এখন ০৬:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ থেকে নামবে রাজশাহীর আম

বিশেষ সংবাদদাতা -ঃ রাজশাহীতে আম পাড়ার সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। শুক্রবার (১৩ মে) বাগান থেকে আম নামাতে পারবে চাষী ও ব্যবসায়ীরা। এদিন থেকে গুটি জাতের আম নামনো যাবে। তবে প্রশাসনের নির্ধারিত সময়ের আগেই পরিপুষ্ট গুটি আম গাছ থেকে নামাতে দেখা গেছে চাষী ও ব্যবসায়ীদের।
বৃহস্পতিবার (১২ মে) বিকেলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বৈঠক শেষে এই মৌসুমের আম পাড়ার সময়সীমা নির্ধারণ করে জেলা প্রশাসন। অপরিপক্ক আম বাজারজাত ঠেকাতেই এ উদ্যোগ বলে জানান, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শরিফুল হক ।

রাজশাহীতে এবার ১৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১১ দশমিক ৫৯ মেট্রিক টন ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। অর্থাৎ ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৭৬ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এবার ৫৭২ হেক্টও বেশি জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানান, এবার আমগাছে অনুমান ২০ শতাংশ মুকুল কম এসেছে।
সভায় এ বছর ১২ জাতের আম গাছ থেকে পাড়ার সম্ভাব্য তারিখ জানানো হয়েছে। ১৩ মে থেকে গুটি আম নামতে পারবে চাষী ও ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ২০ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে লক্ষণভোগ বা লখনা এবং রাণীপছন্দ, ২৮ মে থেকে হিমসাগর বা ক্ষিরসাপাত, ৬ জুন থেকে ল্যাংড়া, ১৫ জুন থেকে আমরৃপালি ও ফজলি, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা ও বারি আম-৪, ১৫ জুলাই থেকে গৌরমতি এবং ২০ আগস্ট থেকে ইলামতি আম পাড়তে পারবে চাষী ও ব্যবসায়ীরা।
ওই বৈঠকে অংশ নিয়ে রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন বলেন, বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যদি বেঁধে দেয়া সময়ের আগে আম পেকে যায় তবে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করে বাগানিরা আম নামাতে পারবেন। কিন্তু অপরিপক্ক আম নামানোর সুযোগ নেই। কেউ অপরিপক্ক আমে কেমিক্যাল মিশিয়ে বাজারজাত করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিন বলেন, সাধারণত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে রাজশাহীর আম পাকতে শুরু করে। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না। বিষয়টি মাথায় রেখেই আম বাজারজাতের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শরিফুল হক বলেন, আমবাগান থেকে শুরু করে বাজার পর্যন্ত পুরোটাই নজরদারিতে রাখবে জেলা প্রশাসন। প্রত্যেক উপজেলায় আলাদা কমিটি করে বিষয়গুলো তদারকি করা হবে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও চলবে।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শরিফুল হকের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) কল্যাণ চৌধুরী, গবেষক, কৃষি কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আমচাষি, বাগান মালিক ও আম ব্যবসায়ীরা।

সভায় জানান হয়, এ বছর রাজশাহী জেলায় ৭০০-৮০০ কোটি টাকার আম বিকিকিনি হবে। গত বছর রাজশাহী থেকে ১৫ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছিল। রপ্তানি আমের বেশিরভাগই বাঘা উপজেলার লক্ষণভোগ আম। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বেশি আম রপ্তানি হয়েছে।

এদিকে,সাংবাদিকদেরকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, বাঘা উপজেলায় ৮ হাজার ৩৬৮ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এ বছর বাগানে আম কম থাকায় উৎপাদন ধরা হয়েছে হেক্টর প্রতি ১০ মেট্রিক টন। এই উপজেলায় খাদ্যশস্যের পাশাপাশি অর্থকরী ফসল হিসেবে আম প্রধান। দেশের বাইরে ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই উপজেলার আমের সুখ্যাতি সবচেয়ে বেশি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, পরিপক্ক না হলে আম সংগ্রহ করা যাবে না। নির্ধারিত সময় সূচি অনুযায়ী আম নামানোর জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে সকলের নজরদারি ও কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

