন্ত ব্রিকসনড্রেন, চানপুর মুনসুরের বাড়ি থেকে তৈয়বের বাড়ি পর্যন্ত ব্রিকস ড্রেন ও বাজে আকচা শামসুলের বাড়ির পাশে আরসিসি প্রটেকশান ওয়াল নির্মাণে বরাদ্দ প্রায় ৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। আট ন্ম্বর প্যাকেজে বুরুজ আনন্দের বাড়ি হতে মন্দির পর্যন্ত ব্রিকস ড্রেন নির্মাণ, ভাতরন্ড রবুর বাড়ি থেকে খাইবরের বাড়ি পর্যন্ত ব্রিকস ড্রেন নির্মান,বুরুজ মাদরাসায় সাবমার্শিবল পাম্প স্থাপন, বড়শো মেরাজের বাড়ি থেকে রহিমের বাড়ি পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন নির্মান ও বড়শো কালামের বাড়ির পাশে ক্রসড্রেন নির্মাণে বরাদ্দ প্রায় ৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং নয় নম্বর প্যাকেজে বড়শো মুকুলের বাড়ি থেকে ট্যাপার মোড় পর্যন্ত ব্রিকস ড্রেন নির্মান ও ট্যপার মোড়ে আরসিসি কালভ্রাট নির্মাণে বরাদ্দ প্রায় ৭ লাখ ৬ হাজার টাকা।স্থানীয়রা বলছে, নয়ছয় করে প্রকল্পের টাকা হজম করতেই কাজ শুরুতে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। পৌরবাসী প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিটি প্রকল্পে একজন সরকারি কর্মকর্তা বা এমপির প্রতিনিধিকে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগের দাবিতে স্থানীয় সাংসদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এবিষয়ে একাধিকবার
যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তানোর পৌরসভার দায়িত্বশীল কারো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

তানোর পৌরসভায় প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়ায় বাড়ছে ক্ষোভ

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৫৮:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২

