জামাল উদ্দিন, কুমিল্লা প্রতিনিধি -ঃ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ব্যবসায়ী আবদুর রশিদের বিক্রিকৃত জমির টাকা পরিশোধ না করে উল্টো চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে হয়রানী করছে স্টার লাইন গ্রুপের মালিক আলা উদ্দিন ও জাফর উদ্দিন। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য দুইজনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আবদুর রশিদ।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আবদুর রশিদ ১৯৯৫ সাল থেকে চৌদ্দগ্রাম এলাকায় সজিব ফাস্ট ফুড, রাজীব ফুড প্রোডাক্টস্ এবং নিউ ফুলকলি সুইটস্ নামে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। বাতিসা ইউনিয়নের আটগ্রাম এলাকার চন্ডিপুর মৌজায় তাঁর মালিকানাধীন ১২০ শতক জমি রয়েছে। ২০১১ সালে স্টার লাইন গ্রুপের মালিক পক্ষ জাফর উদ্দিন গং স্ব-ইচ্ছায় নগদ টাকায় তার জমি কিনতে ইচ্ছা প্রকাশ করে। এজন্য প্রতি শতক সাড়ে তিন লক্ষ টাকা হারে ১২০ শতক জমির মূল্য ৪ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় জাফর উদ্দিনের সাথে মৌখিক কথা হয়। একই বছর জাফর উদ্দিন গং আমি এবং কিছু বহিরাগত লোক নিয়ে জমির মাপ অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ১ জুলাই ফেনীতে ব্যবসায়ী আবদুর রশিদকে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার পর ১০০ টাকার খালি স্ট্যাম্পে আবদুর রশিদ থেকে স্বাক্ষর নেয় জাফর উদ্দিন গং। এছাড়াও আরও দুইটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় তারা। এ সময় সেখানে উপস্থিত কাউকে আবদুর রশিদ চিনতে পারেননি। জমি বিক্রির বাকি টাকা না পেয়ে আবদুর রশিদ জমিটি অন্যজনের কাছে বিক্রির চেষ্টা করে। তখন জাফর উদ্দিন গং তাতে বাধা দিয়ে দাবি করে-আবদুর রশিদকে সব টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে আবদুর রশিদ জমিটি আর কারও কাছে বিক্রি করতে পারেনি। অপরদিকে আবদুর রশিদ বিভিন্নজন থেকে নেয়া টাকা শোধ করতে পারছে না। প্রত্যেক মাসে পাওনাদারকে ৬ লক্ষ টাকার বেশি সুদ দিতে হয়। তখন বাধ্য হয়ে তিনি সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে পাওনাদারের কিছু টাকা পরিশোধ করে। এতে পাওনাদাররা ক্ষুব্দ হলে আবদুর রশিদ তাদেরকে কিছু চেক দেন। এরপর আবদুর রশিদ স্টার লাইন গ্রুপের পরিচালক জাফর উদ্দিনের দারস্থ হয়ে জমির বাকি টাকা দিতে বললে জাফর উদ্দিন বলেন-পাওনাদারদের লিস্ট দেয়ার জন্য। কিন্তু লিস্ট দেয়ার পর আবদুর রশিদকে কোন টাকা দেয়নি জাফর উদ্দিন। ২০১৪ সালের শেষ দিকে জাফর উদ্দিনের সাথে বৈঠকে বসেন আবদুর রশিদ। এ সময় জাফর উদ্দিন বলেন, জমিটি ক্রয় করা যাবে না এবং অন্যত্র বিক্রি করে দেয়ার জন্যও বলে। আবদুর রশিদ জমিটি প্লট হিসাবে বিক্রি করতে চাইলে পাওনাদারকে ৫ শতক করে জায়গা বাবদ ৩ কোটি টাকা প্রদান করেছে বলে ২ জন ভেন্ডার নিয়ে এসে দলিল তৈরি করে জোরপূর্বক রেজিষ্ট্রি নেয়ার চেষ্টা করে জাফর উদ্দিন গং। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের মে মাসে ডলি হোটেলে উক্ত বিষয় নিয়ে শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জাফর উদ্দিন তাঁর লোকজন নিয়ে জমির সাইনবোর্ড ও প্লট ভাঙার জন্য উপস্থিত লোকজনের সম্মুখে আবদুর রশিদকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিবে বলে মৌখিকভাবে আশ^স্ত করে। এরপর তিনি আবদুর রশিদকে ১৫ লক্ষ টাকা পরিশোধ করেন। জাফর উদ্দিন রেজিষ্ট্রি অফিস থেকে লোক নিয়ে এসে রাত ১২টার দিকে চৌদ্দগ্রাম ইসলামী ব্যাংকের ভিতরে ৭৫ লক্ষ টাকা পরিশোধ করে জোরপূর্বকভাবে ৬৮ শতক জমি রেজিষ্ট্রি করে নেয়। বাকি টাকা ১ সপ্তাহ পরে দিবে বলে চলে যায়। এরপর আর কোন টাকা পরিশোধ না করে উল্টো গত মে মাসে ব্যবসায়ী আবদুর রশিদের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা করে জাফর উদ্দিন গং। এ মামলায় ২৯ দিন জেলও খাটে ব্যবসায়ী আবদুর রশিদ।
এ ব্যাপারে স্টার লাইন গ্রুপের মালিক আলা উদ্দিন বলেন, ‘আবদুর রশিদ আমাদের কাছে তাঁর জমি বিক্রির কোন টাকা পাবে না। আমরা সব টাকা পরিশোধ করে দিয়েছি’।
অপরদিকে স্টার লাইন গ্রুপের পরিচালক জাফর উদ্দিন বলেন, ‘৬-৭ বছর আগে চৌদ্দগ্রাম ইসলামী ব্যাংক শাখায় আবদুর রশিদকে আমরা সব টাকা বুঝিয়ে দিয়েছি। হিসেব-নিকাশের পর বর্তমানে আমরা তার কাছে আরও ৩৩ লক্ষ টাকা পাবো। আবদুর রশিদ সেই টাকা দিব-দিচ্ছি বলে টালবাহানা করছে’।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তানভীর হোসেন সোমবার বলেন, ‘জমি আত্মসাতের অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিন তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।













