এখন ০৩:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডুমুরিয়ায় আশ্রয়ন-২ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে তৈরি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর

জাহাঙ্গীর আলম মুকুল, নিজস্ব প্রতিবেদক -ঃ ডুমুুরিয়া উপজেলার বরাতিয়া ভদ্রানদীর পাড়ে ভূমিহীনদের জন্য আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর অধীনে নির্মিত হচ্ছে ঘর। এই ঘর তৈরিতে ব্যাবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী। যেখানে ঘর নির্মানে সার্বিক তত্বাবধান করছেন খোদ উপজেলা প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিলে জানাযায়, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় উপজেলাতে ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত হচ্ছে ২ শতক জমি সহ সেমি পাকা ঘর।

তৃতীয় ধাপে উপজেলার মোট ১৬৫ জন ভূমিহীন এই ঘর পাবে। এরমধ্যে ৬৫ জনকে ঘর বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে । শুরু হয়েছে বাকী ১০০ টি ঘরের কাজ ।

প্রত্যেকটি ঘরের জন্য নির্মান ব্যায় ধরা হয়েছে ২,৫৯৫০০ টাকা। বর্তমানে শুরু হওয়া ঘরের কাজে ব্যাবহৃত হচ্ছে নিম্নমানের ইট খোঁয়া সহ নির্মান সামগ্রী।

গ্রেটভীম ঢালাইয়ের দিন সরেজমিনে গেলে পি আইও অফিসের কার্য সহকারী মোঃ রিপন মিয়াকে দেখা যায়। তিনি বলেন ঢালাই কাজ দেখার জন্য আসছেন পরবর্তীতে তাকে খোঁয়া বালু ও সিমেন্টের আনুপাতিক হার জানতে চাইলে তিনি জানেন না বলে জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ইউএনও স্যার পাঠাইছে আমি আসছি। কর্মরত শ্রমিকদের কছে জানতে চাইলে বলেন ইউ এনও স্যার যে জিনিস পাঠাইছে আমরা সেই জিনিস দিয়েই কাজ করছি। এমনকি অনেকে বলেন আমরা স্যারকে বলেছি কিন্তু কোন গুরুত্ব দেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শ্রমিক বলেন প্রথমে ৩ ইঞ্চি সিসি ঢালাই দেয়ার কথা থাকলেও ঢালাই ঠিকমত দেয়নি। এমনকি কোথাও কোথাও ১ থেকে ২ ইঞ্চি ঢালাই দিয়েছে দুই একটাতে ঢালাই দেয়নি। তারপর ১৫ ইঞ্চি গাথুনি থাকার কথা থাকলেও সেখানে ঠিকমত দেয়নি। নির্মান সামগ্রীর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন ব্যাবহৃত ইট ভালোনা এমনকি খোঁয়া গুলো ব্যাবহার করেছে ২ নং ইটের । খারাপ ইটের ব্যাপারে কতৃপক্ষকে জানিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আমরা বলেছি কিন্তু ইউ এনও স্যার গুরুত্ব দেয়নি।

স্থানীয় অনেকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর যদি নির্মান হয় নিন্মমানের দ্রব্য সামগ্রী দিয়ে তাহলে অন্যান্য জায়গায় কাজ কেমনে ভালো হবে বলে প্রশ্ন তোলেন। এসব খারাপ ইট দিয়ে ঘর করলে এই ঘরে বসবাস করা ঝুঁকি হবে বলেও জানান। এবিষয় নিয়ে কথা বললে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আসিফ রহমান বলেন,আমি ওভার টেলিফোনে কোন বক্তব্য দেইনা আমার দপ্তরে আসেন প্রমান দেখান তারপর লিখিত বক্তব্য দিবো। পরবর্তীতে কথা বললে জেলা প্রশাসক (খুলনা) মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার  বলেন, নিম্নমানের ইট ব্যাবহারের কোন সুযোগ নেই,অবশ্যই যাচাই করে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

