এখন ০৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তানোরে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ ধাঁমাচাপা

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোরের বাধাঁইড় ইউনিয়নের (ইউপি) তেলোপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত শাহাবুদ্দিনের পুত্র মামুনের দাপটে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এবার তার বিরুদ্ধে সরকারি জায়গার গাছ কাটা ও অন্যর সম্পত্তি জবরদখল করে মটর (সাবমার্শিবল পাম্প) স্থাপনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৭ এপ্রিল রোববার এ ঘটনায় তেলোপাড়া গ্রামের আহসান হাবিব বাদি হয়ে মামুনকে বিবাদী করে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্ত্ত দীর্ঘ প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও মামুনের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবেদন না দিয়ে ঘটনা ধাঁমাচাপা দিয়ে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় ভুমি কর্মকর্তা।
অভিযোগে প্রকাশ, প্রভাবশালী মামুন তেলোপাড়া গ্রামে সরকারি খাস পুকুর পাড়ের কয়েকটি তাজা গাছ কেটে ও অন্যর সম্পত্তি জবরদখল করে সেখানে অবৈধ মটর স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। এ ঘটনায় বিবাদমান দুপক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অথচ মুন্ডুমালা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের এক কর্মকর্তা মামুনের পক্ষ নিয়ে তার সঙ্গে আপোষ করার জন্য আহসান হাবিবকে চাপ দেয়। স্থানীয়রা জানান,গত ১৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার তেলোপাড়া গ্রামের মৃত শাহাবুদ্দিনের পুত্র মামুন আলী খাস জায়গা ও পুকুর পাড়ের কয়েকটি তাজা গাছ কেটেছে। এছাড়াও বহিরাগত এক সমিতির নামে খাস পুকুর লীজ নিয়ে একাধিক গাছ কেটেছে। এমনকি প্রতিবেশী আলাউদ্দিনের ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা জবরদখল ও গাছ কেটেছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে মামুন আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার জায়গার গাছ আমি কাটিনি মটর বসানোর জন্য বোরিং করা শুরু করেছি, এমন সময় প্রতিপক্ষরা অভিযোগ দিয়ে আমাকে হয়রানি করছেন। খাস জায়গার গাছ কেটেছেন এবং আলাউদ্দিনের জায়গায় অবৈধ মটর বসাচ্ছেন এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, তাহলে তাদের কাছে জমির কাগজপত্র দেখতে চান বলে এড়িয়ে যান। এবিষয়ে আলাউদ্দিন আলী জানান, জায়গা আমার ক্রয়কৃত, তারা জোরপূর্বক সবকিছু করছে। তিনি বলেন, মামুন গাছ কেটে এখন বাঁচার জন্য অন্যর ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছে। এবিষয়ে আহসান হাবিব জানান, খাস জায়গায় থাকা বড় বরই গাছ কাটার সময় নিষেধ করা হলেও তিনি শোনেননি। মামুন বাহিরের সমিতির নামে খাস পুকুর লীজ নিয়ে একাধিক গাছ কেটেছেন। আর তাকে সার্বিক ভাবে সকল ধরনের সহযোগিতা করেন দুরুল হুদা। যা সরেজমিনে তদন্ত করলেই বেরিয়ে পড়বে সবকিছু বলে জানান তিনি। এবিষয়ে মুন্ডুমালা ভুমি অফিসের কর্মকর্তা (তহসিলদার) রাবিউল ইসলাম বলেন, জায়গা কার সেটা মাঁফজোক করে বলা যাবে, তবে মামুন গাছ কেটেছে এটার সত্যতা পাওয়া গেছে। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পংকজ চন্দ্র দেবনাথ জানান, স্থানীয় ভুমি কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এবিষয়ে বাধাইড় ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, জায়গা কার সেটা পরের বিষয়, মামুন সরকারি গাছ কেটেছে সেটা তো মিথ্যা না, আগে গাছ কাটার বিচার চাই।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

