এখন ০১:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিদিন টি ব্যাগের চায়ের সাথে আমরা খাচ্ছি বিলিয়ন বিলিয়ন পলিপ্রোফিলিন বা মাইক্রোপ্লাষ্টিক

আমাদের সাথে অনেকেই আছেন যারা চা ছাড়া দিন শুরুই করতে পরেন না। পরিবারের সাথে থাকলে মা, বোন বা স্ত্রী সকাল সকাল চাপাতা থেকে চা বানিয়ে দেন।
তবে বিভিন্ন অভিজাত দোকান, অফিস বা যারা একা একা থাকেন, তারা কিন্তু বানানোর অসুবিধার কথা চিন্তা করে চা পাতার চেয়ে টি ব্যাগকেই বেশী প্রাধান্য দেন, গরম পানির সাথে টি ব্যাগ মিশালেই তৈরী হয়ে যাচ্ছে চা ।
এমন সহজ রেসিপি পেলে কেই বা চা্ইবে কষ্ট করে চা পাতা দিয়ে চা বানাতে? চা কোম্পানী গুলি কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন দেয় নিজেদের এসব পণ্যের সুনাম করে।
তারা কাষ্টমারকে জানায় টি ব্যাগ ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি কত সহজে চা বানাতে পারবেন, এই একটু গরম পানি আর ডুবিয়ে দিন টি ব্যাগ, গরম পানিতে টি ব্যাগপড়া মাত্র টি ব্যাগের চারপাশে
মনমুগ্ধকর চায়ের লিকারের স্রোত বেরিয়ে পরছে, আহ কত সুন্দর !!


তবে তারা জনসাধারণকে যেটা জানায় না সেটা হল নিয়মিত টি ব্যাগের সাথে চা খাওয়ার মাধ্যমে জনগণ নিজেই নিজের শরীরের কতটা ক্ষতি করছেন, টি ব্যাগের মূল সমস্যাটা কিন্তু এই ব্যাগটার মাঝেই লুকিয়ে আছে।
আপাত দৃষ্টিতে টি ব্যাগ দেখতে কাগজের তৈরী মনে হলেও, বেশীর ভাগ কোম্পানী টি ব্যাগ তৈরীতে পলিপ্রোফিলিন এর ব্যবহার করছে।যাকিনা এক ধরনের প্লাষ্টিক, গঠনগত ভাবে পলিপ্রোফিলিন অত্যন্ত দুর্বল ধরনের প্লাষ্টিক, বিশেষ করে যখন এটি গরম পানির সংস্পর্শে আসে তখন বিলিয়ন বিলিয়ন মাইক্রোপ্লাষ্টিক অর্থাৎ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্লাষ্টিক কণা গলে এই চা এর সাথে মিশে যায়।আমরা খালি চোখে দেখতে পাই টি ব্যাগ গরম পানিতে ডোবানোর পর চা পাতার মনমুগ্ধকর রং এবং গ্রাণকে কিভাবে পানিকে চায়ে পরিণত করছে। তবে আমরা দেখতে পাই না তা হল – বিলিয়ন বিলিয়ন মাইক্রোপ্লাষ্টিক অর্থাৎ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্লাষ্টিক কণা গলে এই চা এর সাথে মিশে যাচ্ছে, এবং এই মাইক্রোপ্লাষ্টিক গলে যাওয়ার মাধ্যমেই চা পাতা থেকে লিকার বে হয়ে আসার রাস্তা উম্মুক্ত হচ্ছে।
কানাডার মেকলিন ইউনিভার্সিটির এক সমীক্ষায় দেখাগেছে এক একটি টি ব্যাগ থেকে হড়ে – এক হাজার একশত ষাট কোটি মাইক্রোপ্লাষ্টিক নির্গত হয় যারা জানেন না মাইক্রোপ্লাষ্টিক কি?
