নিজস্ব সংবাদদাতা ঃ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভায় আজ বুধবার সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমানের (বাদল) অনুসারীদের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় গতকাল মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জিয়াউল হক মীর এ ঘোষণা দেন।
এর আগেও গত ২২ ফেব্রুয়ারি দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে বসুরহাট পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল।
ইউএনও মোঃ জিয়াউল হক মীর বলেন, ১৪৪ ধারা চলার সময় পৌর এলাকায় ব্যক্তি, সংগঠন, রাজনৈতিক দল, গণজমায়েত, সভা, সমাবেশ, মিছিল, র্যালি, শোভাযাত্রা, যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠান এবং রাজনৈতিক প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পৌর শহরে চারজনের বেশি মানুষ জমায়েত হতে পারবে না।
মঙ্গলবার (৯ মার্চ) নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল গ্রুপের মধ্যে আবারও তীব্র সংঘর্ষ ১ জন নিহত ও কমপক্ষে ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ ৩০ জন আহত হয়। ওই ঘটনার জের ধরে নতুন করে যাতে সহিংসতা ঘটতে না পারে সেজন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার রাতে নিহত ব্যক্তির নাম আলাউদ্দিন (৩২)। তিনি চরফকিরা ইউনিয়নের চরকালী গ্রামের মমিন উল্যাহর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পৌর কার্যালয়ে কাদের মির্জার সমর্থকেরা তাকে ঘিরে দাঁড়িয়েছিলেন। একপর্যায়ে হঠাৎ তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান বেশ কয়েকজন। এসময় অন্তত ১২ জন গুলিবিদ্ধ হন।
দুই দলের মধ্যে গত ১৯ ফেব্রুয়ারিও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দু’দলের মাঝখানে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কিরসহ ১৫ জন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় বিবদমান পক্ষ দুটি পরস্পরের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের নেতাদের কাউকে পুলিশ এখনও গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে খোঁজেনি।














