এখন ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী বিএডিসিতে তদন্ত কমিটি নিয়ে তোলপাড়

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) রাজশাহী উপ-পরিচালক পাট-বীজ কার্যালয়ের আলোচিত তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী ও সিবিএ নেতা হারুনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠে। এসব নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মহল। পরবর্তীতে প্রভাবশালী এই সিবিএ নেতা হারুনের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওদিকে ঘটনা ধাঁমাচাপা দিয়ে ভিন্নখাতে প্রভাবিত ও তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে নিতে বড় অঙ্কের অর্থ নিয়ে মাঠে নামেন হারুন। এরই ফলশ্রুতিতে সেই তদন্ত ভার দেওয়া হয় হারুনের অনুগত আরেক দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা বিএডিসি রাজশাহীর যুগ্ম-পরিচালক জুলফিকার আলীর কাছে বলে মনে করছেন সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ। এদিকে এখবর ছড়িয়ে পড়লে বিএডিসিতে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে,অপরদিকে রাজশাহীর সুশিল সমাজ বিশ্ময়ে হতবাক। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে বিচার বিভাগীয় বা আরো উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, হারুনের অনুগত এই কর্মকর্তা যদি তদন্ত করেন তাহলে হারুন অনায়াসে পার পেয়ে যাবেন বলে তাদের আশঙ্কা রয়েছে। সুত্রে জানা যায়, বিএডিসি পাট বীজ অফিসের ডি.হিউ.মি.ডি ফায়ার এর ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার কাজের পাট-বীজ এর তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী ও সিবিএ নেতা হারুন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। আবার সেই দূর্নীতির তদন্ত ভার পাওয়া জুলফিকার আলী তৎকালীন সময়ে পাট বীজের উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সুবাদে তিনিও পেয়েছেন এই কাজের টাকার ভাগ। অপরদিকে রাজশাহী রেলগেট সংলগ্ন বীজ বিপণন অফিসের ১৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা মার্কেটিং এর কাজের সময়ও জুলফিকার আলী মার্কেটিং এর উপ-পরিচালক এর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এখানেও মোটা অংকের টাকা ভাগ নিয়েছেন বলে আলোচনা রয়েছে। আবার এই জুলফিকারের নিজ এলাকায় জামাতের নেতা ও অর্থের যোগানদাতা বলেও গুঞ্জন বইছে।তার ছত্রছায়ায় হারুন সিন্ডিকেট এসব অনিয়ম দুর্নীতি করেছেন বলে ভুক্তভোগী সুত্র নিশ্চিত করেছে।এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিএডিসি সার এর যুগ্ম-পরিচালক জুলফিকার আলী বলেন, আমি কোন অনিয়ম দুর্নীতি করিনি এবং এসব অনিয়ম সাথে কোন ভাবেই জড়িত না আপনি অফিসে এসে আমার বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে দেখতে পারেন। সিবিএ নেতা হারুনের অভিযোগের তদন্তের বিষয়েও তিনি বলেন, তদন্ত নিয়ম অনুযায়ী করা হবে আর বিএডিসি হেড অফিসের সংস্থাপন শাখা থেকে আমাকে এ তদন্ত ভার দেওয়া হয়েছে যা তিনি সঠিকভাবে পালন করবেন বলে জানান। এবিষয়ে বিএডিসি হেড অফিসের সংস্থাপন শাখার দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

রাজশাহী বিএডিসিতে তদন্ত কমিটি নিয়ে তোলপাড়

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:১৬:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ অগাস্ট ২০২২

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) রাজশাহী উপ-পরিচালক পাট-বীজ কার্যালয়ের আলোচিত তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী ও সিবিএ নেতা হারুনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠে। এসব নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মহল। পরবর্তীতে প্রভাবশালী এই সিবিএ নেতা হারুনের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওদিকে ঘটনা ধাঁমাচাপা দিয়ে ভিন্নখাতে প্রভাবিত ও তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে নিতে বড় অঙ্কের অর্থ নিয়ে মাঠে নামেন হারুন। এরই ফলশ্রুতিতে সেই তদন্ত ভার দেওয়া হয় হারুনের অনুগত আরেক দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা বিএডিসি রাজশাহীর যুগ্ম-পরিচালক জুলফিকার আলীর কাছে বলে মনে করছেন সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ। এদিকে এখবর ছড়িয়ে পড়লে বিএডিসিতে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে,অপরদিকে রাজশাহীর সুশিল সমাজ বিশ্ময়ে হতবাক। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে বিচার বিভাগীয় বা আরো উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, হারুনের অনুগত এই কর্মকর্তা যদি তদন্ত করেন তাহলে হারুন অনায়াসে পার পেয়ে যাবেন বলে তাদের আশঙ্কা রয়েছে। সুত্রে জানা যায়, বিএডিসি পাট বীজ অফিসের ডি.হিউ.মি.ডি ফায়ার এর ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার কাজের পাট-বীজ এর তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী ও সিবিএ নেতা হারুন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। আবার সেই দূর্নীতির তদন্ত ভার পাওয়া জুলফিকার আলী তৎকালীন সময়ে পাট বীজের উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সুবাদে তিনিও পেয়েছেন এই কাজের টাকার ভাগ। অপরদিকে রাজশাহী রেলগেট সংলগ্ন বীজ বিপণন অফিসের ১৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা মার্কেটিং এর কাজের সময়ও জুলফিকার আলী মার্কেটিং এর উপ-পরিচালক এর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এখানেও মোটা অংকের টাকা ভাগ নিয়েছেন বলে আলোচনা রয়েছে। আবার এই জুলফিকারের নিজ এলাকায় জামাতের নেতা ও অর্থের যোগানদাতা বলেও গুঞ্জন বইছে।তার ছত্রছায়ায় হারুন সিন্ডিকেট এসব অনিয়ম দুর্নীতি করেছেন বলে ভুক্তভোগী সুত্র নিশ্চিত করেছে।এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিএডিসি সার এর যুগ্ম-পরিচালক জুলফিকার আলী বলেন, আমি কোন অনিয়ম দুর্নীতি করিনি এবং এসব অনিয়ম সাথে কোন ভাবেই জড়িত না আপনি অফিসে এসে আমার বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে দেখতে পারেন। সিবিএ নেতা হারুনের অভিযোগের তদন্তের বিষয়েও তিনি বলেন, তদন্ত নিয়ম অনুযায়ী করা হবে আর বিএডিসি হেড অফিসের সংস্থাপন শাখা থেকে আমাকে এ তদন্ত ভার দেওয়া হয়েছে যা তিনি সঠিকভাবে পালন করবেন বলে জানান। এবিষয়ে বিএডিসি হেড অফিসের সংস্থাপন শাখার দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।