এখন ০৩:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নওগাঁর বদলগাছি ভণ্ড কবিরাজের, অপচিকিৎসার ফাঁদে সাধারণ মানুষ সর্বশান্ত

মাহবুব আলম, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি -ঃ নওগাঁয় দিন দিন বেড়েই চলেছে অপচিকিৎসা ও ভণ্ড কবিরাজদের বিভিন্ন কায়দায় প্রতারণা। কেউ দোয়া, ঝাড় ফুঁকের পাশাপাশি যৌন-উত্তেজক সিরাপ তুলে দিচ্ছে রোগীর হাতে আবার কেউ গোনাপড়ার নামে মিথ্যা অভিনয় আর কৌশলে সাধারাণ মানুষদের বিশ্বাস অর্জন করে কাটছে পকেট। আবার কেউ কেউ এদর থেকেও অনেক উপরে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার যে সব রোগীর চিকিৎসা করতে বার্থ সেসব রোগীর পরিবারের মানুষদের বিভিন্ন টোটকা জাদু দেখিয়ে রোগী ভালো করার জন্য বেহুলার গান দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা।

নওগাঁ সদর উপজেলার চকবিরাম এলাকার আশরাফুল ঝাড়-ফুঁক আর রোগীকে ভয়ভীতী দেখিয়ে ১০, ১২, ১৫, ২০ হাজার টাকা করে নেয় এমন অভিযোগের সত্যতা উদ্ধারে সাংবাদিকগণ সরজমিনে গেলে দেখতে পান এলোপ্যাথিক, হোমিও ঔষধে পূর্ণ তার চেম্বার সাথে যৌন-উত্তেজক বিভিন্ন সিরাপ নজরে পড়ে। নেই তার ট্রেড লাইসেন্স, ড্রাগ লাইসেন্স এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ট্রেনিং অথচ দিনের পর দিন এভাবে অপচিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের বলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আমার আত্মীয় পারলে বন্ধ করে দেখান।

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার গন্ধর্ব্বপুরের (ডারিপাড়ার) নূর ইসলামের স্ত্রী সাবিনা গনাপড়ার নামে মিথ্যা অভিনয় করে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। চটি বই দেখে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নির্ণয় করে আর দোয়া, ঝাড় ফুঁক দিলেই ভালো হয়ে যাবে বলে রোগীদের কাছ থেকে ৫, ৭, ১০ হাজার টাকা করে নেয়।

একই উপজেলার মিঠাপুরের সামসুল কবিরাজ এলাকায় পরিচিত সামু কবিরাজ হিসেবে সে সবার থেকে এগিয়ে সে রোগীর সমস্যা শুনে পানিতে সবকিছু দেখতে পায় এমন অভিনয় আর কৌশল দেখিয়ে মানুষদের বোকা বানিয়ে বেহুলার গান দেওয়ার নামে ২০, ২৫, ৩০, ৫০, ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। শুধু তাই নয় সে একজন মুসলিম পরিবারের সন্তান হওয়ার পরেও বেহুলার গান দেওয়ার সময় দেবী দূর্গা সেজে ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত হানছে।

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার আমাইড় ইউনিয়নের সিলিমপুরে শ্রী মোটারাম ও শ্রী সুদীর, কাদাইল গ্রামের রাইহান হোসেন (রাহেলী) কবিরাজ ও অষ্টমাত্রার মান্নান কবিরাজ বিভিন্ন টোটকা আর জ্বিন ধরার ভান করে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা।

নওগাঁ জেলার সদর, বদলগাছী, পত্নীতলা, মহাদেবপুর চারটি উপজেলা জরিপ করে এমন ভণ্ড কবিরাজ মিলেছে প্রায় ১৫০ টির ও বেশি।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডাঃ আবুহেনা মোহাম্মদ রায়হানুজ্জামান সরকারে সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অপচিকিৎসার ব্যাপারে সচ্চার ভূমিকা পালন করছে আর এ বিষয়ে আমরাও সচ্চার বর্তমানে আমরা অবৈধ, অনুমোদনহীন ক্লিনিক নিয়ে অভিযান পরিচালনা করছি এর পরেই আমরা অপচিকিৎসা নিয়ে অভিযান পরিচালনা করবো।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

