এখন ০৩:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আটোয়ারীতে ছয় সন্তানের জনক হয়ে এখন অসহায় তিনি

আব্দুর রহমান, বিশেষ সংবাদদাতা -ঃ পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা বলরামপুর ইউনিয়নের আমানুল্লাহ(৮০)ও তার সহধর্মিণী জাবেদা খাতুন ৬ সন্তানের জনক হয়েও তারা এখন নিরুপায়।তাদের ঢেউটিনের বাড়ি থাকলেও নেই খাবার ও ঔষধ কেনার টাকা। ৩ আগস্ট (বুধবার) দেখা হয় আমানুল্লাহ’র। তিনি বলেন, এখন আর কাজ করতে পারিনা ছেলে আলাদা খায়।ওষুধ কিনতে পারছি না। আমার পরিচিত কারো সাথে দেখা হয় তখন তাদের কাছ থেকে ১০/২০ টাকা চেয়ে নিই। এভাবে ওষুধ কিনতাম এবং খরচ করতাম। কিন্তু ১৫/২০ দিন থেকে হাঁপানির গ্যাস(ইনহেলার) শেষ হয়ে গেছে কিনতে পারিনা, টাকা নাই। শ্বাস কষ্ট টাও বেড়ে গেছে। বৃদ্ধ বয়সে পাশে নেই কেউ। মেয়েরাও স্বামীর বাড়ি থেকে আর কত সাহায্য করবে!

জানা গেছে,আমানুল্লাহ’ ১ ছেলে ও ৫ মেয়ে। ছেলে জয়নালের প্রথম বিয়ে হওয়ার পর তার ১ছেলে ও ১ মেয়ে হয়। পরে তার বউ অন্য কোথাও আবার বিয়ে করে । তারপরে জয়নাল আবার বিয়ের করে। আগে দুই নাতি-নাতনি সহ একসাথে খায় আমানুল্লাহ। কারণ দুই নাতি-নাতনি কে খাওয়ায় না জয়নাল। আমানুল্লাহ আগে ভেন চালাতেন। ভেন চালিয়েই ৫ মেয়ে ও ১ ছেলেকে লালন-পালন করে বড় করেন এবং বিয়ে দেন। ছেলের বিয়ে হওয়ার পরে ছেলে এবং ছেলের বউ আলাদা খেতে শুরু করে । তারপরও প্রায় ৫/৬ বছর ভেন চালিয়ে আয় করে খেতেন আমানুল্লাহ।

কিন্তু বয়স এবং অসুস্থতা তাকে যেন হার মানিয়েছে। এখন আর ভেন চালাতে পারেন না । হাঁপানি সহ নানান রোগে ভুগছেন ।হাঁপানি রোগের গ্যাস ইনহেলার ২৩০/২৫০ টাকা দাম সেটাও কেনার টাকা নেই তার কাছে।গ্যাস ব্যবহার না করলে হাঁপানি বেড়ে যায়। শ্বাসকষ্ট হয়। মেয়েরাও স্বামীর বাড়ি থেকে আর কত সাহায্য করবে৷

সরকারী ভাবে কোনো সুযোগ-সুবিধা পান কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বয়স্ক ভাতা পাই ৩ মাস পর ১৫০০ টাকা। মাসে ৫০০ টাকা পাই। কিন্তু বর্তমানে জিনিসপএের দাম বেড়ে গেছে। ৫০০ টাকা দিয়ে ৪ জন মানুষ (আমানুল্লাহ,জবেদা,সহ দুই নাতি-নাতনি) ১ মাস চলবে কিভাবে ? এ প্রশ্নের উওর দিতে পারেনি বরং তার দিকে তাকিয়ে চুপ করে থাকতে হয়েছিল প্রতিবেদক’কে। আমানুল্লাহ বলেন, বয়সের দ্বারপ্রান্তে এসে মানুষের কাছে টাকা উঠিয়ে খেতে খেতে হবে এটা আমার ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। যদি আমার শরীর স্বাস্থ্য ঠিক থাকত তাহলে ভেন চালিয়েই খেতাম৷ কিন্তু আমি এখন ঠিক মতো হাঁটতে পারিনা। তিনি আরো বলেন, সরকার গৃহহীন ভূমিহীনদেরকে ঘর করে দিচ্ছে, আমার তো টিনের বাড়ি আছে সেখানে থাকতে পারি। আমি কি সরকার কিংবা বিওবানদের কোনো সাহায্য পাব ?

স্থানীয়রা বলেন, তিনি অনেক দিন থেকে অসুস্থ । তার অসুস্থতার কারনে ঠিকমতো হাঁটতেও পারছেন না। সম্পদশালী ব্যক্তিরা এগিয়ে আসতে পারে ! যদি আপনাদের এই সম্পদ একটি অসহায় মানুষের কাজে না লাগে তাহলে ঔই সম্পদ দিয়ে কি হবে ? তিনি বয়স্ক ভাতা পান কিন্তু সেটা দিয়ে তারা ৪ জন মানুষ চলতে পারে না । সরকার গৃহহীন ও ভূমিহীন মুক্ত পঞ্চগড় জেলা ঘোষণা করছে৷ কিন্তু একজন বৃদ্ধ মানুষের ঔষধ ক্রয় করার টাকা নাই।জরুরি ভাবে এর স্থায়ী সমাধান করা দরকার ! সরকারী ভাবে আর কোনো সুযোগ-সুবিধা দিয়ে এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো যায় কিনা ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সহ সকলের সু-দৃষ্টি কামনা করেন স্থানীয় সুশীল সমাজ।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

