এখন ০৩:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তানোর শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।জানা গেছে,বিগত ২০১৮ সালে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারি কল্যান সমিতি গঠন করা হয়।কিন্ত্ত সভাপতি ও সম্পাদকের নানামুখী অনিয়মের কারণে, যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমিতি গঠন করা হয়েছিল তার সিংহভাগ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে সমিতি।
স্থানীয় অভিভাবক মহলের অভিযোগ, বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে নিম্নমাণের অপাঠ্য বই পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্তি করেছে। অন্যদিকে সেই বইয়ের বাজার ধরে রাখতে সমিতির তৈরী মানহীন নিম্নমাণের প্রশ্নপত্র স্কুলগুলোতে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এসব প্রশ্নপত্র নিয়ে শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরাও বিব্রত। সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকরা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিজেরা প্রণয়ন না করে সমিতির প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নিচ্ছেন যা চাকরিবিধিমালা পরিপন্থী। সুত্র জানায়, সমিতি গাইড বই দেখে এসব প্রশ্ন তৈরি করেছে, অথচ গাইড ও নোটবইয়ের দাপট কমাতে এই পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।এতে শিক্ষক নেতাদের পকেটভারী হলেও শিক্ষার্থীরা মেধা শূণ্য হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলায় মাধ্যমিক স্তরের প্রায় ৬৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার মধ্যে উপজেলা শিক্ষক সমিতিতে ৫৩টি স্কুল রয়েছে। এসব স্কুলে গত জুন থেকে
অর্ধ-বার্ষিকী পরীক্ষা শুরু হয়েছে।কিন্ত্ত এসব স্কুলে সমিতি জোরপূর্বক তাদের প্রশ্ন পত্র চাপিয়ে দিয়েছেন। উপজেলার ময়েনপুর, হাতিশাইল, বনগা চকরহমত, চন্দনকৌঠা স্কুলের
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, এসব প্রশ্নপত্র মানহীন এসব প্রশ্নপত্র দেখে পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীরা কি শিখবেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রধান শিক্ষক জানান, নিয়ম হচ্ছে যারা যেই বিষয়ের শিক্ষক তারা সেই বিষয়ে প্রশ্নপত্র তৈরি করবেন। কিন্তু তানোর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী কল্যান সমিতির সভাপতি এবং চাপড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান ও সম্পাদক আকচা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আসলাম উদ্দিন জোর করে তাদের সমিতিতে থাকতে বাধ্য করেছে,তিনি বলেন, সমিতি রীতিমতো শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য করছে, দ্রুত এর অবসান হওয়া জরুরী। উপজেলার
দরগাডাঙ্গা স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম জানান, আমরা সমিতি থেকে প্রশ্ন নিবো না এবং সমিতিতে থাকবো না
কিন্তু তারা এমপি মহোদয়ের ভয় দেখিয়ে প্রশ্ন দিয়েছে ও সমিতিতে থাকতে বাধ্য করেছে। তিনি বলেন,
এভাবে চললে শিক্ষা ব্যবস্থা
অচিরেই ধ্বংস হবে, যারা তাদের সমিতির আওতায় নাই তাদের স্কুলের প্রশ্নপত্রের যেই মান তার পাঁচ ভাগও মান নেই তানোর শিক্ষক সমিতির প্রশ্নে। শুধু তাই না তারা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদেরও অবসর ভাতার টাকা দিচ্ছে না। চন্দনকৌঠা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন জানান, তানোর শিক্ষক সমিতির উপদেষ্টা এমপি মহোদয়। তার নাম করে সভাপতি সম্পাদক এসব মানহীন প্রশ্ন দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্হা ধ্বংস করার পায়তারা শুরু করেছেন। তারা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবসর ভাতাও দিচ্ছে না। আমার চাচাকে মাত্র ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে। বাকি টাকার জন্য কয়েকমাস ধরে ঘুরেও লাগাল মিলছে না। তিনি আরো জানান, এমপিকে সমিতির উপদেষ্টা করে তার নাম ভাঙ্গিয়ে সভাপতি সম্পাদক যা খুশি তাই করছেন। আগামীতে আমরা আর এই সমিতিতে থাকবো না, এতো অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না। বনগাঁ চকরহমত স্কুলের দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক মাহবুর জানান, প্রশ্ন মানহীন এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু কি করার আছে। এভাবে প্রশ্ন দেওয়া ঠিক না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, এমপি মহোদয় এলাকার শিক্ষকদের সুবিধা ও শিক্ষা ব্যবস্হার উন্নয়নের উদেশ্যে সমিতি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন।কিন্ত্ত সভাপতি-সম্পাদক
এই দুই নেতা সেটাকে পুজি করে বানিজ্যি করছেন, তারা যে প্রশ্নপত্র দিয়েছেন তা একেবারেই মানহীন।
তানোর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আকচা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসলাম উদ্দিন নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
সারা দেশে সমিতির প্রশ্নে পরীক্ষা হয়। আমরা আলাদা সমিতি আমাদের প্রশ্নপত্রে ৫৩টি স্কুলে পরীক্ষা হচ্ছে প্রশ্নপত্র মানহীন এটা সঠিক না। সমিতির সভাপতি ও চাপড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান জানান, সব বিষয়ে মাথা দিলে হবে না, সমিতির উপদেষ্টা এমপি সাহেব এটা বুঝতে হবে। এমপি কি আপনাকে প্রশ্নপত্র দিতে বলেছে জানতে চাইলে কোন জবাব না দিয়ে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তানোর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাড় সিদ্দিকুর রহমান জানান, তাদের প্রশ্নপত্র তৈরি করার কোন নিয়ম নাই, আমি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি, কিন্তু তারাও গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

