লায়ন রাকেশ কুমার ঘোষ, স্টাফ রিপোর্টার, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) -ঃ আজ দুপুর ২২ জুলাই,২০২২ ইং রোজ শুক্রবার বাদ জুমআ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া পৌর শহরের দেবগ্রামে ৬ষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রীর বাল্য বিয়ে বন্ধ করলেন, আখাউড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার ( ভূমি ) শ্রী প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী৷
উল্লেখ্য যে, আজ অনুষ্ঠিতব্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার বাসুদেব ইউপির ঘাটিয়ারা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে, ইন্সুরেন্স ব্যবসায়ী আমিন খান ( ২৮ ) এর সাথে এ ছাত্রীর বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো৷ মেয়েটি মামা বাড়ি থেকে লেখা- পড়া চালাচ্ছিল৷ কিন্তু মা- বাবা দেশের আইন- কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্ক এ মেয়েটিকে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছিল৷
কিন্তু বিধি বাম, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আখাউড়া উপজেলার এসিল্যান্ড শ্রী প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী, আইনশৃংলা বাহিনী ও এলাকার সুশীল সমাজকে সাথে নিয়ে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে বরপক্ষকে নগদ ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার টাকা) অর্থ জরিমানা করে এবং মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোথাও বিয়ে দেয়া যাবে না এ মুচলেকায় মেয়েটিকে বাবার হাতে ও ছেলেকে ছেলের বৈধ অভিভাবকের হাতে তুলে দেন৷ এর মধ্যে ছেলের বাবাকে অনেক খোঁজাখুঁজির বক্তব্য নেয়ার জন্য পাওয়া যায় নি৷
মেয়ের অভিভাবকের বক্তব্য অনুযায়ী, আমরা না জেনে ভুল করেছি , এমন ভুল আর হবে না৷
দেবগ্রাম সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব, মাহফুজুর রহমান, সাংবাদিক কে বলেন, আমার স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির এ ছাত্রীর বাল্য বিয়ে শুনে আমি হতবম্ব হয়ে গেছি ৷ বাল্য বিয়ে তো দেশের আইনে মারাত্মক অপরাধ ৷ আমি এ বিয়ে বন্ধ হওয়ায় খুবই খুশি হয়েছি৷
জানতে চাইলে , আখাউড়া উপজেলার এসিল্যান্ড ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শ্রী প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী সাংবাদিক কে জানান, জেনে-শুনে বিয়ে করতে আসায় বরপক্ষকে বাল্যবিবাহ নিরোধক আইন, ২০০৫-১৭(৭) ধারা অনুসারে, মেয়ের বয়স অপ্রাপ্ত ও স্কুল ছাত্রী হওয়ায় নগদ ৫০,০০০ ( পঞ্চাশ হাজার টাকা ) জরিমানা করা হয়েছে ৷ ভবিষ্যতে যাতে কোন অভিভাবক জেনে- শুনে বাল্য বিয়ে না দেয় ও দেশের আইন অমাণ্য না করে সে ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে ৷













