কুমিল্লা প্রতিনিধি -ঃ পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে
গত ১৯ মে কুমিল্লার আদালতে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন সৌদি ফেরত প্রবাসী আবু তাহেরের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৪০)। মামলা সূত্রে জানা যায় মনোহরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ নোয়াগাঁও গ্রামে সৌদি প্রবাসী আবু তাহেরের মেয়ে মারিয়া আক্তার একই গ্রামের পার্শ্ববর্তী বাড়ি খোরশেদ আলমের ছেলে আবদুর রহিমের সাথে বিয়ে দেন। বিয়ে দেয়ার পর থেকে মেয়েকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন এবং একই বাড়ির তার মামাতো দেবর কোরবান আলী মিন্টু (৪০) যৌতুকের জন্য নানাভাবে নির্যাতন করে। স্থানীয়ভাবে কয়েকবার সালিশ দরবার হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। জাহানারা বলেন গত ২৪ এপ্রিল আবারো তার মেয়েকে কোরবান আলীসহ শ্বশুর-শাশুড়ি মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে আমি স্থানীয় মেম্বারসহ গ্রামবাসীর নিকট বিচার চাইলে কোরবান আলী আমাকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে। নিরুপায় হয়ে আমি ওই দিন যৌতুক ও নারী নির্যাতন এবং নিজের নিরাপত্তা চেয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। মামলা দায়েরের পর থেকে কোরবান আলী মিন্টু মামলা তুলে নেয়ার জন্য আমাকে এবং আমার স্বামীকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে।
জানা যায় সৌদি প্রবাসী আবু তাহের গত ১৫ মে মাগরিবের নামাজ আদায়ে মসজিদে যাওয়ার সময় একই গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে কোরবান আলী মিন্টু (৪০) আজগর আলী (২১), মুন্সী আলীর ছেলে খোরশেদ আলম (৫০) ও তার ছেলে রাসেল (২১), মসজিদের সামনে তার উপর হামলা করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা করে। এসময় আবু তাহেরর চিৎকারে মসজিদে আসা লোকজন এগিয়ে আসলে কোরবান আলীসহ তার লোকজন পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন আবু তাহেরকে মুর্মূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে মনোহরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে কুমিল্লা মেডিকেলে পাঠায়। জাহানারা বেগম বলেন কোরবান আলী গ্রামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তার কথাই আইন, তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারো নেই। তার কথার প্রতিবাদ করলেই নেমে আসে নানারকম হয়রানি। প্রবাসী আবু তাহের বলেন আমার মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর থেকে তার কোরবান আলী এবং শ্বশুর মিলে নির্যাতন করে আসছে। গ্রামে কোনো বিচার নেই, কোরবান আলীর মেয়ের শ্বশুরের আত্মীয় বলে গ্রামের কেউ তাদের বিচার করার সাহস পায়না। আমার স্ত্রী বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করলে কোরবান আলী সেই মামলা তুলে নেয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি ধামকি দিতে থাকে। এখন আমাকে মেরে ফেলার জন্য তার লোকজন নিয়ে হামলা করে ওইদিন মসজিদের মুসুল্লিরা না থাকলে তারা আমাকে মেরেই ফেলতো। আমি এই সন্ত্রাসী কোরবান আলী এবং যারা হামলা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।













