এখন ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সড়ক কেটে ও ব্যারিকেড দিয়ে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টায় ৪৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

এ,কে,এম বেলাল উদ্দীন, চকরিয়া ( কক্সবাজার) প্রতিনিধি -ঃ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিন সড়ক কেটে ও ব্যারিকেড দিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী মক্কি ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে তার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে দিনভর কেন্দ্র জবর দখল করে অবৈধভাবে ব্যালটে সীল মেরে বাক্সে ভর্তি ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।
৩০ নভেম্বর রাতে খিলছাদক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার এ,কে,এম শাহাবউদ্দিন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় ১৮ জনের নাম উল্লেখপূর্বক ২৫-৩০জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২৮ নভেম্বর রবিবার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খিলছাদক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট কেন্দ্রের ভোট গননা শেষে ফলাফল প্রচারের পর উপজেলা হেড কোয়ার্টারের দিকে রওয়ানা দেন বাদী ও তার সঙ্গীয় নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজন। এসময় ঘোড়া মার্কার প্রার্থী মক্কী ইকবাল হোসেনের বাড়ির সামনে পৌছলে তার সমর্থকরা সড়কে গাছ ফেলে ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ি আটকে দেন। এসময় তাদের মারধরে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পুলিশ সদস্যরা আহত হয়। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে পুলিশ সদস্যরা তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করেন।
পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘোড়া প্রতীকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মক্কী ইকবাল হোসেন তার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ইউনিয়নের ১, ২, ৫, ৪ ও ৬নং ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র জবর দখলে নিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মুখে ব্যালটে অবৈধভাবে সীল মেরে বাক্সে ভর্তি করে। পরে ১ ও ৬নং ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র থেকে ব্যালট বাক্স নিয়ে ফেরার পথে ভোটের দিন সন্ধ্যায় ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে পৃথক স্থানের তিনটি সড়ক কেটে দিয়ে সড়কে গাছ ফেলে প্রিসাইডিং অফিসারসহ ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালায়।
এসময় তারা অন্তত ১৪রাউন্ড গুলি ছুড়ে। খবর পেয়ে র‌্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাদের সাথেও গুলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই সময় র‌্যাব একটি অস্ত্রসহ প্রার্থী মক্কী ইকবালকে আটক করে। পরে উর্ধ্বতন এক নেতার নির্দেশে তাকে ১ ঘণ্টা পর ছেড়ে দেয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা ব্যালট বাক্সসহ প্রিসাইডিং অফিসার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যান্য কর্মকর্তাদের আটকাবস্থা থেকে উদ্ধার করে।

এদিকে চশমা প্রতিকের প্রার্থী আফজালুর রহমান বলেন, ঘোড়া প্রতিকের প্রার্থী মক্কী ইকবাল হোসেন ও টেবিল ফ্যান প্রতীকের প্রার্থী মামুনুর রশিদ ভোটেরদিন তাদের বাহিনী দিয়ে ৪, ৬ ও ৭ নং কেন্দ্রে আমার ভোটারদের বাধা প্রদান করেন। বিশেষ করে ৬ ও ৭নং ওয়ার্ডে ভোট গ্রহণ চলাকালে ৫/৬বার সংঘর্ষ হয় এবং জোরপূর্বক ব্যালেটে সীল মারে এবং ভোট গননা শেষে এজেন্টদের রেজাল্টশীটও প্রদান করেননি। এবিষয়ে আমি উক্ত তিন কেন্দ্রের পুনঃ নির্বাচন দেয়ার জন্য চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটানিং কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত আবেদন দিয়েছে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, ভোট কেন্দ্র থেকে আসার পথে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে বাধা প্রদানের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ওই মামলার আসামিদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

সড়ক কেটে ও ব্যারিকেড দিয়ে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টায় ৪৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৪৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২১

এ,কে,এম বেলাল উদ্দীন, চকরিয়া ( কক্সবাজার) প্রতিনিধি -ঃ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিন সড়ক কেটে ও ব্যারিকেড দিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী মক্কি ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে তার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে দিনভর কেন্দ্র জবর দখল করে অবৈধভাবে ব্যালটে সীল মেরে বাক্সে ভর্তি ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।
৩০ নভেম্বর রাতে খিলছাদক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার এ,কে,এম শাহাবউদ্দিন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় ১৮ জনের নাম উল্লেখপূর্বক ২৫-৩০জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২৮ নভেম্বর রবিবার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খিলছাদক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট কেন্দ্রের ভোট গননা শেষে ফলাফল প্রচারের পর উপজেলা হেড কোয়ার্টারের দিকে রওয়ানা দেন বাদী ও তার সঙ্গীয় নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজন। এসময় ঘোড়া মার্কার প্রার্থী মক্কী ইকবাল হোসেনের বাড়ির সামনে পৌছলে তার সমর্থকরা সড়কে গাছ ফেলে ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ি আটকে দেন। এসময় তাদের মারধরে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পুলিশ সদস্যরা আহত হয়। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে পুলিশ সদস্যরা তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করেন।
পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘোড়া প্রতীকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মক্কী ইকবাল হোসেন তার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ইউনিয়নের ১, ২, ৫, ৪ ও ৬নং ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র জবর দখলে নিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মুখে ব্যালটে অবৈধভাবে সীল মেরে বাক্সে ভর্তি করে। পরে ১ ও ৬নং ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র থেকে ব্যালট বাক্স নিয়ে ফেরার পথে ভোটের দিন সন্ধ্যায় ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে পৃথক স্থানের তিনটি সড়ক কেটে দিয়ে সড়কে গাছ ফেলে প্রিসাইডিং অফিসারসহ ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালায়।
এসময় তারা অন্তত ১৪রাউন্ড গুলি ছুড়ে। খবর পেয়ে র‌্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাদের সাথেও গুলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই সময় র‌্যাব একটি অস্ত্রসহ প্রার্থী মক্কী ইকবালকে আটক করে। পরে উর্ধ্বতন এক নেতার নির্দেশে তাকে ১ ঘণ্টা পর ছেড়ে দেয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা ব্যালট বাক্সসহ প্রিসাইডিং অফিসার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যান্য কর্মকর্তাদের আটকাবস্থা থেকে উদ্ধার করে।

এদিকে চশমা প্রতিকের প্রার্থী আফজালুর রহমান বলেন, ঘোড়া প্রতিকের প্রার্থী মক্কী ইকবাল হোসেন ও টেবিল ফ্যান প্রতীকের প্রার্থী মামুনুর রশিদ ভোটেরদিন তাদের বাহিনী দিয়ে ৪, ৬ ও ৭ নং কেন্দ্রে আমার ভোটারদের বাধা প্রদান করেন। বিশেষ করে ৬ ও ৭নং ওয়ার্ডে ভোট গ্রহণ চলাকালে ৫/৬বার সংঘর্ষ হয় এবং জোরপূর্বক ব্যালেটে সীল মারে এবং ভোট গননা শেষে এজেন্টদের রেজাল্টশীটও প্রদান করেননি। এবিষয়ে আমি উক্ত তিন কেন্দ্রের পুনঃ নির্বাচন দেয়ার জন্য চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটানিং কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত আবেদন দিয়েছে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, ভোট কেন্দ্র থেকে আসার পথে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে বাধা প্রদানের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ওই মামলার আসামিদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।