এখন ০৩:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদকসহ জব্দকৃত গাড়ি পুলিশ কর্মকর্তা ব্যবহার করেন ব্যক্তিগত কাজে

জামাল উদ্দিন স্বপন, কুমিল্লা প্রতিনিধি -ঃ গাঁজা ভর্তি প্রাইভেটকারসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে র‌্যাব। ঘটনাটি কুমিল্লার বুড়িচং থানা এলাকায় হওয়ায় সেখানে মামলা করে আলামত হিসেবে গাড়িটি হস্তান্তর করা হয়। সেই প্রাইভেটকার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে বুড়িচং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাকসুদ আলমের বিরুদ্ধে।

গত ২৫ মার্চ র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ ভোরে র‌্যাবের একটি দল জেলার বুড়িচং থানার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে প্রাইভেটকারের (ঢাকা মেট্রো- গ ১৫-০০১৯) ভিতর লুকিয়ে মাদক পরিবহনের সময় ৫০ কেজি ৫শত গ্রাম গাঁজাসহ মো. ইকবাল হোসেন (৩৫) নামে এক মাদককারবারিকে আটক করে। আটককৃত ইকবাল নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্দীরগঞ্জ থানার পাইনাদি পূর্ব পাড়া গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে। আটককৃতের বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের পূর্বক জব্দকৃত প্রাইভেটকারটি থানা পুলিশের নিকট হস্থান্তর করা হয়।

জানা যায়, এরপর প্রাইভেটকারটি থানা প্রাঙ্গনে রাখা ছিলো। কয়েকদিন পর থেকেই বুড়িচং থানার কর্মকর্তা মাকসুদ আলম গাড়িটি ব্যবহার করা শুরু করেন। তিনি বুড়িচং থানার বিভিন্ন এলাকাসহ কুমিল্লা ও কুমিল্লা বাহিরেও ব্যক্তিগত কাজে গাড়িটি নিয়ে যাতায়ত করেন। একটি সূত্র জানায় সর্বশেষ সোমবার বিকেলে তিনি গাড়িটি নিয়ে নিজ গ্রামের বাড়ি লক্ষীপুরে যান।

মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন কিনা, এমন প্রশ্ন করা হলে মাকসুদ আলম বলেন, ‘আমি ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আছি ‘ । প্রতিবেদনকে, এখন ব্যস্ত আছি বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।

র‌্যাবের করা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা বুড়িচং থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ শরীফ বলেন, পিআর মূলে গাড়িটি মালখানায় জব্দ আছে, এই গাড়ি যদি কেউ ব্যবহার করে তবে যিনি মালখানার দায়িত্বে আছেন তিনি এর জবাবদিহি করবেন।
এদিকে থানা সূত্র জানায়, বুড়িচং থানা থেকে জেলার দাউদকান্দি থানায় পরিদর্শক (তদন্ত) পদে মাকসুদ আলমকে বদলি করা হয়েছে। তবে তিনি এখনো দাউদকান্দি থানায় যোগদান করেননি।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মারুফ রহমান বলেন, মামলার আলামতের গাড়ি ব্যবহারের কোন অনুমতি নেই। আমি ৪ দিন হলো বুড়িচং থানায় যোগদান করেছি, বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি।
কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার বলেন, জব্দকৃত মামলার আলামতের গাড়ি আদালতের নির্দেশ ছাড়া ব্যবহারের অনুমতি নেই। তিনি আদালতের অনুমতি নিয়েছেন কিনা জানতে হবে।
র‌্যাব-১১ সিপিসি ২ কুমিল্লার কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন বলেন, জব্দকৃত সরঞ্জামাদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেয়া হয়। গাড়িসহ মাদক উদ্ধারের পরপরই থানায় মামলা দিয়ে আলামত হস্তান্তর করা হয়েছিলো। পরবর্তী কার্যক্রম আদালতে পরিচালিত হয়। জব্দকৃত গাড়ি ব্যবহার করার বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নিবেন।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