আটোয়ারীতে ছয় সন্তানের জনক হয়ে এখন অসহায় তিনি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:২৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ অগাস্ট ২০২২

আব্দুর রহমান, বিশেষ সংবাদদাতা -ঃ পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা বলরামপুর ইউনিয়নের আমানুল্লাহ(৮০)ও তার সহধর্মিণী জাবেদা খাতুন ৬ সন্তানের জনক হয়েও তারা এখন নিরুপায়।তাদের ঢেউটিনের বাড়ি থাকলেও নেই খাবার ও ঔষধ কেনার টাকা। ৩ আগস্ট (বুধবার) দেখা হয় আমানুল্লাহ’র। তিনি বলেন, এখন আর কাজ করতে পারিনা ছেলে আলাদা খায়।ওষুধ কিনতে পারছি না। আমার পরিচিত কারো সাথে দেখা হয় তখন তাদের কাছ থেকে ১০/২০ টাকা চেয়ে নিই। এভাবে ওষুধ কিনতাম এবং খরচ করতাম। কিন্তু ১৫/২০ দিন থেকে হাঁপানির গ্যাস(ইনহেলার) শেষ হয়ে গেছে কিনতে পারিনা, টাকা নাই। শ্বাস কষ্ট টাও বেড়ে গেছে। বৃদ্ধ বয়সে পাশে নেই কেউ। মেয়েরাও স্বামীর বাড়ি থেকে আর কত সাহায্য করবে!

জানা গেছে,আমানুল্লাহ’ ১ ছেলে ও ৫ মেয়ে। ছেলে জয়নালের প্রথম বিয়ে হওয়ার পর তার ১ছেলে ও ১ মেয়ে হয়। পরে তার বউ অন্য কোথাও আবার বিয়ে করে । তারপরে জয়নাল আবার বিয়ের করে। আগে দুই নাতি-নাতনি সহ একসাথে খায় আমানুল্লাহ। কারণ দুই নাতি-নাতনি কে খাওয়ায় না জয়নাল। আমানুল্লাহ আগে ভেন চালাতেন। ভেন চালিয়েই ৫ মেয়ে ও ১ ছেলেকে লালন-পালন করে বড় করেন এবং বিয়ে দেন। ছেলের বিয়ে হওয়ার পরে ছেলে এবং ছেলের বউ আলাদা খেতে শুরু করে । তারপরও প্রায় ৫/৬ বছর ভেন চালিয়ে আয় করে খেতেন আমানুল্লাহ।

কিন্তু বয়স এবং অসুস্থতা তাকে যেন হার মানিয়েছে। এখন আর ভেন চালাতে পারেন না । হাঁপানি সহ নানান রোগে ভুগছেন ।হাঁপানি রোগের গ্যাস ইনহেলার ২৩০/২৫০ টাকা দাম সেটাও কেনার টাকা নেই তার কাছে।গ্যাস ব্যবহার না করলে হাঁপানি বেড়ে যায়। শ্বাসকষ্ট হয়। মেয়েরাও স্বামীর বাড়ি থেকে আর কত সাহায্য করবে৷

সরকারী ভাবে কোনো সুযোগ-সুবিধা পান কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বয়স্ক ভাতা পাই ৩ মাস পর ১৫০০ টাকা। মাসে ৫০০ টাকা পাই। কিন্তু বর্তমানে জিনিসপএের দাম বেড়ে গেছে। ৫০০ টাকা দিয়ে ৪ জন মানুষ (আমানুল্লাহ,জবেদা,সহ দুই নাতি-নাতনি) ১ মাস চলবে কিভাবে ? এ প্রশ্নের উওর দিতে পারেনি বরং তার দিকে তাকিয়ে চুপ করে থাকতে হয়েছিল প্রতিবেদক’কে। আমানুল্লাহ বলেন, বয়সের দ্বারপ্রান্তে এসে মানুষের কাছে টাকা উঠিয়ে খেতে খেতে হবে এটা আমার ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। যদি আমার শরীর স্বাস্থ্য ঠিক থাকত তাহলে ভেন চালিয়েই খেতাম৷ কিন্তু আমি এখন ঠিক মতো হাঁটতে পারিনা। তিনি আরো বলেন, সরকার গৃহহীন ভূমিহীনদেরকে ঘর করে দিচ্ছে, আমার তো টিনের বাড়ি আছে সেখানে থাকতে পারি। আমি কি সরকার কিংবা বিওবানদের কোনো সাহায্য পাব ?

স্থানীয়রা বলেন, তিনি অনেক দিন থেকে অসুস্থ । তার অসুস্থতার কারনে ঠিকমতো হাঁটতেও পারছেন না। সম্পদশালী ব্যক্তিরা এগিয়ে আসতে পারে ! যদি আপনাদের এই সম্পদ একটি অসহায় মানুষের কাজে না লাগে তাহলে ঔই সম্পদ দিয়ে কি হবে ? তিনি বয়স্ক ভাতা পান কিন্তু সেটা দিয়ে তারা ৪ জন মানুষ চলতে পারে না । সরকার গৃহহীন ও ভূমিহীন মুক্ত পঞ্চগড় জেলা ঘোষণা করছে৷ কিন্তু একজন বৃদ্ধ মানুষের ঔষধ ক্রয় করার টাকা নাই।জরুরি ভাবে এর স্থায়ী সমাধান করা দরকার ! সরকারী ভাবে আর কোনো সুযোগ-সুবিধা দিয়ে এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো যায় কিনা ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সহ সকলের সু-দৃষ্টি কামনা করেন স্থানীয় সুশীল সমাজ।