এখন ০৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে অবৈধভাবে পুকুর ভরাট

রাজশাহীতে অবৈধভাবে পুকুর ভরাট
তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
রাজশাহী নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ছোটবনগ্রাম পশ্চিমপাড়া মহল্লার ছোট বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় নীতিমালা লঙ্ঘন করে চলছে অবৈধ পুকুর ভরাট। গতকাল গণমাধ্যম কর্মীরা পুকুর ভরাটের ছবি নিতে গিয়ে তাদের ক্যাডার বাহিনীর রোষানলে পড়েন। গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে ক্যাডার বাহিনীর অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকি-ধামকির মুখে গণমাধ্যম কর্মীদের ফিরে আসতে হয়। এবিষয়ে রাসিকের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম সুমনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ওই পুকুর ভরাট করছে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনার, আর পুকুর ভরাট করা যাবে না এমন কোন আইন তার জানা নাই, তাকে সিটি কর্পোরেশন থেকেও বলা হয়নি যে, পুকুর ভরাটে বাধা দিতে হবে। তিনি বলেন, জায়গাটির শ্রেনি হিসেবে পুকুর নয়, মাঠাল আছে, তবে তিনি শিকার করেছেন, বর্তমানে হরহামেশাই জমির শ্রেনি পরিবর্তন করা যায়।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, বিগত ২০০০ সালের জলাশয় সংরক্ষণ আইনের এর ২ (চ) ধারায় প্রাকৃতিক জলাশয়ের সংজ্ঞাভুক্ত করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত মামলার রায় পাওয়ার এক বছরের মধ্যে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সচিবকে এ আদেশটি বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। উক্ত গেজেটে উল্লেখ থাকে, কোন ব্যক্তি মালিকানা পুকুরও চাইলেই ভরাট করা যাবে না। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের এ সংক্রান্ত রায় প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে রুল শুনানিতে অ্যাডেভোকেট মনজিল মোরশেদ আদালতকে বলেন, পরিবেশ আইন-১৯৯৫ ও জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ এর বিধান অনুসারে যে কোনও জলাশয় ভরাট নিষিদ্ধ এবং ব্যক্তিগত পুকুর হলেও তা জলাধারের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তা ভরাট করা যাবে না। কিন্তু এই বিধি নিষেধ আইনকে আড়াল করতে নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে উল্লেখিত জমির শ্রেনী পরিবর্তন করা হয়েছে এমনটায় দাবী স্থানীয় কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমনের। স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্যাডার বাহিনীর ক্ষমতায় নির্দ্বিধায় চালিয়ে যাচ্ছে পুকুর ভরাটের কাজ। অথচ পুকুরটি ভরাট হলে পুকুুুর পাড়ের
অসংখ্য বসত-বাড়ির পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্থ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। যে কারণে পুকুর ভরাট বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার অসহায় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে

জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন ছোট বনগ্রাম (পশ্চিম পাড়ায়) যে অবৈধ পুকুর ভরাট চলছে, এর মুলহোতা রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন (আনার)। স্বল্পদিনের ব্যবধানে ক্রয় সুত্রে প্রায় দুই বিঘা আয়তনের পুকুরটির মুল মালিক হয়েছেন আনোয়ার হোসেন আনার দিগর। অথচ পুকুরটি দীর্ঘ ৫০ বছর যাবত এলাকার পরিবেশে ভারসাম্য রক্ষায় অগ্রণী ভুমিকা রেখে চলেছে। ইতমধ্যে পুকুরের প্রায় ৯০ ভাগ ভরাট করা হয়েছে। এলাকার ভুক্তভোগীসহ নগরীর সচেতন মহলের দাবী দ্রুতই এই অবৈধ পুকুর ভরাট বন্ধ করে পুনঃরায় খনন করা হোক।এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইমরানুল হক বলেন, সিটি কর্পোরেশনের ভিতরে পুকুর ভরাটের বিধিনিষেধ আছে এবং সংরক্ষণের নিয়ম রয়েছে। এছাড়াও নগরীর ২২টি পুকুর সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহন করেছে রাসিক। পুকুর ভরাট হলে অবশ্যই জলবায়ু দূষনে প্রভাব পড়বে। আমি বিষয়টি দেখছি। এবিষয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট ফয়সাল রায়হান বলেন, এবিষয়ে আইনে বন্ধের নির্দেশনা আছে, আমি এখনই লোক পাঠাচ্ছি, দেখে ব্যবস্থা নিব।এ বিষয়ে কথা বলতে রাসিকের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন আনার বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে কোন নিউজ করার দরকার নাই। সন্ধ্যায় আমার চেম্বারে আসেন সাক্ষাতে কথা হবে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