নওগাঁর বদলগাছি ভণ্ড কবিরাজের, অপচিকিৎসার ফাঁদে সাধারণ মানুষ সর্বশান্ত

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২

মাহবুব আলম, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি -ঃ নওগাঁয় দিন দিন বেড়েই চলেছে অপচিকিৎসা ও ভণ্ড কবিরাজদের বিভিন্ন কায়দায় প্রতারণা। কেউ দোয়া, ঝাড় ফুঁকের পাশাপাশি যৌন-উত্তেজক সিরাপ তুলে দিচ্ছে রোগীর হাতে আবার কেউ গোনাপড়ার নামে মিথ্যা অভিনয় আর কৌশলে সাধারাণ মানুষদের বিশ্বাস অর্জন করে কাটছে পকেট। আবার কেউ কেউ এদর থেকেও অনেক উপরে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার যে সব রোগীর চিকিৎসা করতে বার্থ সেসব রোগীর পরিবারের মানুষদের বিভিন্ন টোটকা জাদু দেখিয়ে রোগী ভালো করার জন্য বেহুলার গান দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা।

নওগাঁ সদর উপজেলার চকবিরাম এলাকার আশরাফুল ঝাড়-ফুঁক আর রোগীকে ভয়ভীতী দেখিয়ে ১০, ১২, ১৫, ২০ হাজার টাকা করে নেয় এমন অভিযোগের সত্যতা উদ্ধারে সাংবাদিকগণ সরজমিনে গেলে দেখতে পান এলোপ্যাথিক, হোমিও ঔষধে পূর্ণ তার চেম্বার সাথে যৌন-উত্তেজক বিভিন্ন সিরাপ নজরে পড়ে। নেই তার ট্রেড লাইসেন্স, ড্রাগ লাইসেন্স এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ট্রেনিং অথচ দিনের পর দিন এভাবে অপচিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের বলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আমার আত্মীয় পারলে বন্ধ করে দেখান।

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার গন্ধর্ব্বপুরের (ডারিপাড়ার) নূর ইসলামের স্ত্রী সাবিনা গনাপড়ার নামে মিথ্যা অভিনয় করে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। চটি বই দেখে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নির্ণয় করে আর দোয়া, ঝাড় ফুঁক দিলেই ভালো হয়ে যাবে বলে রোগীদের কাছ থেকে ৫, ৭, ১০ হাজার টাকা করে নেয়।

একই উপজেলার মিঠাপুরের সামসুল কবিরাজ এলাকায় পরিচিত সামু কবিরাজ হিসেবে সে সবার থেকে এগিয়ে সে রোগীর সমস্যা শুনে পানিতে সবকিছু দেখতে পায় এমন অভিনয় আর কৌশল দেখিয়ে মানুষদের বোকা বানিয়ে বেহুলার গান দেওয়ার নামে ২০, ২৫, ৩০, ৫০, ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। শুধু তাই নয় সে একজন মুসলিম পরিবারের সন্তান হওয়ার পরেও বেহুলার গান দেওয়ার সময় দেবী দূর্গা সেজে ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত হানছে।

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার আমাইড় ইউনিয়নের সিলিমপুরে শ্রী মোটারাম ও শ্রী সুদীর, কাদাইল গ্রামের রাইহান হোসেন (রাহেলী) কবিরাজ ও অষ্টমাত্রার মান্নান কবিরাজ বিভিন্ন টোটকা আর জ্বিন ধরার ভান করে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা।

নওগাঁ জেলার সদর, বদলগাছী, পত্নীতলা, মহাদেবপুর চারটি উপজেলা জরিপ করে এমন ভণ্ড কবিরাজ মিলেছে প্রায় ১৫০ টির ও বেশি।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডাঃ আবুহেনা মোহাম্মদ রায়হানুজ্জামান সরকারে সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অপচিকিৎসার ব্যাপারে সচ্চার ভূমিকা পালন করছে আর এ বিষয়ে আমরাও সচ্চার বর্তমানে আমরা অবৈধ, অনুমোদনহীন ক্লিনিক নিয়ে অভিযান পরিচালনা করছি এর পরেই আমরা অপচিকিৎসা নিয়ে অভিযান পরিচালনা করবো।