এখন ০৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোদাগাড়ীতে বেশী মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগ

মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল, গোদাগাড়ী রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি -ঃ ভরা রোপা-আমন মৌসুমে রাজশাহী গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেড়ে গেছে ইউরিয়া সারের দাম। সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশী দরে প্রতি বস্তায় ইউরিয়া সার বিক্রির অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগি কৃষকরা। বিভিন্ন এলাকার কৃষকের অভিযোগ, ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে ইউরিয়ার দাম বাড়িয়েছে। ঠিকমত কৃষি অফিসের মনিটারিং না থাকায় কৃষককে জিম্মি করে অবৈধ ভাবে এ সুয়োগ কাজে লাগাচ্ছে সার বিক্রেতারা। রোপা-আমন আবাদ বেশি বলে ইউরিয়া সারের চাহিদাও বেশি। এ কারণে ভরা মৌসুমে ইউরিয়ার দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটে অসাধূ ডিলার ও খুচরা সার ব্যবসায়ীরা।

এদিকে পানি সংকটের কারনে বোরো-আমন ধান চাষ নিয়ে বিপাকে পড়েছে এ অঞ্চরের কৃষকেরা। তারপরেও ভরা মৌসুমে ইউরিয়া সার কিনতে গুনতে হচ্ছে বেশী টাকা।

গোদাগাড়ীর কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডিলাররা সার তুলে খুচরা ব্যবসায়ীদের হাতে দিয়ে দিচ্ছে। আর খুচরা ব্যবসায়ীরা বস্তাপ্রতি ইউরিয়া সারে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে বেশি নিচ্ছে। উপজেলার পিরিজপুর গ্রামের কৃষক পিয়ারুল ইসলাম এ অভিযোগ করেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ২৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। অনাবৃষ্টির কারনে কিছুটা দেরী হলেও কিছুটা বৃষ্টি হওয়ায় এ অঞ্চলে চলছে পুরোদমে রোপা-আমন চাষ।

গোদাগাড়ীর পিরিজপুর গ্রামের কৃষক সাবেদ আলী তেনু বলেন, এখন আমনের ভরা মৌসুম। সারের চাহিদা বেশি। ৮০০ টাকার ইউরিয়ার বস্তা এখন ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এলাকার ডিলারদের দোকানে গেলে তারা বলছেন, সার নেই। খুচরা দোকানে যাও। খুচরা সার ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে বস্তায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে বেশি নিচ্ছে। সার কেনার পর রশিদ চাইলে সার বিক্রেতারা রশিদ দিচ্ছে না। রশিদের জন্য জোর দিলে সার বিক্রি করছে না। নিরুপাই হয়ে বেশী দামে সার কিনতে হচ্ছে।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন সুলতানা বলেন, সারের কোন সংকট নাই, ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের কারনে সময় মত সার আসতে একটু সময় লাগছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে খুচরা সার বিক্রেতারা। খুচরা সার বিক্রেতারা সার বিক্রি করতে পারবেনা। বিআইসি ডিলারদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। সরকারী দামে কৃষকরা বিআইসি ডিলারদের কাছ থেকে সার কিনবে। এতে যদি বিআইসি ডিলারদের কোন অনিয়ম পাওয়া যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। কৃষকদের খুচরা সার বিক্রেতার কাছে না গিয়ে বিআইসি ডিলারদের কাছে গিয়ে সার কেনার পরার্মশ দিয়েছেন এ কৃষিকর্মকর্তা।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

গোদাগাড়ীতে বেশী মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৪৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই ২০২২

মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল, গোদাগাড়ী রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি -ঃ ভরা রোপা-আমন মৌসুমে রাজশাহী গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেড়ে গেছে ইউরিয়া সারের দাম। সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশী দরে প্রতি বস্তায় ইউরিয়া সার বিক্রির অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগি কৃষকরা। বিভিন্ন এলাকার কৃষকের অভিযোগ, ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে ইউরিয়ার দাম বাড়িয়েছে। ঠিকমত কৃষি অফিসের মনিটারিং না থাকায় কৃষককে জিম্মি করে অবৈধ ভাবে এ সুয়োগ কাজে লাগাচ্ছে সার বিক্রেতারা। রোপা-আমন আবাদ বেশি বলে ইউরিয়া সারের চাহিদাও বেশি। এ কারণে ভরা মৌসুমে ইউরিয়ার দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটে অসাধূ ডিলার ও খুচরা সার ব্যবসায়ীরা।

এদিকে পানি সংকটের কারনে বোরো-আমন ধান চাষ নিয়ে বিপাকে পড়েছে এ অঞ্চরের কৃষকেরা। তারপরেও ভরা মৌসুমে ইউরিয়া সার কিনতে গুনতে হচ্ছে বেশী টাকা।

গোদাগাড়ীর কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডিলাররা সার তুলে খুচরা ব্যবসায়ীদের হাতে দিয়ে দিচ্ছে। আর খুচরা ব্যবসায়ীরা বস্তাপ্রতি ইউরিয়া সারে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে বেশি নিচ্ছে। উপজেলার পিরিজপুর গ্রামের কৃষক পিয়ারুল ইসলাম এ অভিযোগ করেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ২৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। অনাবৃষ্টির কারনে কিছুটা দেরী হলেও কিছুটা বৃষ্টি হওয়ায় এ অঞ্চলে চলছে পুরোদমে রোপা-আমন চাষ।

গোদাগাড়ীর পিরিজপুর গ্রামের কৃষক সাবেদ আলী তেনু বলেন, এখন আমনের ভরা মৌসুম। সারের চাহিদা বেশি। ৮০০ টাকার ইউরিয়ার বস্তা এখন ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এলাকার ডিলারদের দোকানে গেলে তারা বলছেন, সার নেই। খুচরা দোকানে যাও। খুচরা সার ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে বস্তায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে বেশি নিচ্ছে। সার কেনার পর রশিদ চাইলে সার বিক্রেতারা রশিদ দিচ্ছে না। রশিদের জন্য জোর দিলে সার বিক্রি করছে না। নিরুপাই হয়ে বেশী দামে সার কিনতে হচ্ছে।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন সুলতানা বলেন, সারের কোন সংকট নাই, ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের কারনে সময় মত সার আসতে একটু সময় লাগছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে খুচরা সার বিক্রেতারা। খুচরা সার বিক্রেতারা সার বিক্রি করতে পারবেনা। বিআইসি ডিলারদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। সরকারী দামে কৃষকরা বিআইসি ডিলারদের কাছ থেকে সার কিনবে। এতে যদি বিআইসি ডিলারদের কোন অনিয়ম পাওয়া যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। কৃষকদের খুচরা সার বিক্রেতার কাছে না গিয়ে বিআইসি ডিলারদের কাছে গিয়ে সার কেনার পরার্মশ দিয়েছেন এ কৃষিকর্মকর্তা।