এখন ০৩:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাল দলিল সৃষ্টি করে কবরস্থান বিক্রির পাঁয়তারা

আলিফ হোসেন, রাজশাহী প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালী পালপাড়া এলাকায় জাল দলিল সৃষ্টি করে কবরস্থান বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কাটাখালি পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আসাদ ও সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা আসগর আলী ভুমিগ্রাসী চক্রের যোগসাজশে এই অপকর্মটি হচ্ছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর পবা উপজেলার কাপাসিয়া মৌজার আরএস দাগ নম্বর- ৩০৬ জমির পরিমাণ- ০.০৯০০ একর কবরস্থানের নামে দান করে যান আঙ্গুরা বিবি নামে একজন নারী। কিন্তু ওই দানকৃত জমির উপরে নজর পড়ে পাশের টাঙ্গন এলাকার কাটাখালী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আসাদ এবং সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা আজগর আলীর। এলাকাবাসীর ভাষ্য, আজগর আলী ইতিমধ্যেই তাঁর স্ত্রী বিউটি আজগরের নামে একটি ভুয়া দলিল তৈরি করে দিয়েছেন। সেইসঙ্গে ওই জমির শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য ২০১৮ সালে একবার গোপনে পবা উপজেলা ভূমি অফিসে আবেদন করেন, যার প্রমাণ সাংবাদকর্মীদের কাছে রয়েছে। তবে ভূমি অফিস সরেজমিনে দেখে তা খারিজ করে দিয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় ৪৮ বছর আগে খতিয়ান নম্বর- ১৫২ , দাগ নম্বর- ৩০৬ জমির পরিমাণ- ৯ শতাংশ কবরস্থান থাকা ওই জমির মালিক ছিলেন আবেদ আলী ও উজির আলি। পরে ওয়ারিশ সূত্রে আরএস খতিয়ানমূলে এই জায়গার মালিকানা পান আঙ্গুরা বিবি। এরপর তিনি কবরস্থানের নামে জায়গাটি দান করে দেন।

জানা গেছে, কাটাখালীর পালপাড়া এলাকার কবরস্থানের এই ৯ শতাংশ জমিকে ভিটা হিসেবে দেখিয়ে ৫৫ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন আজগর আলী। স্থানীয়রা জানান, ইতোমধ্যে এই জমির বায়নাস্বরূপ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সাবেক কাটাখালী পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসাদের কাছে থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক কাউন্সিলর আসাদ ২০ লাখ টাকা বায়নার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘হ্যাঁ আজগরের সঙ্গে আমার ২০ লাখ টাকা বায়নাচুক্তি হয়েছে। জমি যে অবস্থায় আছে, সেই অবস্থাতেই ৫৫ লাখ টাকা মূল্যে ক্রয় করেছি। জায়গাটি কবরস্থান, বিষয়টি আপনার কি জানা নেই?’ এমন প্রশ্নে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিলো না।কবরস্থান বিক্রি সম্পর্কে জানতে চাইলে আজগর আলী দাবি করে বলেন, ‘বিষয়টি মোটেও সত্য না।’ পাশাপাশি তিনি দাবি করে বলেন, কবরস্থান বিক্রির জন্য তিনি কাউন্সিলর আসাদের কাছ থেকে কোনও ধরনের অর্থ নেন নি। এ বিষয়ে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লসমী চাকমা বলেন, বিষয়টি সাব রেজিস্ট্রারের বিষয়। তবে এ বিষয়ে যদি কেউ অভিযোগ দেয়, তবে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

জাল দলিল সৃষ্টি করে কবরস্থান বিক্রির পাঁয়তারা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:২২:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই ২০২২

আলিফ হোসেন, রাজশাহী প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালী পালপাড়া এলাকায় জাল দলিল সৃষ্টি করে কবরস্থান বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কাটাখালি পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আসাদ ও সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা আসগর আলী ভুমিগ্রাসী চক্রের যোগসাজশে এই অপকর্মটি হচ্ছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর পবা উপজেলার কাপাসিয়া মৌজার আরএস দাগ নম্বর- ৩০৬ জমির পরিমাণ- ০.০৯০০ একর কবরস্থানের নামে দান করে যান আঙ্গুরা বিবি নামে একজন নারী। কিন্তু ওই দানকৃত জমির উপরে নজর পড়ে পাশের টাঙ্গন এলাকার কাটাখালী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আসাদ এবং সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা আজগর আলীর। এলাকাবাসীর ভাষ্য, আজগর আলী ইতিমধ্যেই তাঁর স্ত্রী বিউটি আজগরের নামে একটি ভুয়া দলিল তৈরি করে দিয়েছেন। সেইসঙ্গে ওই জমির শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য ২০১৮ সালে একবার গোপনে পবা উপজেলা ভূমি অফিসে আবেদন করেন, যার প্রমাণ সাংবাদকর্মীদের কাছে রয়েছে। তবে ভূমি অফিস সরেজমিনে দেখে তা খারিজ করে দিয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় ৪৮ বছর আগে খতিয়ান নম্বর- ১৫২ , দাগ নম্বর- ৩০৬ জমির পরিমাণ- ৯ শতাংশ কবরস্থান থাকা ওই জমির মালিক ছিলেন আবেদ আলী ও উজির আলি। পরে ওয়ারিশ সূত্রে আরএস খতিয়ানমূলে এই জায়গার মালিকানা পান আঙ্গুরা বিবি। এরপর তিনি কবরস্থানের নামে জায়গাটি দান করে দেন।

জানা গেছে, কাটাখালীর পালপাড়া এলাকার কবরস্থানের এই ৯ শতাংশ জমিকে ভিটা হিসেবে দেখিয়ে ৫৫ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন আজগর আলী। স্থানীয়রা জানান, ইতোমধ্যে এই জমির বায়নাস্বরূপ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সাবেক কাটাখালী পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসাদের কাছে থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক কাউন্সিলর আসাদ ২০ লাখ টাকা বায়নার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘হ্যাঁ আজগরের সঙ্গে আমার ২০ লাখ টাকা বায়নাচুক্তি হয়েছে। জমি যে অবস্থায় আছে, সেই অবস্থাতেই ৫৫ লাখ টাকা মূল্যে ক্রয় করেছি। জায়গাটি কবরস্থান, বিষয়টি আপনার কি জানা নেই?’ এমন প্রশ্নে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিলো না।কবরস্থান বিক্রি সম্পর্কে জানতে চাইলে আজগর আলী দাবি করে বলেন, ‘বিষয়টি মোটেও সত্য না।’ পাশাপাশি তিনি দাবি করে বলেন, কবরস্থান বিক্রির জন্য তিনি কাউন্সিলর আসাদের কাছ থেকে কোনও ধরনের অর্থ নেন নি। এ বিষয়ে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লসমী চাকমা বলেন, বিষয়টি সাব রেজিস্ট্রারের বিষয়। তবে এ বিষয়ে যদি কেউ অভিযোগ দেয়, তবে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।