রাজশাহীতে অবৈধভাবে পুকুর ভরাট

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:১৮:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুন ২০২২

রাজশাহীতে অবৈধভাবে পুকুর ভরাট
তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
রাজশাহী নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ছোটবনগ্রাম পশ্চিমপাড়া মহল্লার ছোট বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় নীতিমালা লঙ্ঘন করে চলছে অবৈধ পুকুর ভরাট। গতকাল গণমাধ্যম কর্মীরা পুকুর ভরাটের ছবি নিতে গিয়ে তাদের ক্যাডার বাহিনীর রোষানলে পড়েন। গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে ক্যাডার বাহিনীর অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকি-ধামকির মুখে গণমাধ্যম কর্মীদের ফিরে আসতে হয়। এবিষয়ে রাসিকের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম সুমনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ওই পুকুর ভরাট করছে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনার, আর পুকুর ভরাট করা যাবে না এমন কোন আইন তার জানা নাই, তাকে সিটি কর্পোরেশন থেকেও বলা হয়নি যে, পুকুর ভরাটে বাধা দিতে হবে। তিনি বলেন, জায়গাটির শ্রেনি হিসেবে পুকুর নয়, মাঠাল আছে, তবে তিনি শিকার করেছেন, বর্তমানে হরহামেশাই জমির শ্রেনি পরিবর্তন করা যায়।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, বিগত ২০০০ সালের জলাশয় সংরক্ষণ আইনের এর ২ (চ) ধারায় প্রাকৃতিক জলাশয়ের সংজ্ঞাভুক্ত করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত মামলার রায় পাওয়ার এক বছরের মধ্যে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সচিবকে এ আদেশটি বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। উক্ত গেজেটে উল্লেখ থাকে, কোন ব্যক্তি মালিকানা পুকুরও চাইলেই ভরাট করা যাবে না। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের এ সংক্রান্ত রায় প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে রুল শুনানিতে অ্যাডেভোকেট মনজিল মোরশেদ আদালতকে বলেন, পরিবেশ আইন-১৯৯৫ ও জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ এর বিধান অনুসারে যে কোনও জলাশয় ভরাট নিষিদ্ধ এবং ব্যক্তিগত পুকুর হলেও তা জলাধারের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তা ভরাট করা যাবে না। কিন্তু এই বিধি নিষেধ আইনকে আড়াল করতে নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে উল্লেখিত জমির শ্রেনী পরিবর্তন করা হয়েছে এমনটায় দাবী স্থানীয় কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমনের। স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্যাডার বাহিনীর ক্ষমতায় নির্দ্বিধায় চালিয়ে যাচ্ছে পুকুর ভরাটের কাজ। অথচ পুকুরটি ভরাট হলে পুকুুুর পাড়ের
অসংখ্য বসত-বাড়ির পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্থ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। যে কারণে পুকুর ভরাট বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার অসহায় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে

জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন ছোট বনগ্রাম (পশ্চিম পাড়ায়) যে অবৈধ পুকুর ভরাট চলছে, এর মুলহোতা রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন (আনার)। স্বল্পদিনের ব্যবধানে ক্রয় সুত্রে প্রায় দুই বিঘা আয়তনের পুকুরটির মুল মালিক হয়েছেন আনোয়ার হোসেন আনার দিগর। অথচ পুকুরটি দীর্ঘ ৫০ বছর যাবত এলাকার পরিবেশে ভারসাম্য রক্ষায় অগ্রণী ভুমিকা রেখে চলেছে। ইতমধ্যে পুকুরের প্রায় ৯০ ভাগ ভরাট করা হয়েছে। এলাকার ভুক্তভোগীসহ নগরীর সচেতন মহলের দাবী দ্রুতই এই অবৈধ পুকুর ভরাট বন্ধ করে পুনঃরায় খনন করা হোক।এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইমরানুল হক বলেন, সিটি কর্পোরেশনের ভিতরে পুকুর ভরাটের বিধিনিষেধ আছে এবং সংরক্ষণের নিয়ম রয়েছে। এছাড়াও নগরীর ২২টি পুকুর সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহন করেছে রাসিক। পুকুর ভরাট হলে অবশ্যই জলবায়ু দূষনে প্রভাব পড়বে। আমি বিষয়টি দেখছি। এবিষয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট ফয়সাল রায়হান বলেন, এবিষয়ে আইনে বন্ধের নির্দেশনা আছে, আমি এখনই লোক পাঠাচ্ছি, দেখে ব্যবস্থা নিব।এ বিষয়ে কথা বলতে রাসিকের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন আনার বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে কোন নিউজ করার দরকার নাই। সন্ধ্যায় আমার চেম্বারে আসেন সাক্ষাতে কথা হবে।