আরিফ হোসেন,তানোর -ঃ রাজশাহীর তানোর পৌরসভার মেয়র ইমরুল হক কথিত মাস্টারোলের নামে অপ্রয়োজনীয় পদে একাধিক জনবল নিয়োগ ও নিজ কার্যালয়ে একাধিক এসি লাগিয়েছেন। নাগরিক সেবা বঞ্চিত পৌরসভায় অপ্রয়োজনীয় পদে কর্মচারী নিয়োগ ও মেয়রের এসি বিলাস নিয়ে নাগরিকগণ বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়, নাগরিক মনেও দেখা দিয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া।
জানা যায়, বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে সরকার যখন বিদ্যুতের ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও কৃচ্ছতাসাধনের পথে হাঁটছে তখন প্রটোকল না মেনে উল্টোপথে হেঁটে পৌরসভার মেয়র নিজ দপ্তরে একাধিক শীতাতাপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র (এ.সি) বসিয়ে বিদ্যুতের অপচয় এবং কথিত কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে অর্থ অপচয়ের মহোৎসব করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সচেতন মহলের অভিমত, কাউন্সলর, কর্মচারীদের সম্মানী ভাতা ও প্রায় ২৩ লাখ টাকার বিদ্যুত বিল বকেয়া অবস্থায় পৌরসভায় এসি’র ব্যবহার, পাশাপাশি অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ রীতিমতো বাস্তবতা ও বিবেক-বর্জিত হলেও পৌর মেয়র ইমরুল সেই কাজটিই করেছেন।
এদিকে পৌর এলাকায় তার এই উদ্ধত্যপূর্ণ কাজের জন্য ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পৌরবাসীরা বলছে, সমগ্র দেশে যখন সরকার বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে হিমসিম খাচ্ছে তখন মেয়র ইমরুলের এই এসি বিলাস সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান বলে মনে করছেন বিশিষ্ট জনেরা।
এ ব্যাপারে সাবেক কাউন্সিলর রাশেল সরকার উত্তম বলেন, তানোরের মতো পৌরসভাতে এসি লাগানো ও অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ শুধু বিদ্যুতের অপচয় না এটা নতুন মেয়রের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ঔদ্ধত্য প্রকাশ। কেননা এসি’র বিদ্যুৎ বিল ও অতিরিক্ত কর্মচারীর বেতন পৌরসভার জনগণের ট্যাক্সের থেকে দিতে হবে, বিধায় আলটিমেটলী এর ভোগান্তিতে পড়বে পৌরবাসী। তাই এসি লাগানো ও অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ বিলাসিতা বৈকী। এবিষয়ে তানোর বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া জানান, পৌরসভার প্রায় ২৩ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া আছে। মেয়র সাহেব আবার এসি বসানোয় অতিরিক্ত বিদ্যুত বিলও আসবে। ফলে বকেয়ার পরিমানও বেড়ে যাবে। দেশের এই বিদ্যুত ঘাটতি সময়ে বকেয়া কালেকশন নিয়ে তারা চরম দুিশ্চন্তায় আছেন বলেও জানান তিনি। এদিকে নাগরিকগণ বলছেন এতো বিপুল অংকের বিল বাঁকি থাকা সত্তেও পৌরসভার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা একটা বড় অন্যায়। অবিলম্বে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা না হলে পৌরসভার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবী জানান তারা। তারা বলেন, সাধারণ গ্রাহকের দু-তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকলে সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ মামলা করা হয়, তাহলে পৌরসভার বিপুল পরিমাণ টাকা বকেয়া থাকলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা মামলা করা হবে না কেন ? তারা তো নিয়মিত পৌর কর পরিশোধ করছেন।এছাড়াও এসি না লাগিয়ে ও অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ না দিয়ে সড়ক বাতির ব্যবস্থা করা হলে নাগরিকের উপকার হতো। এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও মুঠোফোনে বন্ধ থাকায় মেয়র ইমরুল হকের কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এবিষয়ে পৌরসভার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম সরদার বলেন, সেবা গ্রহীতারা এসে গরমে অনেক কষ্ট পোহায় এবং বিভিন্ন সময় মিটিং করতে আমাদের অনেক সমস্যা হয় তাই পরিষদের সিন্ধান্ত নিয়ে অনেক আগেই এসি লাগিয়েছি। এটা বিলাসিতা নয় ,অনেক প্রয়োজনীয় বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসি যন্ত্রের বিদ্যুৎ বিল ও অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের খরচ কিভাবে জোগাড় করবেন জানতে চাইলে কোনো সদোত্তর না দিয়ে কৌশলে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে য়ান। এবিষয়ে তানোর মডেল প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক সাংবাদিক বলেন, ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের সৌন্দর্য রক্ষা, আরাম-আয়েশ ও বিলাসিতার জন্য পৌরভবনে যদি এভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র বসানো না হয় এবং অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করা না হয় তাহলে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও অর্থ সাশ্রয় হবে এবং তা দিয়ে সড়ক বাতি ও প্রত্যন্ত এলাকার বিপুল পরিমাণ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে।













