এখন ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে আটকে পড়া ছয় বাংলাদেশি আখাউড়া চেকপোষ্ট দিয়ে দেশে ফিরলেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি -ঃ ভারতে আটকে পড়া ছয় বাংলাদেশিকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশের সহকারি হাই কমিশন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে আখাউড়া সীমান্ত চেকপোস্ট দিয়ে তাদেরকে পরিবারের সদস্যেদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ভারত ফেরত ছয় বাংলাদেশী হলো বগুড়া জেলার দুপচাচিয়া উপজেলার জিয়ারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের হানিফা আক্তার, ময়মমসিংহের ফুলবাড়িয়ার আলপনা খাতুন, ঢাকার কেরানীগঞ্জের রীনা আক্তার, জামালপুরের মানিক মিয়া এবং মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার মোঃ শাহাজান মিয়া। এরা ২ বছর থেকে ১০ বছর পর্যন্ত ভারতে আটকা ছিলেন। দীর্ঘ দিন পর হারিয়ে যাওয়া স্বজনকে ফিরে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন পরিবারের লোকজন। এসময় একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভারত ফেরত এসব লোকজন বিভিন্ন সময়ে মানব পাচারের শিকার হয়েছে বলে ধারনা করছে সংশ্লিষ্টরা।
বেলা ১১ টায় আখাউড়ার নো ম্যান্স ল্যান্ডে বাংলাদেশীদেরকে হস্তান্তরকালে ত্রিপুরায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের মোহাম্মদ জোকবায়েদ হোবেসন, প্রথম সচিব রেজাউল হক চৌধুরী, , আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাইফুল ইসলাম, আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান, বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান, স্বেচ্ছাসেবক সৈয়দ খায়রুল আলম, ইমিগ্রেশন পুলিশ ইনচার্জ সাব ইন্সপেক্টর আব্দুল হামিদ উপস্থিত ছিলেন।
ভারত থেকে ফেরত আসা বগুড়ার গোবিন্দপুরের মোঃ জিয়ারুলের স্বজন (ভায়রা ভাই) মোহাম্মদ রাজ্জাক জানান, ২০১৪ সালে ভায়রা ভাই নিখোঁজ হয়ে যান। তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। এমন একজন মানুষ কীভাবে ভারতে চলে গেলে সেটা তারা বুঝতে পারছেন না।
আরও এক বাংলাদেশ ফেরত ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার আলপনা আক্তারের চাচাত ভাই দুলাল বলেন, ১০ বছর আগে হঠাৎ করে একদিন তাদের বোন নিখোঁজ হয়ে যায়। অনেক পরে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি সে ভারতের আগরতায় আছে। কিন্তু কীভাবে গেল আমরা বুঝতে পারছি না।
আরেক নারী হানিফা আক্তারর ছেলে মোঃ ইয়াছিন বলেন, ৫ বছর আগে হঠাৎ মা হারিয়ে যায়। ভেবেছিলা আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেছে। পরে নানা বাড়ির করিমগঞ্জ থানায় খোঁজ করি। পরে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি মা ভারতে আছে। মাকে ফিরে পেয়ে খুব আনন্দ লাগছে।
এসময় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, এখানে অনেকের বাড়ি ভারতে ত্রিপুরা সীমান্ত থেকে অনেক দূরে। ধারনা করছি এরা পাচারের শিকার হয়েছে।
ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশের সহকারি হাই-কমিশনার মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ছয় বাংলাদেশিই মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ত্রিপুরায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হতে আটক হয়। পরে আদালতের নির্দেশে আগরতলার মর্ডান সাইক্রিয়াটিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে তারা কিভাবে ভারতে এসেছে এ ব্যপারে আমাদেরকে কিছুই বলতে পারেনি। এদের অনেকেই এই হাসপাতালে চার থেকে পাঁচ বছর বা আরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ার পর তাদের দেশে ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই হাসপাতালে আরও বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন আছেন। পর্যায়ক্রমে তাদেরকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস স্মরণোৎসব, পরিবেশিত হলো লালনসংগীত

