রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর জেলা প্রতিনিধি -ঃ রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মাত্র ৪ দিন আগে পানিবন্দি পরিবারের বাড়ির আঙ্গিনা শুকাতে না শুকাতে আবারও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিপদ সীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে বন্যার সৃষ্টি হয়ে উপজেলার ৭ ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ নিম্ন এলাকার বসবাসরত ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। কোলকোন্দের পূর্ব বিনবিনা চর হতে ক্ষীটারীর পশ্চিম ইচলী সংযোগ বেড়িবাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় বাগেরহাট বাজার এলাকাসহ আশ্রয়নে পানি ঢুকে পানিবন্দি হয়েছে মানুষজন। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগে বালু ভরাট করে রাখলেও তা ভাঙন স্থানে না ফেলায় মানুষজনের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আগের ভাঙনে ২২ লক্ষ টাকা ব্যায়ে বিনবিনার স্বেচ্ছাশ্রমের বাঁধটি ও পূর্ব বিনবিনার ভাঙা মসজিদ বিলীন যাওয়ার পর এখন লক্ষীটারীর কেল্লারপাড় চরে স্বেচ্ছাশ্রমের উপবাঁধটি ভেঙে যাচ্ছে। ভাঙনে কোলকোন্দ ইউনিয়নের পূর্ববিনবিনা ও পশ্চিম ইচলীর ১৭ পরিবারের বাড়ি তিস্তায় বিলীন হয়েছে। পূর্ব বিনবিনা ও পশ্চিম ইচলীর ভাঙন কবলিত পরিবারগুলো হলো রহেদুল,মহুব আলী, রুহুল আমিন, রব্বানী, আতিয়ার, তৈয়ব, আনোয়ারুল, আহাম্মদ, দুলু, মোহাম্মদ, মাছুম, আশরাফুল, নওশা, দুলু, আজিজুল, দুলু ও দুলাল। এদিকে রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলে হয়েছে সমস্যা। এছাড়া ভাঙন হুমকিতে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, মসজিদ ও চাষাবাদ জমি রয়েছে। পানিবন্দি মানুষগুলো রাস্তাসহ উচু স্থানে পলিথিনের
ছাউনি তৈরি করে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ও ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলো মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ভাসমান চুলায় ১ বার কোন রকম রান্না করে দিন কাটিয়ে দিচ্ছে। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিলেও প্রসাব-পায়খানা করতে বিপাকে পড়েছে। ছোট নৌকা, বাঁশ ও কলা গাছের ভেলায় অনেকে চলাচল করছে। লক্ষীটারী ইউনিয়নের পশ্চিম ইচলি, শংকরদহ, বাগেরহাট আশ্রয়ন, পূর্ব ইচলির ৩ হাজার, কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা, মটুকপুর, চিলাখাল, খলাইরচরসহ নি¤œ এলাকার ৩ হাজার, নোহালীর মিনার বাজার, কচুয়াচর, বৈরাতী বাাঁধের ধার, চর নোহালী, বাগডহরা চরের ১শ, মর্নেয়া ইউনিয়নের মর্নেয়াচর, তালপট্টি, আলাল চর, নরসিং চর, গজঘন্টা ইউনিয়নের কালির চর, লাপাক, গাউছিয়া বাজার, জয়দেব, মইশাসুর, রামদেব চরসহ আলমবিদিত ও গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের তিস্তা বেষ্টিত নিম্ন এলাকার ১শ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার সরজমিনে গেলে পশ্চিম ইচলীর ফজলু, নুরুল, মতিবার, মালেক, বাবলু, আনোয়ার, জোবেদা, কেল্লার পাড়ের মহির উদ্দিন, বাগেরহাট আশ্রয়ন এলাকার বাসিন্দা সজিনা, জরিনা, মাজেদা, হালিমা, সুলতানা, রুজিনা, বিনবিনা চরে মনতাজ, আইয়ুব, মাহাম্মদ, মান্নান জানান ৪দিন আগে পানিবন্দি হয়ে ছিলাম, সে পানি না শুকাতে আবার পানিবন্দি হলাম। কষ্ট যেন লেগে আছে। তারা ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। লক্ষীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, তার ইউনিয়নের ৩ হাজারের বেশী পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন অব্যাহত। তিনি আরো বলেন এর আগে দু-দফায় মাত্র সাড়ে ৬শ পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। এখনও অনেক পরিবার ত্রাণ সহায়তা পায়নি। পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন। কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব আলী রাজু জানান, তিস্তার পানি বৃদ্ধি ফলে ভাঙন ও বন্যার দেখা দেওয়ায় বিনবিনা চরে ৭ পরিবারের বাড়ি বিলীন হয়েছে এবং ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। তার ইউনিয়নে এর ৫শ ৭৫ পরিবারকে ত্রাণসহায়তা দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী ফিসার তাসলীমা বেগম জানান, পানিবন্দি পরিবারের জন্য ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।













