এখন ০৫:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, মৃত্যু নিয়ে রহস্য

মিরু হাসান বাপ্পী, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি -ঃ বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে সাদিয়া আক্তার মেহা (১৮) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দীন।

শনিবার (১৮ জুন) রাত ৮টায় উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের পশ্চিম ছাতনী গ্রামে গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করছে গৃহবধূর স্বামীর পরিবার। তবে গৃহবধূর বাবার দাবি তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত জানুয়ারি মাসে পারিবারিকভাবে উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের ছাতনী গ্রামের মৃধাপাড়ার আলাউদ্দিনের ছেলে শ্যামল হোসেনের সাথে একই গ্রামের পাঁচভাগা পাড়া মহল্লার টিটু হোসেনের মেয়ে সাদিয়া আক্তার মেহার বিয়ে হয়।

বিয়ের দুই মাস পর যৌতুকের টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কলহের সৃষ্টি হয়। এরপর মেহার বাবা টিটু এনজিও (সমিতি) থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে যৌতুকের টাকা পরিশোধ করেন। এরপরও মেহার স্বামী শ্যামল আরও এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। সেই যৌতুকের জেরে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মাঝে কলহ লেগেই থাকতো। এমনকি মেহাকে তার বাবার বাড়ির কারও সাথে ফোনে কথাও বলতে দেওয়া হতো না। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে মেহাকে নির্যাতন করে তার স্বামী। এক পযার্য়ে শনিবার রাত ৮টায় অভিমান করে শয়ন ঘরে বাঁশের তীরের সাথে গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে বলে দাবি করে গৃহবধূর শাশুড়ি।

অপরদিকে, নিহতের বাবা টিটু হোসেনের দাবি তার মেয়েকে যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। কৌশলে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা হত্যাকে ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যার ঘটনা সাজিয়েছে।

লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দীন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। রবিবার দুপুরে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে সঠিক কারণ জানা যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, মৃত্যু নিয়ে রহস্য

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুন ২০২২

মিরু হাসান বাপ্পী, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি -ঃ বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে সাদিয়া আক্তার মেহা (১৮) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দীন।

শনিবার (১৮ জুন) রাত ৮টায় উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের পশ্চিম ছাতনী গ্রামে গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করছে গৃহবধূর স্বামীর পরিবার। তবে গৃহবধূর বাবার দাবি তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত জানুয়ারি মাসে পারিবারিকভাবে উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের ছাতনী গ্রামের মৃধাপাড়ার আলাউদ্দিনের ছেলে শ্যামল হোসেনের সাথে একই গ্রামের পাঁচভাগা পাড়া মহল্লার টিটু হোসেনের মেয়ে সাদিয়া আক্তার মেহার বিয়ে হয়।

বিয়ের দুই মাস পর যৌতুকের টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কলহের সৃষ্টি হয়। এরপর মেহার বাবা টিটু এনজিও (সমিতি) থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে যৌতুকের টাকা পরিশোধ করেন। এরপরও মেহার স্বামী শ্যামল আরও এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। সেই যৌতুকের জেরে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মাঝে কলহ লেগেই থাকতো। এমনকি মেহাকে তার বাবার বাড়ির কারও সাথে ফোনে কথাও বলতে দেওয়া হতো না। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে মেহাকে নির্যাতন করে তার স্বামী। এক পযার্য়ে শনিবার রাত ৮টায় অভিমান করে শয়ন ঘরে বাঁশের তীরের সাথে গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে বলে দাবি করে গৃহবধূর শাশুড়ি।

অপরদিকে, নিহতের বাবা টিটু হোসেনের দাবি তার মেয়েকে যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। কৌশলে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা হত্যাকে ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যার ঘটনা সাজিয়েছে।

লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দীন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। রবিবার দুপুরে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে সঠিক কারণ জানা যাবে।