এখন ০৫:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঔষধ চুরির অভিযোগ নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

এস এম গোলাম রাবিব, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি -ঃ ওষুধ চুরির অভিযোগে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর কিপার রফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার রাতে নেত্রকোনার সিভিল সার্জন এই আদেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বারহাট্টা সদরের সর্বত্র গুঞ্জন উঠে যে, হাসপাতালের স্টোরকিপার বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় কতিপয় যুব-তরুনের হাতে ধরা পড়েছে। বিষয়টি খুব দ্রুত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।

এসময় অনেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের ফোন দিয়ে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চায়। এতে এক বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ওষুধ চুরির বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

স্থানীয়রা জানায়, বস্তায় ভরে বিপুল পরিমাণ ওষুধ নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় দুই যুবক স্টোর কিপার রফিকুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করে। পরে বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে মুক্তিপান তিনি। কিন্তু খবরটি ছড়িয়ে পড়ায় সিভিল সার্জনকে জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

দিনভর নানা নাটকীয়তার পর বুধবার রাতে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. সেলিম মিঞা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে স্টোর কিপার রফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করেন। পাশাপাশি এ ঘটনা তদন্তে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সাইকুল ইসলামকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করেন। তিন দিনের মধ্যে এ কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্বাস্থ্য পরিদর্শক জানান, ওইদিন সন্ধ্যায় রফিকুলকে ওষুধসহ হাতেনাতে ধরার পর দুই যুবক টাকা খেয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। ঘটনার সময় হাসপাতালের সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। ঘটনা শুনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাতেই নেত্রকোনা থেকে বারহাট্টা এসে এটি শেষ করার চেষ্টা করেন। তবে ওষুধ চুরির ঘটনা এটিই প্রথম নয় এমনটা প্রায় সময়ই হয়। হয়তো ধরা পড়েছে বলে এবারেরটা মানুষ জানতে পেরেছে।

এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মঈনুল হক কাশেম বলেন, খবর শুনে হাসপাতালে গিয়েছি। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও ছিলেন। শুনেছি রফিকুল ছাড়াও এর সাথে আরও দুই-একজন জড়িত আছে। তদন্ত করে এই ঘটনার সাথে জড়িত সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।

তবে স্টোর কিপার রফিকুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সবই ষড়যন্ত্র, মিথ্যে ও সাজানো।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সাইকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু কাজ করা হয়েছে। স্টোরে থাকা ওষুধের হিসেব মেলানো হচ্ছে। তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অনেক কষ্টে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ভাল অবস্থানে দাঁড় করেছি। কোনো একজনের অপকর্মের দায়ে এটির ভাবমূর্তি নষ্ট হতে দেব না। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই স্টোর কিপারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টে ঘটনার সম্পৃক্তার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেলিম মিঞা বলেন, অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে কমিটিও করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

ঔষধ চুরির অভিযোগ নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ মার্চ ২০২২

এস এম গোলাম রাবিব, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি -ঃ ওষুধ চুরির অভিযোগে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর কিপার রফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার রাতে নেত্রকোনার সিভিল সার্জন এই আদেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বারহাট্টা সদরের সর্বত্র গুঞ্জন উঠে যে, হাসপাতালের স্টোরকিপার বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় কতিপয় যুব-তরুনের হাতে ধরা পড়েছে। বিষয়টি খুব দ্রুত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।

এসময় অনেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের ফোন দিয়ে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চায়। এতে এক বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ওষুধ চুরির বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

স্থানীয়রা জানায়, বস্তায় ভরে বিপুল পরিমাণ ওষুধ নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় দুই যুবক স্টোর কিপার রফিকুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করে। পরে বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে মুক্তিপান তিনি। কিন্তু খবরটি ছড়িয়ে পড়ায় সিভিল সার্জনকে জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

দিনভর নানা নাটকীয়তার পর বুধবার রাতে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. সেলিম মিঞা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে স্টোর কিপার রফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করেন। পাশাপাশি এ ঘটনা তদন্তে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সাইকুল ইসলামকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করেন। তিন দিনের মধ্যে এ কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্বাস্থ্য পরিদর্শক জানান, ওইদিন সন্ধ্যায় রফিকুলকে ওষুধসহ হাতেনাতে ধরার পর দুই যুবক টাকা খেয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। ঘটনার সময় হাসপাতালের সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। ঘটনা শুনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাতেই নেত্রকোনা থেকে বারহাট্টা এসে এটি শেষ করার চেষ্টা করেন। তবে ওষুধ চুরির ঘটনা এটিই প্রথম নয় এমনটা প্রায় সময়ই হয়। হয়তো ধরা পড়েছে বলে এবারেরটা মানুষ জানতে পেরেছে।

এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মঈনুল হক কাশেম বলেন, খবর শুনে হাসপাতালে গিয়েছি। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও ছিলেন। শুনেছি রফিকুল ছাড়াও এর সাথে আরও দুই-একজন জড়িত আছে। তদন্ত করে এই ঘটনার সাথে জড়িত সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।

তবে স্টোর কিপার রফিকুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সবই ষড়যন্ত্র, মিথ্যে ও সাজানো।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সাইকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু কাজ করা হয়েছে। স্টোরে থাকা ওষুধের হিসেব মেলানো হচ্ছে। তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অনেক কষ্টে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ভাল অবস্থানে দাঁড় করেছি। কোনো একজনের অপকর্মের দায়ে এটির ভাবমূর্তি নষ্ট হতে দেব না। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই স্টোর কিপারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টে ঘটনার সম্পৃক্তার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেলিম মিঞা বলেন, অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে কমিটিও করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।