এখন ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলীকদমে ভেজালে শেষ করার চেষ্টা ৬ কোটি টাকার কাজ

টি আই, মাহামুদ, আলীকদম প্রতিনিধি বান্দরবান -ঃ বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ৩নং নয়াপাড়া ইউনিয়নে প্রচন্ড বৃষ্টির পানি ও কাদাঁমাটিতে কার্পেটিং করছেন ঠিকাদার আবু বক্করের নিয়োজিত শ্রমিকেরা, উক্ত কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেন স্থানীয়রা।

রবিবার (২২ মে) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়াইহ্লা কারবারী পাড়ায় নির্মানাধীন সড়কে মাটিযুক্ত অপরিষ্কার, গাছের পাতা, ঢাল রাস্তায় পড়ে আছে তার উপর কার্পেটিংয়ের কাজ করছেন শ্রমিকেরা।

উক্ত কাজে নিম্মমানের বিটুমিন, ময়লাযুক্ত বুজুরি ও অপরিষ্কার পাথরের সংমিশ্রণে রাস্তায় কার্পেটিং করছেন ঠিকাদার। পাশে উপজেলা এলজিইডির অফিস সহায়ক দাঁড়িয়ে থাকলেও কোন এতে তার মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

এলজিইডি আলীকদম অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৩নং নয়াপাড়া ইউনিয়নের এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরার ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের অধীনে ৬ কোটি ১৮ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকায় ৫ প্যাকেজে সড়ক উন্ননের নামে কার্পেটিংয়ের কাজটি দেওয়া হলেও মূল কার্পেটিং কাজটি করছেন ঠিকাদার আবু বক্কর।

এলাকাবাসী বলেন, আবু বক্কর বিভিন্ন এলাকায় যেসব রাস্তার কাজ করেছেন তার সবই নিম্মমানের ও সব রাস্তার কার্পেটিং উঠে গেছে কাজ শেষেের কিছুদিন পরেই। তবুও বার বার অদৃশ্য কারণে তাকে কাজ দিচ্ছেন এলজিইডির কর্তৃপক্ষ। সরকারের টেকসই উন্নয়ন এই ধরনের ঠিকাদারের কাজে কতটুকু ফলপ্রসূ হবে তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। কেউ প্রতিবাদ করলেই টাকা দিয়ে সবার মুখ বন্ধ করে দেন ঠিকাদার আবু বক্কর।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান রাস্তা কার্পেটিং করার আগে বিটুমিন ব্যবহারেরকথা থাকলেও তা ব্যবহার করছেন নামমাত্র। শনিবার বৃষ্টির পানি ও কাদাঁমাটি উপর দিয়ে কার্পেটিং করছিল ঠিকাদারের লোকজন। বৃষ্টিতে কাজ না করতে নিষেধ করলে ঠিকাদার আমাদের হুমকি দেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) লোকজনের উপস্থিতিতে ঠিকাদার নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করেন।

এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে ঠিকাদার আবু বক্কর বলেন, সকালে বৃষ্টি না থাকায় কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করেছি। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় কার্পেটিংয়ের মালামাল নষ্ট হয়ে যাবে তাই শ্রমিকরা রাস্তায় ব্যবহার করেছেন। ময়লা ও কাদাঁপানিতে কিভাবে কার্পেটিং করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্ষার দিনে হালকা ময়লা থাকবে। কাজ করার সময় অফিসের লোকজন থাকে তারা কেন বাধা দিচ্ছেন না।

উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ মাহমুদ বলেন, বৃষ্টিতে যতটুকু কার্পেটিং করেছে ঠিকাদার, পরিদর্শনে গিয়ে সবটুকু তুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কার্পেটিং করার সময় রাস্তায় কোন ময়লা থাকতে পারবে না। বৃষ্টিতে কাজ বন্ধ রাখার জন্য প্রতি বছর এলজিইডি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ উপজেলা পর্যায়ে চিঠি দিলেও এখনো পর্যন্ত কোন চিঠি পাননি বলে জানান উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ মাহমুদ।সড়কের কাজ শতভাগ মান সম্মত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