তানোর শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩২:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুন ২০২২

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।জানা গেছে,বিগত ২০১৮ সালে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারি কল্যান সমিতি গঠন করা হয়।কিন্ত্ত সভাপতি ও সম্পাদকের নানামুখী অনিয়মের কারণে, যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমিতি গঠন করা হয়েছিল তার সিংহভাগ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে সমিতি।
স্থানীয় অভিভাবক মহলের অভিযোগ, বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে নিম্নমাণের অপাঠ্য বই পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্তি করেছে। অন্যদিকে সেই বইয়ের বাজার ধরে রাখতে সমিতির তৈরী মানহীন নিম্নমাণের প্রশ্নপত্র স্কুলগুলোতে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এসব প্রশ্নপত্র নিয়ে শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরাও বিব্রত। সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকরা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিজেরা প্রণয়ন না করে সমিতির প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নিচ্ছেন যা চাকরিবিধিমালা পরিপন্থী। সুত্র জানায়, সমিতি গাইড বই দেখে এসব প্রশ্ন তৈরি করেছে, অথচ গাইড ও নোটবইয়ের দাপট কমাতে এই পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।এতে শিক্ষক নেতাদের পকেটভারী হলেও শিক্ষার্থীরা মেধা শূণ্য হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলায় মাধ্যমিক স্তরের প্রায় ৬৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার মধ্যে উপজেলা শিক্ষক সমিতিতে ৫৩টি স্কুল রয়েছে। এসব স্কুলে গত জুন থেকে
অর্ধ-বার্ষিকী পরীক্ষা শুরু হয়েছে।কিন্ত্ত এসব স্কুলে সমিতি জোরপূর্বক তাদের প্রশ্ন পত্র চাপিয়ে দিয়েছেন। উপজেলার ময়েনপুর, হাতিশাইল, বনগা চকরহমত, চন্দনকৌঠা স্কুলের
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, এসব প্রশ্নপত্র মানহীন এসব প্রশ্নপত্র দেখে পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীরা কি শিখবেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রধান শিক্ষক জানান, নিয়ম হচ্ছে যারা যেই বিষয়ের শিক্ষক তারা সেই বিষয়ে প্রশ্নপত্র তৈরি করবেন। কিন্তু তানোর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী কল্যান সমিতির সভাপতি এবং চাপড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান ও সম্পাদক আকচা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আসলাম উদ্দিন জোর করে তাদের সমিতিতে থাকতে বাধ্য করেছে,তিনি বলেন, সমিতি রীতিমতো শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য করছে, দ্রুত এর অবসান হওয়া জরুরী। উপজেলার
দরগাডাঙ্গা স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম জানান, আমরা সমিতি থেকে প্রশ্ন নিবো না এবং সমিতিতে থাকবো না
কিন্তু তারা এমপি মহোদয়ের ভয় দেখিয়ে প্রশ্ন দিয়েছে ও সমিতিতে থাকতে বাধ্য করেছে। তিনি বলেন,
এভাবে চললে শিক্ষা ব্যবস্থা
অচিরেই ধ্বংস হবে, যারা তাদের সমিতির আওতায় নাই তাদের স্কুলের প্রশ্নপত্রের যেই মান তার পাঁচ ভাগও মান নেই তানোর শিক্ষক সমিতির প্রশ্নে। শুধু তাই না তারা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদেরও অবসর ভাতার টাকা দিচ্ছে না। চন্দনকৌঠা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন জানান, তানোর শিক্ষক সমিতির উপদেষ্টা এমপি মহোদয়। তার নাম করে সভাপতি সম্পাদক এসব মানহীন প্রশ্ন দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্হা ধ্বংস করার পায়তারা শুরু করেছেন। তারা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবসর ভাতাও দিচ্ছে না। আমার চাচাকে মাত্র ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে। বাকি টাকার জন্য কয়েকমাস ধরে ঘুরেও লাগাল মিলছে না। তিনি আরো জানান, এমপিকে সমিতির উপদেষ্টা করে তার নাম ভাঙ্গিয়ে সভাপতি সম্পাদক যা খুশি তাই করছেন। আগামীতে আমরা আর এই সমিতিতে থাকবো না, এতো অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না। বনগাঁ চকরহমত স্কুলের দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক মাহবুর জানান, প্রশ্ন মানহীন এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু কি করার আছে। এভাবে প্রশ্ন দেওয়া ঠিক না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, এমপি মহোদয় এলাকার শিক্ষকদের সুবিধা ও শিক্ষা ব্যবস্হার উন্নয়নের উদেশ্যে সমিতি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন।কিন্ত্ত সভাপতি-সম্পাদক
এই দুই নেতা সেটাকে পুজি করে বানিজ্যি করছেন, তারা যে প্রশ্নপত্র দিয়েছেন তা একেবারেই মানহীন।
তানোর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আকচা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসলাম উদ্দিন নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
সারা দেশে সমিতির প্রশ্নে পরীক্ষা হয়। আমরা আলাদা সমিতি আমাদের প্রশ্নপত্রে ৫৩টি স্কুলে পরীক্ষা হচ্ছে প্রশ্নপত্র মানহীন এটা সঠিক না। সমিতির সভাপতি ও চাপড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান জানান, সব বিষয়ে মাথা দিলে হবে না, সমিতির উপদেষ্টা এমপি সাহেব এটা বুঝতে হবে। এমপি কি আপনাকে প্রশ্নপত্র দিতে বলেছে জানতে চাইলে কোন জবাব না দিয়ে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তানোর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাড় সিদ্দিকুর রহমান জানান, তাদের প্রশ্নপত্র তৈরি করার কোন নিয়ম নাই, আমি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি, কিন্তু তারাও গুরুত্ব দিচ্ছেন না।