এখন ০২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। বিভাগের একমাত্র করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে না আইসিইউ বেড

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর জেলা প্রতিনিধি -ঃ রংপুরে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। বিভাগের একমাত্র করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ফাঁকা পাওয়া যাচ্ছে না আইসিইউ শয্যা।
সাধারণ বেড না পেয়েও চরম দুর্ভোগে অনেক রোগী। এক বছরেও আইসিইউ শয্যা না বাড়ানোয় স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা। রংপুর করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের সামনে ঝুলছে ‘আইসিইউতে কোনও শয্যা ফাঁকা নাই’ এমন সাইনবোর্ড।
রংপুর বিভাগের ৮জেলার দেড়কোটি মানুষের জন্য করোনার চিকিৎসায় একমাত্র বিশেষায়িত ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালে ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে করোনা রোগী।
এ তথ্য জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায়।তিনি বলেন,১০০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালে ১০১ জন করোনা রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বাড়তি রোগীর চাপে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ শয্যার আরও একটি ইউনিট করোনা রোগীদের জন্য ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, বিভাগের আট জেলায় করোনা আক্রান্ত সবাই রংপুরমুখী। করোনা হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েই চলেছে।
শনিবার (০৩ জুলাই) দুপুরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডকে ইউনিট ঘোষণা করা হয়েছে। আইসিইউ না থাকলেও সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহসহ অন্য সুবিধা রাখা হয়েছে এই ইউনিটে।
রংপুরের সিভিল সার্জন হিড়ম্ব কুমার রায় বলেন, করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ওয়ার্ডেও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা ডিউটি করবেন।
গত বছরের ৯ মে রংপুর শিশু হাসপাতাল ১০০ শয্যার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে চালু করা হয়। সেখানে ১০টি আইসিইউ বেড রয়েছে। এর মধ্যে আট বেডে ভেন্টিলেটর আছে।
রংপুর করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এস এম নুর উন নবী জানান, এ হাসপাতালে শনিবার পর্যন্ত ৯৩ রোগী ভর্তি আছেন। এখানে অক্সিজেনের কোনো সমস্যা নেই। প্রতিদিন সাধারণত আট লিটার অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। তবে শনিবার ১৬ লিটার অক্সিজেন লেগেছে। কয়েকজন রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় অক্সিজেনের ব্যবহার বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, এখানে যেসব ইমার্জেন্সি রোগী আসছেন, তাদের অধিকাংশের অক্সিজেন লাগছে। তাদের আইসিইউতে রাখা জরুরি। ইচ্ছা থাকলেও সেই সাপোর্ট দেয়া যাচ্ছে না।
এদিকে রংপুর বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভাগে এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলার সাতজন, দিনাজপুরের চারজন, পঞ্চগড়ের দুইজনসহ লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার একজন করে রয়েছেন। এর আগে শুক্রবার আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (০৪ জুলাই) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আবু মো. জাকিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন বিভাগে নতুন করে ৫৫৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪৩ শতাংশ। নতুন শনাক্তের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে ১৩২, দিনাজপুরে ১০৭, রংপুরে ৯৫, গাইবান্ধায় ৫৭, নীলফামারীতে ৫০, কুড়িগ্রামে ৪০, লালমনিরহাটে ৩৯ এবং পঞ্চগড়ে ৩৬ জন রয়েছেন। এ সময় সুস্থ হয়েছেন ২৩৮ জন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

রংপুরে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। বিভাগের একমাত্র করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে না আইসিইউ বেড

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জুলাই ২০২১

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর জেলা প্রতিনিধি -ঃ রংপুরে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। বিভাগের একমাত্র করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ফাঁকা পাওয়া যাচ্ছে না আইসিইউ শয্যা।
সাধারণ বেড না পেয়েও চরম দুর্ভোগে অনেক রোগী। এক বছরেও আইসিইউ শয্যা না বাড়ানোয় স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা। রংপুর করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের সামনে ঝুলছে ‘আইসিইউতে কোনও শয্যা ফাঁকা নাই’ এমন সাইনবোর্ড।
রংপুর বিভাগের ৮জেলার দেড়কোটি মানুষের জন্য করোনার চিকিৎসায় একমাত্র বিশেষায়িত ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালে ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে করোনা রোগী।
এ তথ্য জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায়।তিনি বলেন,১০০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালে ১০১ জন করোনা রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বাড়তি রোগীর চাপে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ শয্যার আরও একটি ইউনিট করোনা রোগীদের জন্য ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, বিভাগের আট জেলায় করোনা আক্রান্ত সবাই রংপুরমুখী। করোনা হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েই চলেছে।
শনিবার (০৩ জুলাই) দুপুরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডকে ইউনিট ঘোষণা করা হয়েছে। আইসিইউ না থাকলেও সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহসহ অন্য সুবিধা রাখা হয়েছে এই ইউনিটে।
রংপুরের সিভিল সার্জন হিড়ম্ব কুমার রায় বলেন, করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ওয়ার্ডেও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা ডিউটি করবেন।
গত বছরের ৯ মে রংপুর শিশু হাসপাতাল ১০০ শয্যার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে চালু করা হয়। সেখানে ১০টি আইসিইউ বেড রয়েছে। এর মধ্যে আট বেডে ভেন্টিলেটর আছে।
রংপুর করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এস এম নুর উন নবী জানান, এ হাসপাতালে শনিবার পর্যন্ত ৯৩ রোগী ভর্তি আছেন। এখানে অক্সিজেনের কোনো সমস্যা নেই। প্রতিদিন সাধারণত আট লিটার অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। তবে শনিবার ১৬ লিটার অক্সিজেন লেগেছে। কয়েকজন রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় অক্সিজেনের ব্যবহার বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, এখানে যেসব ইমার্জেন্সি রোগী আসছেন, তাদের অধিকাংশের অক্সিজেন লাগছে। তাদের আইসিইউতে রাখা জরুরি। ইচ্ছা থাকলেও সেই সাপোর্ট দেয়া যাচ্ছে না।
এদিকে রংপুর বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভাগে এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলার সাতজন, দিনাজপুরের চারজন, পঞ্চগড়ের দুইজনসহ লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার একজন করে রয়েছেন। এর আগে শুক্রবার আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (০৪ জুলাই) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আবু মো. জাকিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন বিভাগে নতুন করে ৫৫৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪৩ শতাংশ। নতুন শনাক্তের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে ১৩২, দিনাজপুরে ১০৭, রংপুরে ৯৫, গাইবান্ধায় ৫৭, নীলফামারীতে ৫০, কুড়িগ্রামে ৪০, লালমনিরহাটে ৩৯ এবং পঞ্চগড়ে ৩৬ জন রয়েছেন। এ সময় সুস্থ হয়েছেন ২৩৮ জন।