মোঃ আসাদুল ইসলাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি -ঃ সাদুল্লাপুর উপজেলায় বাবার রেখে যাওয়া মাত্র ৫ শতাংশ জমির উপরে গাদাগাদি করে ঘর তুলে ভুমিহীন ৬ ভাই স্ত্রী সন্তান নাতি নাতনি নিয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ঢাকার বস্তি এলাকার থেকেও এক নাজুক পরিবেশের মধ্যে বসবাস করছেন এসব পরিবার।
গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত এ পরিবারগুলোর জীর্ণশীর্ণ টিনশেডের ছোট কুটিরে বসবাসের বেহাল চিত্র। বিদ্যমান এপরিস্থিতিতে অসহায় পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যেন স্থবির হয়ে পড়ছে।
বর্তমান সরকার ভুমিহীনদের মাঝে জমি ও ঘর দিলেও এদের কারো ভাগ্যে জোটেনি সরকারের দেওয়া সেই সহায়তা।
জানা গেছে, উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের দশলিয়া গ্রামের মৃত হানিফ উদ্দিনের ৬ ছেলে খলিল মিয়া, হায়দার আলী, ছায়দার আলী,সাইদুর মিয়া,সাইফুল মিয়া ও ছায়েদ মিয়া এবারে ৩ মেয়ে হাজেরা বেগম, নাজমা বেগম ও কইতন বেগম। অভাব অনাটনের সংসারে ৬ ভাইয়ের মধ্যে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে কেউ ঢাকায় গিয়ে রিক্সাভ্যান চালান। আবার কেউ দিনমজুরী করে কোন ভাবে অতিকষ্টে সংসার চালান।
ভুক্তভোগিরা জানান,পৈত্রিকসুত্রে প্রাপ্ত ৫ শতাংশের বসতভিটায় ৬ ভাইয়ের স্ত্রী, সন্তান,নাতি নাতনী সহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জনের বসবাস। সারাদিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে বাড়িতে ফিরে একটু স্বস্তিতে ঘুমাতে পারিনা। কখন জানি ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়,।এমন আতঙ্কে আর সামান্য বৃষ্টিতে বিছানাপত্র ভিজে যাওয়ায় মাঝে মাঝে নির্ঘুম রাত কাটে।
স্থানীয়রা জানান,একসময় হানিফ উদ্দিনের জমাজমি সহ অনেক কিছুই ছিল। সাংসারিক অভাব অনাটন আর মেয়েদের বিয়ে দিয়ে তিনি একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েন।মৃত্যুকালীন সময় তিনি শুধু রেখে যান বসতভিটার ৫ শতাংশ জমি। ওই একটুকরা জমিতে ৬ ভাই পৃথক পৃথক ভাবে কোন রকমে মাথা গোজার ঠাঁই করে ছোট ছোট একটি করে টিনসেডের ঘর তুলে পরিবার পরিজন নিয়ে বাস করছেন। একমাত্র ওই শয়ন ঘরেই তাদের প্রাপ্তবয়স্ত ছেলেমেয়েদের নিয়ে ঘুমাতে হয়।এমতবস্থায় তাদের মলমমুত্র ত্যাগের কোন ব্যবস্থা না থাকায় কখনো খোলা আকাশের নীচে আবার কখনো গভীর রাতে শয়ন ঘরেই তাদের এসব সারতে হচ্ছে। শুধু তাই নয় রান্না করার মত তাদের আলাদা কোন ঘর নেই। এতে বিশেষ করে ঝড়বৃষ্টির দিনে রান্নাবান্না করা খুবই দুস্কর হয়ে পড়ে। অনেক সময় রান্না করার অভাবে তাদের অনাহারে দিন কেটে যায়। এছাড়া রয়েছে পানীয় জলেরও তীব্র সংকট।
হানিফ উদ্দিনের ২য় ছেলে হায়দার আলী হতাশাগ্রস্থ চিত্তে বলেন, টিউববয়েল বসার মতো জায়গা নেই।তারপরেও ছোট ভাই সাইফুল ইসলামের ঘরের বাহির কোনায় কোন রকমে একটা টিউবওয়েল বসিয়েছি। এতেও নানা সমস্যা। পানি নিস্কাসনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় পাশে গর্ত করতে হয়েছে। ওই গর্তে সারাদিনের জমানো পানি পরেরদিন সকালে বালতি দিয়ে অন্যত্র ফেলে দিয়ে আসতে হয়।
তার ছোট ভাই সাইফুল মিয়ার স্ত্রী আছমা বেগম অশ্রসজল নয়নে বলেন, কি কমো বাবা দুঃখের কথা জাগা জমি না থাকায় একটা ঘরোতে বিয়ের উপযুক্ত দুটা বেটিক নিয়া কিযে কষ্ট করি থাকি আল্লা মাবুদ ছাড়া কেউ জানেনা। দুটা বেটি লেখা করছিল খরচখালা চলবার না পায়া স্কুলত আর যাওয়া হয় না।শেখ হাসিনা এতো মানসক ঘর বাড়ি করি দেয় হামাক একনা বাড়িঘর করি দিলে খুব ভালো হলো হয়।
আরেক ভাই ছায়দার মিয়ার স্ত্রী বুলবুলি বেগম আবেগপ্লুত ভাবে বলেন, ছোট বেটাটা এবার ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিবে। ছোলটা খায়া না খায়া লেখাপড়া করতেছে। পড়ার মত তার একটা টেবিল পর্যন্ত নেই। সকাল সন্ধ্যা বিছনাত বসি বসি পড়ে। হামরা গরীব মানুষ।এতো কষ্ট করি সংসার চলাই তাও হামার দিকি চোখ তুলি দেখে না। এমন কি চেয়ারম্যান মেম্বররা হামাক কোন সাহায্যে করে না।
প্রতিবেশি আঃ রাজ্জাক বলেন, এই পরিবারগুলো যেভাবে বসবাস করে তা বলার মত ভাষা নেই। এভাবে মানুষ থাকে না।অসহায় পরিবারগুলোকে সরকারী ভাবে জমি ও ঘরবাড়ি করে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি জোর দাবি জানাচ্ছি।
নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গফুর আলী বলেন,এ বিষয়টি আমার জানা নেই। আর ঘরবাড়ি দেয়ার ব্যাপারে আমাদের কিছু করার নেই।তারপরেও ইউএনওর সাথে কথা বলে দেখি। ওনি যদি কোন ব্যবস্থা করতে পারেন।