তাদের জানার জন্য বলছি – যেসব প্লাষ্টিক কণা পাঁচ মিলিমিটারের চেয়েও ছোট হয়, তাদের মাইক্রোপ্লাষ্টিক বলা হয়, এগুলো এতই ছোট যে এগুলোকে আমরা খালি চোখে দেখতে পাইনা।
এগেুলো দেখার জন্য দরকার হয় উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন অনুবীক্ষণ যন্ত্রের, আমরা খালি চোখে দেখতে পাইনা বলেই চা কোম্পানীগুলো সে সুযোগটা নিচ্ছে।
প্রতিবার চা খাওয়ার সময় আমরা না জেনেই, না দেখেই এই মাইক্রোপ্লাষ্টিক মিশ্রিত চা খেয়ে নিচ্ছি। এভাবে দিনের পর দিন আমরা চায়ের বদলে প্লাষ্টিক খেয়ে চলেছি।
এখন সবারই মনে হতে পারে আমাদের কি এ থেকে বাচার কোন উপায় নেই? উপায় অবশ্যই আছে আর তা হলো টি ব্যাগের চা খাওয়া বাদ দিয়ে দেয়া্।
এটা যদি একান্তই সম্ভব না হয় তবে নিচের বলা পদ্ধতিটি অনুসরণ করে নিজেই শনাক্ত করতে পারবেন আপনার প্রিয় টি ব্যাগটিতে কি মাইক্রোপ্লাষ্টিক আছে? না কি নাই?
এটি বুঝার জন্য একটি টি ব্যাগ নিয়ে সেটিকে হাত দিয়ে ছেঁড়ার চেষ্টা করুন।যদি আলতো ভাবে ধরে সহজেই সেটি ছেঁড়া যায় , এর মানে এটি কাগজের তৈরী।
আর যদি সেটিকে ছিঁড়তে কিছুটা বেগ পেতে হয়, এর মানে এখানে অবশ্যই মাইক্রোপ্লাষ্টিক থাকার সম্ভাবনা প্রবল। টি ব্যাগ কোম্পানীগুলো টি ব্যাগ যাতে সহজেই নষ্ট না হয়ে যায় সেজন্য
মাইক্রোপ্লাষ্টিক ব্যবহার করে থাকে।
সাধারণ জনগণের এসব জটিলতায় না গিয়ে গরম পানিতে চা ঢেলে দিন, প্রয়োজনে চা পাতা সহ চা খেয়ে ফেলুন তাও মাইক্রোপ্লাষ্টিক খাওয়া থেকে দূরে থাকুন।
চা পাতা থেকে তৈরী চায়ে অন্তত: মাইক্রোপ্লাষ্টিক থাকেনা।
টি ইনফিউসন ব্যবহার করে চা পাতাকে টি ব্যাগের মতই ব্যবহার করা যায়। টি ইনফিউসন বাজারে খুজে দেখতে পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

প্রতিদিন টি ব্যাগের চায়ের সাথে আমরা খাচ্ছি বিলিয়ন বিলিয়ন পলিপ্রোফিলিন বা মাইক্রোপ্লাষ্টিক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আমাদের সাথে অনেকেই আছেন যারা চা ছাড়া দিন শুরুই করতে পরেন না। পরিবারের সাথে থাকলে মা, বোন বা স্ত্রী সকাল সকাল চাপাতা থেকে চা বানিয়ে দেন।
তবে বিভিন্ন অভিজাত দোকান, অফিস বা যারা একা একা থাকেন, তারা কিন্তু বানানোর অসুবিধার কথা চিন্তা করে চা পাতার চেয়ে টি ব্যাগকেই বেশী প্রাধান্য দেন, গরম পানির সাথে টি ব্যাগ মিশালেই তৈরী হয়ে যাচ্ছে চা ।
এমন সহজ রেসিপি পেলে কেই বা চা্ইবে কষ্ট করে চা পাতা দিয়ে চা বানাতে? চা কোম্পানী গুলি কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন দেয় নিজেদের এসব পণ্যের সুনাম করে।
তারা কাষ্টমারকে জানায় টি ব্যাগ ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি কত সহজে চা বানাতে পারবেন, এই একটু গরম পানি আর ডুবিয়ে দিন টি ব্যাগ, গরম পানিতে টি ব্যাগপড়া মাত্র টি ব্যাগের চারপাশে
মনমুগ্ধকর চায়ের লিকারের স্রোত বেরিয়ে পরছে, আহ কত সুন্দর !!