আলিফ হোসেন, তানোর -ঃ রাজশাহীর তানোর পৌরসভায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দরপত্র আহবান ও কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও প্রকল্পের বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এখানো প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু না হওয়ায় পৌরবাসীর মাঝে চাঁপাক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন হবে কি না সেটি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে প্রকল্প গ্রহণেও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, তানোর পৌরসভায় ২০২২-২৩ চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯টি প্যাকেজে ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। সুত্র জানায়, চলতি বছরের ৯ জুন বৃহস্পতিবার দরপত্র আহবান এবং ১৯ জুন রোববার প্রিটেন্ডার সভা করা হয়। সিডিউল বিক্রির শেষ কার্যদিবস ২৮ জুন মঙ্গলবার, দাখিলের শেষ কার্যদিবস ২৯ জুন বুধবার এবং একইদিন পৌরভবনে বিকেল ৩টায় সিডিউল খোলার দিন ধার্য করা হয়। দরপত্র কার্যক্রম সম্পন্ন হবার দিন থেকে আগামি ৬০ দিনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, দরপত্র কার্যক্রম সম্পন্নের প্রায় দু’সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও, এখানো কোনো প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়নি এমনকি নির্মাণ সামগ্রী ফেলা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, এক নম্বর
প্যাকেজে হরিদেবপুর আনন্দের-প্রফুল্লর বাড়ি পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন নির্মাণ, মিলনের বাড়ি থেকে মোজাহারের বাড়ি পর্যন্ত ব্রিকস ড্রেন নির্মাণ, ইউনুসের বাড়ির পাশে ব্রিকস ড্রেন নির্মাণ ও বাবুর বাড়ির পাশে ক্রসড্রেন নির্মাণে বরাদ্দ প্রায় ৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। দুই নম্বর প্যাকেজে গোকুল আলতাবের বাড়ি থেকে রেজাউলের বাড়ি পর্যন্ত ব্রিকস ড্রেন নির্মাণে বরাদ্দ ৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। তিন নম্বর প্যাকেজে মথুরা লালচানের বাড়ি থেকে রেজাউলের বাড়ি পর্যন্ত ব্রিকস ড্রেন ,মথুরা মোড়ে ক্রসড্রেন ও চাপড়া আয়েনের বাড়ির কাছে আরসিসি রাস্তা নির্মাণে বরাদ্দ প্রায় ৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা।
চার নম্বর প্যাকেজে কুঠিপাড়া রাজ্জাকের বাড়ি থেক সলেমানের বাড়ি পর্যন্ত ব্রিক ড্রেন, তানোর পুরানপুকুর মসজিদের পাশে সিড়িঘাটসহ প্রটেকশন ওয়াল ও মথুরাপুর মসজিদের দেয়াল-মেঝেতে টাইলসকরণে বরাদ্দ প্রায় ৬ লাখ ১৩ হাজার টাকা। পাঁচ নম্বর প্যাকেজে তানোরপাড়া লুৎফরের বাড়ি থেকে রাস্ত পর্যন্ত ব্রিকস ড্রেন, বকুলের বাড়ি থেকে এমদাদুলের বাড়ি পর্যন্ত ব্রিক ড্রেন, তানোর মুন্নাপাড়া মুনসুরের বাড়ি থেকে কালামের বাড়ি পর্যন্ত ব্রিকস ড্রেন ও গোল্লাপাড়রা সাত্তারের বাড়ির পাশে ব্রিকস ড্রেন নির্মাণে বরাদ্দ প্রায় ৫ লাক ১১ হাজার টাকা। ছয় নম্বর প্যাকেজে আমশো দক্ষিনপাড়া ওয়াক্তিয়া মসজিদ থেকে রাস্তা পর্যন্ত্য ব্রিকস ড্রেন নির্মাণ, আমশো বাচ্চুর বাড়ির পাশের পুকুরে প্যালাসিটিংকরণ ও তাতিয়ার পাড়া শাহাবানের বাড়ি থেক হারুনের বাড়ি পর্যন্ত পুকুর পাড়ে প্যালাসিটিংকরণে বরাদ্দ প্রায় ৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা। সাত নম্বর প্যাকাজে জিওল দক্ষিনপাড়া ওমরের বাড়ি থেকে রাস্তা পর্যন্ত ব্রিকস ড্রেন, রফিকের বাড়ি থেকে রাস্তা পর্যন্ত ব্রিকসনড্রেন, চানপুর মুনসুরের বাড়ি থেকে তৈয়বের বাড়ি পর্যন্ত ব্রিকস ড্রেন ও বাজে আকচা শামসুলের বাড়ির পাশে আরসিসি প্রটেকশান ওয়াল নির্মাণে বরাদ্দ প্রায় ৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। আট ন্ম্বর প্যাকেজে বুরুজ আনন্দের বাড়ি হতে মন্দির পর্যন্ত ব্রিকস ড্রেন নির্মাণ, ভাতরন্ড রবুর বাড়ি থেকে খাইবরের বাড়ি পর্যন্ত ব্রিকস ড্রেন নির্মান,বুরুজ মাদরাসায় সাবমার্শিবল পাম্প স্থাপন, বড়শো মেরাজের বাড়ি থেকে রহিমের বাড়ি পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন নির্মান ও বড়শো কালামের বাড়ির পাশে ক্রসড্রেন নির্মাণে বরাদ্দ প্রায় ৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং নয় নম্বর প্যাকেজে বড়শো মুকুলের বাড়ি থেকে ট্যাপার মোড় পর্যন্ত ব্রিকস ড্রেন নির্মান ও ট্যপার মোড়ে আরসিসি কালভ্রাট নির্মাণে বরাদ্দ প্রায় ৭ লাখ ৬ হাজার টাকা।স্থানীয়রা বলছে, নয়ছয় করে প্রকল্পের টাকা হজম করতেই কাজ শুরুতে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। পৌরবাসী প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিটি প্রকল্পে একজন সরকারি কর্মকর্তা বা এমপির প্রতিনিধিকে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগের দাবিতে স্থানীয় সাংসদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এবিষয়ে একাধিকবার
যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তানোর পৌরসভার দায়িত্বশীল কারো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।