এখন ০৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তানোরে প্রবেশপত্র আটকে বাণিজ্যে

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোরের তালন্দ ইউপির নারায়নপুর দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আটকিয়ে পরীক্ষার্থীদের কাছে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিভাবক মহল ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আলীর নির্দেশে প্রবেশপত্র প্রতি ৪০০ টাকা ও বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য ২৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিভাবক বলেন, প্রবেশপত্র বিতরণে ৩৩ জন পরিক্ষার্থীর কাছে থেকে ৪০০ টাকা করে ১৩ হাজার ২০০ টাকা এবং বিদায় অনুষ্ঠানে ২৫০ টাকা করে ৮ হাজার ২৫০ টাকা, মোট ২১ হাজার ৪৫০ টাকার চাঁদাবাজি করেছে প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন।
জানা গেছে, আগামী ১৯ জুন রোববার থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল, তবে বন্যার জন্য সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান,এসএসসি
পরীক্ষার ফরম পুরনের মানবিক বিভাগে এক হাজার ৯০০ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগে দুই হাজার ৩০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। তাদের বিদ্যালয় থেকে এবছর ৩৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেবে। এবিষয়ে নারায়নপুর দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আলী টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, অনেকে ফরম পুরনের সময় টাকা কম দেয় এ জন্য প্রবেশপত্র দেওয়ার সময় ৪০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। বিদায় অনুষ্ঠানের নামে ২৫০ টাকা এবং প্রবেশপত্রের জন্য ৪০০ টাকা নিতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য এটা কেন আরো টাকা আদায় করার নিয়ম আছে। আমি বানিজ্য করিনি আমার সম্পদ কি কম আছে, আর বিদায় অনুষ্ঠান করতে টাকা খরচ হবে কে দিবে এ জন্য চাঁদা নেওয়া হয়েছে, স্কুল হওয়ার পর থেকে এভাবেই চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, মহামারী করোনা ভাইরাসের জন্য বিগত দু বছর পরীক্ষা বা স্কুল কিছুই চলেনি। তারা বলেন, কৃষি প্রধান এলাকা হওয়ায় অনেক দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে,তাদের কাছে থেকেও টাকা আদায় করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমানের ব্যক্তিগত (০১৭১২-১৯২৯২৭) মুঠো ফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পংকজ চন্দ্র দেবনাথ জানান বিষয়টা অজানা, তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্হা নেওয়া হবে। এবিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন জানান এডমিড কার্ডের জন্য টাকা নেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। যদি নিয়ে থাকে প্রমাণ হলে কঠোর ব্যবস্হা নেওয়া হবে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

তানোরে প্রবেশপত্র আটকে বাণিজ্যে

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:২৩:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুন ২০২২

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোরের তালন্দ ইউপির নারায়নপুর দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আটকিয়ে পরীক্ষার্থীদের কাছে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিভাবক মহল ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আলীর নির্দেশে প্রবেশপত্র প্রতি ৪০০ টাকা ও বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য ২৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিভাবক বলেন, প্রবেশপত্র বিতরণে ৩৩ জন পরিক্ষার্থীর কাছে থেকে ৪০০ টাকা করে ১৩ হাজার ২০০ টাকা এবং বিদায় অনুষ্ঠানে ২৫০ টাকা করে ৮ হাজার ২৫০ টাকা, মোট ২১ হাজার ৪৫০ টাকার চাঁদাবাজি করেছে প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন।
জানা গেছে, আগামী ১৯ জুন রোববার থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল, তবে বন্যার জন্য সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান,এসএসসি
পরীক্ষার ফরম পুরনের মানবিক বিভাগে এক হাজার ৯০০ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগে দুই হাজার ৩০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। তাদের বিদ্যালয় থেকে এবছর ৩৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেবে। এবিষয়ে নারায়নপুর দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আলী টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, অনেকে ফরম পুরনের সময় টাকা কম দেয় এ জন্য প্রবেশপত্র দেওয়ার সময় ৪০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। বিদায় অনুষ্ঠানের নামে ২৫০ টাকা এবং প্রবেশপত্রের জন্য ৪০০ টাকা নিতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য এটা কেন আরো টাকা আদায় করার নিয়ম আছে। আমি বানিজ্য করিনি আমার সম্পদ কি কম আছে, আর বিদায় অনুষ্ঠান করতে টাকা খরচ হবে কে দিবে এ জন্য চাঁদা নেওয়া হয়েছে, স্কুল হওয়ার পর থেকে এভাবেই চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, মহামারী করোনা ভাইরাসের জন্য বিগত দু বছর পরীক্ষা বা স্কুল কিছুই চলেনি। তারা বলেন, কৃষি প্রধান এলাকা হওয়ায় অনেক দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে,তাদের কাছে থেকেও টাকা আদায় করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমানের ব্যক্তিগত (০১৭১২-১৯২৯২৭) মুঠো ফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পংকজ চন্দ্র দেবনাথ জানান বিষয়টা অজানা, তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্হা নেওয়া হবে। এবিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন জানান এডমিড কার্ডের জন্য টাকা নেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। যদি নিয়ে থাকে প্রমাণ হলে কঠোর ব্যবস্হা নেওয়া হবে।