এখন ০৪:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তানোরে অবৈধ ক্লিনিকগুলো বন্ধ হবে কি ?

আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর তানোর ও তানোরের সীমান্ত সংলগ্ন আমনুরা, মান্দার চৌবাড়িয়াহাট এলাকায় একশ্রেণীর ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকগণ চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, অনেক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রোগীধরা ফাঁদ হিসেবে সুন্দরী কথিত সেবীকাদের ব্যবহার করা হচ্ছে, রয়েছে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ। এসবের পাশাপাশি তরুণ চিকিৎসক, দালাল ও রাজনৈতিক পরিচয়ের স্থানীয় হোমড়াচোমরাদের নারীসঙ্গ উপভোগ করানো হচ্ছে বলে আলোচনা রয়েছে। সম্প্রতি দেশব্যাপী অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান শুরু করেন স্বাস্থ্যবিভাগ।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারই ধারাবাহিকতায় মুন্ডুমালা পৌর এলাকায় অভিযানের সময় আসনারা এবং পদ্মা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও মুন্ডুমালা ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে তারা পালিয়ে যায়। এসময় অভিযান পরিচালনাকারী দল কাউকে না পেয়ে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্ত্ত অভিযান পরিচালনাকারি দল ফিরে আশার পর পরই তারা আবার প্রতিষ্ঠান খুলে চিকিৎসার নামে প্রতারণা শুরু করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, এসব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে ৮ থেকে ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নাম দিয়ে সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়েছে, তবে এসব চিকিৎসককে কেউ কখানো দেখেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, আসনারা ও পদ্মা ক্লিনিকের মালিক কর্মচারীরাই অপারেশন থেকে শুরু করে সবকিছু করে থাকেন এবং বিভিন্ন চিকিৎসকের পুর্বে স্বাক্ষরিত প্যাডে ওষুধ লিখে দেন। অথচ এদের বিরুদ্ধে বার বার অবিযোগ করা হলেও অজ্ঞাত কারণে স্থানীয় প্রশাসন নিরব ভুমিকা পালন করে চলেছেন।স্থানীয়রা এসব প্রতিষ্ঠান দ্রুত বন্ধের দাবি করেছেন। মুন্ডুমালা ইউপি স্বাস্থ্য-উপকেন্দ্রের কর্মকর্তা দুরুল হুদা বলেন, পদ্মা ও মুন্ডুমালা একেবারেই অবৈধ প্রতিষ্ঠান, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কেনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না তা বোধগম্য নয়। এবিষয়ে আসনারা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক সহিদুল ইসলাম জানান, টাকা থাকলে সব করা যায়। আমরা লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছি। সিভিল সার্জন অভিযান চালিয়ে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল তারপরও কিভাবে চলছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন যিনি অভিযান দিয়েছিল তাকেই জিজ্ঞেস করেন কেন চলছে। এবিষয়ে উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত (টিএইচএ) ডা,আব্দুল হাকিম বলেন আপনাদের সমস্যা কোথায়, তারা চালাচ্ছে বৈধ না অবৈধ কর্তৃপক্ষ দেখবেন, আপনারা লিখিত অভিযোগ দেন দেখা যাবে। এবিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা, আবু রায়হান মোহাম্মদ ফারুক জানান, ক্লিনিক বন্ধ থাকার কথা, আপনি নাকি পরে অনুমতি দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি জানান প্রশ্নই উঠেনা, বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে নদ্রুত ব্যবস্হা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

তানোরে অবৈধ ক্লিনিকগুলো বন্ধ হবে কি ?

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩৫:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ জুলাই ২০২২

আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর তানোর ও তানোরের সীমান্ত সংলগ্ন আমনুরা, মান্দার চৌবাড়িয়াহাট এলাকায় একশ্রেণীর ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকগণ চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, অনেক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রোগীধরা ফাঁদ হিসেবে সুন্দরী কথিত সেবীকাদের ব্যবহার করা হচ্ছে, রয়েছে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ। এসবের পাশাপাশি তরুণ চিকিৎসক, দালাল ও রাজনৈতিক পরিচয়ের স্থানীয় হোমড়াচোমরাদের নারীসঙ্গ উপভোগ করানো হচ্ছে বলে আলোচনা রয়েছে। সম্প্রতি দেশব্যাপী অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান শুরু করেন স্বাস্থ্যবিভাগ।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারই ধারাবাহিকতায় মুন্ডুমালা পৌর এলাকায় অভিযানের সময় আসনারা এবং পদ্মা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও মুন্ডুমালা ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে তারা পালিয়ে যায়। এসময় অভিযান পরিচালনাকারী দল কাউকে না পেয়ে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্ত্ত অভিযান পরিচালনাকারি দল ফিরে আশার পর পরই তারা আবার প্রতিষ্ঠান খুলে চিকিৎসার নামে প্রতারণা শুরু করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, এসব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে ৮ থেকে ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নাম দিয়ে সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়েছে, তবে এসব চিকিৎসককে কেউ কখানো দেখেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, আসনারা ও পদ্মা ক্লিনিকের মালিক কর্মচারীরাই অপারেশন থেকে শুরু করে সবকিছু করে থাকেন এবং বিভিন্ন চিকিৎসকের পুর্বে স্বাক্ষরিত প্যাডে ওষুধ লিখে দেন। অথচ এদের বিরুদ্ধে বার বার অবিযোগ করা হলেও অজ্ঞাত কারণে স্থানীয় প্রশাসন নিরব ভুমিকা পালন করে চলেছেন।স্থানীয়রা এসব প্রতিষ্ঠান দ্রুত বন্ধের দাবি করেছেন। মুন্ডুমালা ইউপি স্বাস্থ্য-উপকেন্দ্রের কর্মকর্তা দুরুল হুদা বলেন, পদ্মা ও মুন্ডুমালা একেবারেই অবৈধ প্রতিষ্ঠান, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কেনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না তা বোধগম্য নয়। এবিষয়ে আসনারা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক সহিদুল ইসলাম জানান, টাকা থাকলে সব করা যায়। আমরা লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছি। সিভিল সার্জন অভিযান চালিয়ে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল তারপরও কিভাবে চলছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন যিনি অভিযান দিয়েছিল তাকেই জিজ্ঞেস করেন কেন চলছে। এবিষয়ে উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত (টিএইচএ) ডা,আব্দুল হাকিম বলেন আপনাদের সমস্যা কোথায়, তারা চালাচ্ছে বৈধ না অবৈধ কর্তৃপক্ষ দেখবেন, আপনারা লিখিত অভিযোগ দেন দেখা যাবে। এবিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা, আবু রায়হান মোহাম্মদ ফারুক জানান, ক্লিনিক বন্ধ থাকার কথা, আপনি নাকি পরে অনুমতি দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি জানান প্রশ্নই উঠেনা, বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে নদ্রুত ব্যবস্হা নেওয়া হবে।