আলীকদমে ভেজালে শেষ করার চেষ্টা ৬ কোটি টাকার কাজ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:১০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মে ২০২২

টি আই, মাহামুদ, আলীকদম প্রতিনিধি বান্দরবান -ঃ বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ৩নং নয়াপাড়া ইউনিয়নে প্রচন্ড বৃষ্টির পানি ও কাদাঁমাটিতে কার্পেটিং করছেন ঠিকাদার আবু বক্করের নিয়োজিত শ্রমিকেরা, উক্ত কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেন স্থানীয়রা।

রবিবার (২২ মে) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়াইহ্লা কারবারী পাড়ায় নির্মানাধীন সড়কে মাটিযুক্ত অপরিষ্কার, গাছের পাতা, ঢাল রাস্তায় পড়ে আছে তার উপর কার্পেটিংয়ের কাজ করছেন শ্রমিকেরা।

উক্ত কাজে নিম্মমানের বিটুমিন, ময়লাযুক্ত বুজুরি ও অপরিষ্কার পাথরের সংমিশ্রণে রাস্তায় কার্পেটিং করছেন ঠিকাদার। পাশে উপজেলা এলজিইডির অফিস সহায়ক দাঁড়িয়ে থাকলেও কোন এতে তার মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

এলজিইডি আলীকদম অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৩নং নয়াপাড়া ইউনিয়নের এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরার ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের অধীনে ৬ কোটি ১৮ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকায় ৫ প্যাকেজে সড়ক উন্ননের নামে কার্পেটিংয়ের কাজটি দেওয়া হলেও মূল কার্পেটিং কাজটি করছেন ঠিকাদার আবু বক্কর।

এলাকাবাসী বলেন, আবু বক্কর বিভিন্ন এলাকায় যেসব রাস্তার কাজ করেছেন তার সবই নিম্মমানের ও সব রাস্তার কার্পেটিং উঠে গেছে কাজ শেষেের কিছুদিন পরেই। তবুও বার বার অদৃশ্য কারণে তাকে কাজ দিচ্ছেন এলজিইডির কর্তৃপক্ষ। সরকারের টেকসই উন্নয়ন এই ধরনের ঠিকাদারের কাজে কতটুকু ফলপ্রসূ হবে তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। কেউ প্রতিবাদ করলেই টাকা দিয়ে সবার মুখ বন্ধ করে দেন ঠিকাদার আবু বক্কর।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান রাস্তা কার্পেটিং করার আগে বিটুমিন ব্যবহারেরকথা থাকলেও তা ব্যবহার করছেন নামমাত্র। শনিবার বৃষ্টির পানি ও কাদাঁমাটি উপর দিয়ে কার্পেটিং করছিল ঠিকাদারের লোকজন। বৃষ্টিতে কাজ না করতে নিষেধ করলে ঠিকাদার আমাদের হুমকি দেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) লোকজনের উপস্থিতিতে ঠিকাদার নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করেন।

এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে ঠিকাদার আবু বক্কর বলেন, সকালে বৃষ্টি না থাকায় কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করেছি। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় কার্পেটিংয়ের মালামাল নষ্ট হয়ে যাবে তাই শ্রমিকরা রাস্তায় ব্যবহার করেছেন। ময়লা ও কাদাঁপানিতে কিভাবে কার্পেটিং করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্ষার দিনে হালকা ময়লা থাকবে। কাজ করার সময় অফিসের লোকজন থাকে তারা কেন বাধা দিচ্ছেন না।

উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ মাহমুদ বলেন, বৃষ্টিতে যতটুকু কার্পেটিং করেছে ঠিকাদার, পরিদর্শনে গিয়ে সবটুকু তুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কার্পেটিং করার সময় রাস্তায় কোন ময়লা থাকতে পারবে না। বৃষ্টিতে কাজ বন্ধ রাখার জন্য প্রতি বছর এলজিইডি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ উপজেলা পর্যায়ে চিঠি দিলেও এখনো পর্যন্ত কোন চিঠি পাননি বলে জানান উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ মাহমুদ।সড়কের কাজ শতভাগ মান সম্মত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।