তবে তারা জনসাধারণকে যেটা জানায় না সেটা হল নিয়মিত টি ব্যাগের সাথে চা খাওয়ার মাধ্যমে জনগণ নিজেই নিজের শরীরের কতটা ক্ষতি করছেন, টি ব্যাগের মূল সমস্যাটা কিন্তু এই ব্যাগটার মাঝেই লুকিয়ে আছে।
আপাত দৃষ্টিতে টি ব্যাগ দেখতে কাগজের তৈরী মনে হলেও, বেশীর ভাগ কোম্পানী টি ব্যাগ তৈরীতে পলিপ্রোফিলিন এর ব্যবহার করছে।যাকিনা এক ধরনের প্লাষ্টিক, গঠনগত ভাবে পলিপ্রোফিলিন অত্যন্ত দুর্বল ধরনের প্লাষ্টিক, বিশেষ করে যখন এটি গরম পানির সংস্পর্শে আসে তখন বিলিয়ন বিলিয়ন মাইক্রোপ্লাষ্টিক অর্থাৎ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্লাষ্টিক কণা গলে এই চা এর সাথে মিশে যায়।আমরা খালি চোখে দেখতে পাই টি ব্যাগ গরম পানিতে ডোবানোর পর চা পাতার মনমুগ্ধকর রং এবং গ্রাণকে কিভাবে পানিকে চায়ে পরিণত করছে। তবে আমরা দেখতে পাই না তা হল – বিলিয়ন বিলিয়ন মাইক্রোপ্লাষ্টিক অর্থাৎ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্লাষ্টিক কণা গলে এই চা এর সাথে মিশে যাচ্ছে, এবং এই মাইক্রোপ্লাষ্টিক গলে যাওয়ার মাধ্যমেই চা পাতা থেকে লিকার বে হয়ে আসার রাস্তা উম্মুক্ত হচ্ছে।
কানাডার মেকলিন ইউনিভার্সিটির এক সমীক্ষায় দেখাগেছে এক একটি টি ব্যাগ থেকে হড়ে – এক হাজার একশত ষাট কোটি মাইক্রোপ্লাষ্টিক নির্গত হয় যারা জানেন না মাইক্রোপ্লাষ্টিক কি?
তাদের জানার জন্য বলছি – যেসব প্লাষ্টিক কণা পাঁচ মিলিমিটারের চেয়েও ছোট হয়, তাদের মাইক্রোপ্লাষ্টিক বলা হয়, এগুলো এতই ছোট যে এগুলোকে আমরা খালি চোখে দেখতে পাইনা।
এগেুলো দেখার জন্য দরকার হয় উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন অনুবীক্ষণ যন্ত্রের, আমরা খালি চোখে দেখতে পাইনা বলেই চা কোম্পানীগুলো সে সুযোগটা নিচ্ছে।
প্রতিবার চা খাওয়ার সময় আমরা না জেনেই, না দেখেই এই মাইক্রোপ্লাষ্টিক মিশ্রিত চা খেয়ে নিচ্ছি। এভাবে দিনের পর দিন আমরা চায়ের বদলে প্লাষ্টিক খেয়ে চলেছি।
এখন সবারই মনে হতে পারে আমাদের কি এ থেকে বাচার কোন উপায় নেই? উপায় অবশ্যই আছে আর তা হলো টি ব্যাগের চা খাওয়া বাদ দিয়ে দেয়া্।
এটা যদি একান্তই সম্ভব না হয় তবে নিচের বলা পদ্ধতিটি অনুসরণ করে নিজেই শনাক্ত করতে পারবেন আপনার প্রিয় টি ব্যাগটিতে কি মাইক্রোপ্লাষ্টিক আছে? না কি নাই?
এটি বুঝার জন্য একটি টি ব্যাগ নিয়ে সেটিকে হাত দিয়ে ছেঁড়ার চেষ্টা করুন।যদি আলতো ভাবে ধরে সহজেই সেটি ছেঁড়া যায় , এর মানে এটি কাগজের তৈরী।
আর যদি সেটিকে ছিঁড়তে কিছুটা বেগ পেতে হয়, এর মানে এখানে অবশ্যই মাইক্রোপ্লাষ্টিক থাকার সম্ভাবনা প্রবল। টি ব্যাগ কোম্পানীগুলো টি ব্যাগ যাতে সহজেই নষ্ট না হয়ে যায় সেজন্য
মাইক্রোপ্লাষ্টিক ব্যবহার করে থাকে।
সাধারণ জনগণের এসব জটিলতায় না গিয়ে গরম পানিতে চা ঢেলে দিন, প্রয়োজনে চা পাতা সহ চা খেয়ে ফেলুন তাও মাইক্রোপ্লাষ্টিক খাওয়া থেকে দূরে থাকুন।
চা পাতা থেকে তৈরী চায়ে অন্তত: মাইক্রোপ্লাষ্টিক থাকেনা।
টি ইনফিউসন ব্যবহার করে চা পাতাকে টি ব্যাগের মতই ব্যবহার করা যায়। টি ইনফিউসন বাজারে খুজে দেখতে পারেন।