তানোরে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ ধাঁমাচাপা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:২৮:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি -ঃ রাজশাহীর তানোরের বাধাঁইড় ইউনিয়নের (ইউপি) তেলোপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত শাহাবুদ্দিনের পুত্র মামুনের দাপটে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এবার তার বিরুদ্ধে সরকারি জায়গার গাছ কাটা ও অন্যর সম্পত্তি জবরদখল করে মটর (সাবমার্শিবল পাম্প) স্থাপনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৭ এপ্রিল রোববার এ ঘটনায় তেলোপাড়া গ্রামের আহসান হাবিব বাদি হয়ে মামুনকে বিবাদী করে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্ত্ত দীর্ঘ প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও মামুনের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবেদন না দিয়ে ঘটনা ধাঁমাচাপা দিয়ে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় ভুমি কর্মকর্তা।
অভিযোগে প্রকাশ, প্রভাবশালী মামুন তেলোপাড়া গ্রামে সরকারি খাস পুকুর পাড়ের কয়েকটি তাজা গাছ কেটে ও অন্যর সম্পত্তি জবরদখল করে সেখানে অবৈধ মটর স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। এ ঘটনায় বিবাদমান দুপক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অথচ মুন্ডুমালা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের এক কর্মকর্তা মামুনের পক্ষ নিয়ে তার সঙ্গে আপোষ করার জন্য আহসান হাবিবকে চাপ দেয়। স্থানীয়রা জানান,গত ১৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার তেলোপাড়া গ্রামের মৃত শাহাবুদ্দিনের পুত্র মামুন আলী খাস জায়গা ও পুকুর পাড়ের কয়েকটি তাজা গাছ কেটেছে। এছাড়াও বহিরাগত এক সমিতির নামে খাস পুকুর লীজ নিয়ে একাধিক গাছ কেটেছে। এমনকি প্রতিবেশী আলাউদ্দিনের ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা জবরদখল ও গাছ কেটেছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে মামুন আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার জায়গার গাছ আমি কাটিনি মটর বসানোর জন্য বোরিং করা শুরু করেছি, এমন সময় প্রতিপক্ষরা অভিযোগ দিয়ে আমাকে হয়রানি করছেন। খাস জায়গার গাছ কেটেছেন এবং আলাউদ্দিনের জায়গায় অবৈধ মটর বসাচ্ছেন এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, তাহলে তাদের কাছে জমির কাগজপত্র দেখতে চান বলে এড়িয়ে যান। এবিষয়ে আলাউদ্দিন আলী জানান, জায়গা আমার ক্রয়কৃত, তারা জোরপূর্বক সবকিছু করছে। তিনি বলেন, মামুন গাছ কেটে এখন বাঁচার জন্য অন্যর ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছে। এবিষয়ে আহসান হাবিব জানান, খাস জায়গায় থাকা বড় বরই গাছ কাটার সময় নিষেধ করা হলেও তিনি শোনেননি। মামুন বাহিরের সমিতির নামে খাস পুকুর লীজ নিয়ে একাধিক গাছ কেটেছেন। আর তাকে সার্বিক ভাবে সকল ধরনের সহযোগিতা করেন দুরুল হুদা। যা সরেজমিনে তদন্ত করলেই বেরিয়ে পড়বে সবকিছু বলে জানান তিনি। এবিষয়ে মুন্ডুমালা ভুমি অফিসের কর্মকর্তা (তহসিলদার) রাবিউল ইসলাম বলেন, জায়গা কার সেটা মাঁফজোক করে বলা যাবে, তবে মামুন গাছ কেটেছে এটার সত্যতা পাওয়া গেছে। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পংকজ চন্দ্র দেবনাথ জানান, স্থানীয় ভুমি কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এবিষয়ে বাধাইড় ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, জায়গা কার সেটা পরের বিষয়, মামুন সরকারি গাছ কেটেছে সেটা তো মিথ্যা না, আগে গাছ কাটার বিচার চাই।