ভারতে আটকে পড়া ছয় বাংলাদেশি আখাউড়া চেকপোষ্ট দিয়ে দেশে ফিরলেন

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর ২০২১

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি -ঃ ভারতে আটকে পড়া ছয় বাংলাদেশিকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশের সহকারি হাই কমিশন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে আখাউড়া সীমান্ত চেকপোস্ট দিয়ে তাদেরকে পরিবারের সদস্যেদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ভারত ফেরত ছয় বাংলাদেশী হলো বগুড়া জেলার দুপচাচিয়া উপজেলার জিয়ারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের হানিফা আক্তার, ময়মমসিংহের ফুলবাড়িয়ার আলপনা খাতুন, ঢাকার কেরানীগঞ্জের রীনা আক্তার, জামালপুরের মানিক মিয়া এবং মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার মোঃ শাহাজান মিয়া। এরা ২ বছর থেকে ১০ বছর পর্যন্ত ভারতে আটকা ছিলেন। দীর্ঘ দিন পর হারিয়ে যাওয়া স্বজনকে ফিরে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন পরিবারের লোকজন। এসময় একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভারত ফেরত এসব লোকজন বিভিন্ন সময়ে মানব পাচারের শিকার হয়েছে বলে ধারনা করছে সংশ্লিষ্টরা।
বেলা ১১ টায় আখাউড়ার নো ম্যান্স ল্যান্ডে বাংলাদেশীদেরকে হস্তান্তরকালে ত্রিপুরায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের মোহাম্মদ জোকবায়েদ হোবেসন, প্রথম সচিব রেজাউল হক চৌধুরী, , আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাইফুল ইসলাম, আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান, বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান, স্বেচ্ছাসেবক সৈয়দ খায়রুল আলম, ইমিগ্রেশন পুলিশ ইনচার্জ সাব ইন্সপেক্টর আব্দুল হামিদ উপস্থিত ছিলেন।
ভারত থেকে ফেরত আসা বগুড়ার গোবিন্দপুরের মোঃ জিয়ারুলের স্বজন (ভায়রা ভাই) মোহাম্মদ রাজ্জাক জানান, ২০১৪ সালে ভায়রা ভাই নিখোঁজ হয়ে যান। তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। এমন একজন মানুষ কীভাবে ভারতে চলে গেলে সেটা তারা বুঝতে পারছেন না।
আরও এক বাংলাদেশ ফেরত ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার আলপনা আক্তারের চাচাত ভাই দুলাল বলেন, ১০ বছর আগে হঠাৎ করে একদিন তাদের বোন নিখোঁজ হয়ে যায়। অনেক পরে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি সে ভারতের আগরতায় আছে। কিন্তু কীভাবে গেল আমরা বুঝতে পারছি না।
আরেক নারী হানিফা আক্তারর ছেলে মোঃ ইয়াছিন বলেন, ৫ বছর আগে হঠাৎ মা হারিয়ে যায়। ভেবেছিলা আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেছে। পরে নানা বাড়ির করিমগঞ্জ থানায় খোঁজ করি। পরে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি মা ভারতে আছে। মাকে ফিরে পেয়ে খুব আনন্দ লাগছে।
এসময় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, এখানে অনেকের বাড়ি ভারতে ত্রিপুরা সীমান্ত থেকে অনেক দূরে। ধারনা করছি এরা পাচারের শিকার হয়েছে।
ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশের সহকারি হাই-কমিশনার মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ছয় বাংলাদেশিই মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ত্রিপুরায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হতে আটক হয়। পরে আদালতের নির্দেশে আগরতলার মর্ডান সাইক্রিয়াটিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে তারা কিভাবে ভারতে এসেছে এ ব্যপারে আমাদেরকে কিছুই বলতে পারেনি। এদের অনেকেই এই হাসপাতালে চার থেকে পাঁচ বছর বা আরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ার পর তাদের দেশে ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই হাসপাতালে আরও বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন আছেন। পর্যায়ক্রমে তাদেরকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।