ডুমুরিয়ায় আশ্রয়ন-২ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে তৈরি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:১২:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুন ২০২২

জাহাঙ্গীর আলম মুকুল, নিজস্ব প্রতিবেদক -ঃ ডুমুুরিয়া উপজেলার বরাতিয়া ভদ্রানদীর পাড়ে ভূমিহীনদের জন্য আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর অধীনে নির্মিত হচ্ছে ঘর। এই ঘর তৈরিতে ব্যাবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী। যেখানে ঘর নির্মানে সার্বিক তত্বাবধান করছেন খোদ উপজেলা প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিলে জানাযায়, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় উপজেলাতে ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত হচ্ছে ২ শতক জমি সহ সেমি পাকা ঘর।

তৃতীয় ধাপে উপজেলার মোট ১৬৫ জন ভূমিহীন এই ঘর পাবে। এরমধ্যে ৬৫ জনকে ঘর বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে । শুরু হয়েছে বাকী ১০০ টি ঘরের কাজ ।

প্রত্যেকটি ঘরের জন্য নির্মান ব্যায় ধরা হয়েছে ২,৫৯৫০০ টাকা। বর্তমানে শুরু হওয়া ঘরের কাজে ব্যাবহৃত হচ্ছে নিম্নমানের ইট খোঁয়া সহ নির্মান সামগ্রী।

গ্রেটভীম ঢালাইয়ের দিন সরেজমিনে গেলে পি আইও অফিসের কার্য সহকারী মোঃ রিপন মিয়াকে দেখা যায়। তিনি বলেন ঢালাই কাজ দেখার জন্য আসছেন পরবর্তীতে তাকে খোঁয়া বালু ও সিমেন্টের আনুপাতিক হার জানতে চাইলে তিনি জানেন না বলে জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ইউএনও স্যার পাঠাইছে আমি আসছি। কর্মরত শ্রমিকদের কছে জানতে চাইলে বলেন ইউ এনও স্যার যে জিনিস পাঠাইছে আমরা সেই জিনিস দিয়েই কাজ করছি। এমনকি অনেকে বলেন আমরা স্যারকে বলেছি কিন্তু কোন গুরুত্ব দেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শ্রমিক বলেন প্রথমে ৩ ইঞ্চি সিসি ঢালাই দেয়ার কথা থাকলেও ঢালাই ঠিকমত দেয়নি। এমনকি কোথাও কোথাও ১ থেকে ২ ইঞ্চি ঢালাই দিয়েছে দুই একটাতে ঢালাই দেয়নি। তারপর ১৫ ইঞ্চি গাথুনি থাকার কথা থাকলেও সেখানে ঠিকমত দেয়নি। নির্মান সামগ্রীর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন ব্যাবহৃত ইট ভালোনা এমনকি খোঁয়া গুলো ব্যাবহার করেছে ২ নং ইটের । খারাপ ইটের ব্যাপারে কতৃপক্ষকে জানিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আমরা বলেছি কিন্তু ইউ এনও স্যার গুরুত্ব দেয়নি।

স্থানীয় অনেকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর যদি নির্মান হয় নিন্মমানের দ্রব্য সামগ্রী দিয়ে তাহলে অন্যান্য জায়গায় কাজ কেমনে ভালো হবে বলে প্রশ্ন তোলেন। এসব খারাপ ইট দিয়ে ঘর করলে এই ঘরে বসবাস করা ঝুঁকি হবে বলেও জানান। এবিষয় নিয়ে কথা বললে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আসিফ রহমান বলেন,আমি ওভার টেলিফোনে কোন বক্তব্য দেইনা আমার দপ্তরে আসেন প্রমান দেখান তারপর লিখিত বক্তব্য দিবো। পরবর্তীতে কথা বললে জেলা প্রশাসক (খুলনা) মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার  বলেন, নিম্নমানের ইট ব্যাবহারের কোন সুযোগ নেই,অবশ্যই যাচাই করে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।