এখন ০৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভবন মালিকের গাফিলতিতে প্রাণ গেল শ্রমিকের, লাখ টাকায় রফাদফা

মিরু হাসান বাপ্পী, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি -ঃ বগুড়ার আদমদীঘিতে ভবন মালিকের গাফিলতির কারণে বিদুৎস্পৃষ্টে শিমুল হোসেন নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর গত শনিবার দুপুরে নিহতের পরিবারের সাথে ১ লক্ষ টাকায় রফাদফা করেছে একটি প্রভাবশালী মহল।

সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই থানায় ইউডি মামলা দায়েরের পর পরিবারের নিকট মৃতদেহ দাফনের অনুমতি দেয় পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শিমুল হোসেন উপজেলার ডহরপুর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে।

জানা যায়, উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের সাঁকোয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ইতালি প্রবাসী আব্দুর রশিদ বাবু। বেশ কিছুদিন থেকে তিনি মুরইল বাজারে তার নির্মাণাধীন ভবনের ৩য় তলার কাজ করছিলেন। ভবনের পাশ দিয়ে ঘেঁষা ছিল ৩৩ হাজার কেভি বিদ্যুতের তার। এ কারণে প্রাণের ঝুঁকি থাকা সত্বেও কিছু শ্রমিককে নির্মাণ কাজে লাগিয়েছেন ভবনের মালিক পক্ষ। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে কাজ করছিলেন শ্রমিক শিমুল হোসেন। এ সময় স্টিলের ফিতা দিয়ে মাপজোঁক করার সময় ভবন ঘেঁষে যাওয়া ওই ৩৩ হাজার কেভি বিদ্যুতের তারে স্পর্শ লেগে বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়র পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ভবন মালিকের অসতর্কতার কারণে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে ভবন মালিকের ভাই নূর মোহাম্মদ বলেন, বিল্ডিংয়ের কাজের সময় বৈদ্যুতিক তারে পাইপ আর নেট ব্যবহার করা হয়নি। তবে এটা একটি দুর্ঘটনা। নিহতের পরিবারের সাথে কথা হয়েছে। মীমাংসার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ লাখ টাকা এবং নিহতের মিলাদ মাহফিল করার জন্য আরো ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।

আদমদীঘি থানার উপ-পরিদর্শক হযরত আলী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করা হয়েছে। ভবনের ওপর বৈদ্যুতিক তারের পাশে কোনো রকম নিরাপত্তার (প্রোটেকশন) ব্যবস্থা ছিল না। অপরিকল্পিতভাবে বৈদ্যুতিক তার ঘেঁষে বাড়ী নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি। নিহতের পরিবার চাইলে আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারে।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, এঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মৃতদেহটি হন্তান্তর করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

ভবন মালিকের গাফিলতিতে প্রাণ গেল শ্রমিকের, লাখ টাকায় রফাদফা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:১৭:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুন ২০২২

মিরু হাসান বাপ্পী, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি -ঃ বগুড়ার আদমদীঘিতে ভবন মালিকের গাফিলতির কারণে বিদুৎস্পৃষ্টে শিমুল হোসেন নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর গত শনিবার দুপুরে নিহতের পরিবারের সাথে ১ লক্ষ টাকায় রফাদফা করেছে একটি প্রভাবশালী মহল।

সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই থানায় ইউডি মামলা দায়েরের পর পরিবারের নিকট মৃতদেহ দাফনের অনুমতি দেয় পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শিমুল হোসেন উপজেলার ডহরপুর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে।

জানা যায়, উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের সাঁকোয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ইতালি প্রবাসী আব্দুর রশিদ বাবু। বেশ কিছুদিন থেকে তিনি মুরইল বাজারে তার নির্মাণাধীন ভবনের ৩য় তলার কাজ করছিলেন। ভবনের পাশ দিয়ে ঘেঁষা ছিল ৩৩ হাজার কেভি বিদ্যুতের তার। এ কারণে প্রাণের ঝুঁকি থাকা সত্বেও কিছু শ্রমিককে নির্মাণ কাজে লাগিয়েছেন ভবনের মালিক পক্ষ। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে কাজ করছিলেন শ্রমিক শিমুল হোসেন। এ সময় স্টিলের ফিতা দিয়ে মাপজোঁক করার সময় ভবন ঘেঁষে যাওয়া ওই ৩৩ হাজার কেভি বিদ্যুতের তারে স্পর্শ লেগে বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়র পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ভবন মালিকের অসতর্কতার কারণে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে ভবন মালিকের ভাই নূর মোহাম্মদ বলেন, বিল্ডিংয়ের কাজের সময় বৈদ্যুতিক তারে পাইপ আর নেট ব্যবহার করা হয়নি। তবে এটা একটি দুর্ঘটনা। নিহতের পরিবারের সাথে কথা হয়েছে। মীমাংসার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ লাখ টাকা এবং নিহতের মিলাদ মাহফিল করার জন্য আরো ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।

আদমদীঘি থানার উপ-পরিদর্শক হযরত আলী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করা হয়েছে। ভবনের ওপর বৈদ্যুতিক তারের পাশে কোনো রকম নিরাপত্তার (প্রোটেকশন) ব্যবস্থা ছিল না। অপরিকল্পিতভাবে বৈদ্যুতিক তার ঘেঁষে বাড়ী নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি। নিহতের পরিবার চাইলে আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারে।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, এঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মৃতদেহটি হন্তান্তর করা হয়েছে।