মাদকসহ জব্দকৃত গাড়ি পুলিশ কর্মকর্তা ব্যবহার করেন ব্যক্তিগত কাজে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩২:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুন ২০২২

জামাল উদ্দিন স্বপন, কুমিল্লা প্রতিনিধি -ঃ গাঁজা ভর্তি প্রাইভেটকারসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে র‌্যাব। ঘটনাটি কুমিল্লার বুড়িচং থানা এলাকায় হওয়ায় সেখানে মামলা করে আলামত হিসেবে গাড়িটি হস্তান্তর করা হয়। সেই প্রাইভেটকার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে বুড়িচং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাকসুদ আলমের বিরুদ্ধে।

গত ২৫ মার্চ র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ ভোরে র‌্যাবের একটি দল জেলার বুড়িচং থানার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে প্রাইভেটকারের (ঢাকা মেট্রো- গ ১৫-০০১৯) ভিতর লুকিয়ে মাদক পরিবহনের সময় ৫০ কেজি ৫শত গ্রাম গাঁজাসহ মো. ইকবাল হোসেন (৩৫) নামে এক মাদককারবারিকে আটক করে। আটককৃত ইকবাল নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্দীরগঞ্জ থানার পাইনাদি পূর্ব পাড়া গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে। আটককৃতের বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের পূর্বক জব্দকৃত প্রাইভেটকারটি থানা পুলিশের নিকট হস্থান্তর করা হয়।

জানা যায়, এরপর প্রাইভেটকারটি থানা প্রাঙ্গনে রাখা ছিলো। কয়েকদিন পর থেকেই বুড়িচং থানার কর্মকর্তা মাকসুদ আলম গাড়িটি ব্যবহার করা শুরু করেন। তিনি বুড়িচং থানার বিভিন্ন এলাকাসহ কুমিল্লা ও কুমিল্লা বাহিরেও ব্যক্তিগত কাজে গাড়িটি নিয়ে যাতায়ত করেন। একটি সূত্র জানায় সর্বশেষ সোমবার বিকেলে তিনি গাড়িটি নিয়ে নিজ গ্রামের বাড়ি লক্ষীপুরে যান।

মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন কিনা, এমন প্রশ্ন করা হলে মাকসুদ আলম বলেন, ‘আমি ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আছি ‘ । প্রতিবেদনকে, এখন ব্যস্ত আছি বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।

র‌্যাবের করা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা বুড়িচং থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ শরীফ বলেন, পিআর মূলে গাড়িটি মালখানায় জব্দ আছে, এই গাড়ি যদি কেউ ব্যবহার করে তবে যিনি মালখানার দায়িত্বে আছেন তিনি এর জবাবদিহি করবেন।
এদিকে থানা সূত্র জানায়, বুড়িচং থানা থেকে জেলার দাউদকান্দি থানায় পরিদর্শক (তদন্ত) পদে মাকসুদ আলমকে বদলি করা হয়েছে। তবে তিনি এখনো দাউদকান্দি থানায় যোগদান করেননি।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মারুফ রহমান বলেন, মামলার আলামতের গাড়ি ব্যবহারের কোন অনুমতি নেই। আমি ৪ দিন হলো বুড়িচং থানায় যোগদান করেছি, বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি।
কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার বলেন, জব্দকৃত মামলার আলামতের গাড়ি আদালতের নির্দেশ ছাড়া ব্যবহারের অনুমতি নেই। তিনি আদালতের অনুমতি নিয়েছেন কিনা জানতে হবে।
র‌্যাব-১১ সিপিসি ২ কুমিল্লার কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন বলেন, জব্দকৃত সরঞ্জামাদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেয়া হয়। গাড়িসহ মাদক উদ্ধারের পরপরই থানায় মামলা দিয়ে আলামত হস্তান্তর করা হয়েছিলো। পরবর্তী কার্যক্রম আদালতে পরিচালিত হয়। জব্দকৃত গাড়ি ব্যবহার করার বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নিবেন।