আজ থেকে নামবে রাজশাহীর আম

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:১৮:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মে ২০২২

বিশেষ সংবাদদাতা -ঃ রাজশাহীতে আম পাড়ার সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। শুক্রবার (১৩ মে) বাগান থেকে আম নামাতে পারবে চাষী ও ব্যবসায়ীরা। এদিন থেকে গুটি জাতের আম নামনো যাবে। তবে প্রশাসনের নির্ধারিত সময়ের আগেই পরিপুষ্ট গুটি আম গাছ থেকে নামাতে দেখা গেছে চাষী ও ব্যবসায়ীদের।
বৃহস্পতিবার (১২ মে) বিকেলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বৈঠক শেষে এই মৌসুমের আম পাড়ার সময়সীমা নির্ধারণ করে জেলা প্রশাসন। অপরিপক্ক আম বাজারজাত ঠেকাতেই এ উদ্যোগ বলে জানান, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শরিফুল হক ।

রাজশাহীতে এবার ১৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১১ দশমিক ৫৯ মেট্রিক টন ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। অর্থাৎ ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৭৬ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এবার ৫৭২ হেক্টও বেশি জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানান, এবার আমগাছে অনুমান ২০ শতাংশ মুকুল কম এসেছে।
সভায় এ বছর ১২ জাতের আম গাছ থেকে পাড়ার সম্ভাব্য তারিখ জানানো হয়েছে। ১৩ মে থেকে গুটি আম নামতে পারবে চাষী ও ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ২০ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে লক্ষণভোগ বা লখনা এবং রাণীপছন্দ, ২৮ মে থেকে হিমসাগর বা ক্ষিরসাপাত, ৬ জুন থেকে ল্যাংড়া, ১৫ জুন থেকে আমরৃপালি ও ফজলি, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা ও বারি আম-৪, ১৫ জুলাই থেকে গৌরমতি এবং ২০ আগস্ট থেকে ইলামতি আম পাড়তে পারবে চাষী ও ব্যবসায়ীরা।
ওই বৈঠকে অংশ নিয়ে রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন বলেন, বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যদি বেঁধে দেয়া সময়ের আগে আম পেকে যায় তবে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করে বাগানিরা আম নামাতে পারবেন। কিন্তু অপরিপক্ক আম নামানোর সুযোগ নেই। কেউ অপরিপক্ক আমে কেমিক্যাল মিশিয়ে বাজারজাত করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিন বলেন, সাধারণত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে রাজশাহীর আম পাকতে শুরু করে। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না। বিষয়টি মাথায় রেখেই আম বাজারজাতের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শরিফুল হক বলেন, আমবাগান থেকে শুরু করে বাজার পর্যন্ত পুরোটাই নজরদারিতে রাখবে জেলা প্রশাসন। প্রত্যেক উপজেলায় আলাদা কমিটি করে বিষয়গুলো তদারকি করা হবে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও চলবে।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শরিফুল হকের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) কল্যাণ চৌধুরী, গবেষক, কৃষি কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আমচাষি, বাগান মালিক ও আম ব্যবসায়ীরা।

সভায় জানান হয়, এ বছর রাজশাহী জেলায় ৭০০-৮০০ কোটি টাকার আম বিকিকিনি হবে। গত বছর রাজশাহী থেকে ১৫ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছিল। রপ্তানি আমের বেশিরভাগই বাঘা উপজেলার লক্ষণভোগ আম। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বেশি আম রপ্তানি হয়েছে।

এদিকে,সাংবাদিকদেরকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, বাঘা উপজেলায় ৮ হাজার ৩৬৮ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এ বছর বাগানে আম কম থাকায় উৎপাদন ধরা হয়েছে হেক্টর প্রতি ১০ মেট্রিক টন। এই উপজেলায় খাদ্যশস্যের পাশাপাশি অর্থকরী ফসল হিসেবে আম প্রধান। দেশের বাইরে ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই উপজেলার আমের সুখ্যাতি সবচেয়ে বেশি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, পরিপক্ক না হলে আম সংগ্রহ করা যাবে না। নির্ধারিত সময় সূচি অনুযায়ী আম নামানোর জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে সকলের নজরদারি ও কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।