এখন ০৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোটচাঁদপুর ৪ নং বলুহর ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামের ফারুক মেম্বারের কাছে দেওয়া ফোন নাম্বারে প্রতারণার শিকার বিধবা নারী

মোঃ আবু সুফিয়ান শান্তি, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি -ঃ ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে পুলিশ পরিচয়ে তানিয়া খাতুন (৩০) নামে এক বিধবা নারীর নিকট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। 

প্রতারক নিজেকে কোটচাঁদপুর মডেল  থানার এস,আই শফিক পরিচয় দিয়ে বিধবা ওই নারীর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় বলে জানা যায়।

উপজেলার বলুহর ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামে এঘটনা ঘটে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী  তানিয়া খাতুন। তিনি জানান,, গত রবিবার আমি (১৭এপ্রিল) ২০২২ ইং তারিখে কোটচাঁদপুর মডেল থানায় প্রতারণার অভিযোগ করি। একদিন পর স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন (মেম্বার)আমার বাড়িতে এসে দারোগার কথা বলে মোবাইল নাম্বার দিতে বলে।

আমি মেম্বারের কাছে মোবাইল নাম্বার দেওয়ার কিছুক্ষণ পর (০১৩০৭-৭২৫৮১০) নাম্বার থেকে একটি কল আসে। ফোনে কথা বলা লোকটি নিজেকে মডেল  থানার দারোগা পরিচয় দেয়। থানায় আমার অভিযোগ সর্ম্পকে জানিয়ে বলে, চিন্তা করেন না পুলিশ বাড়িতে গিয়ে অভিযোগের সঠিক বিচার করবে।

এসময় তিনি ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন। ওই নারী ৫’শ টাকা দিতে রাজি হলে তিনি বলেন, অভিযোগে কোন কাজ হবে না। পরে পুলিশের দারোগা পরিচয় দেওয়া প্রতারক ওই নারীর নিকট থেকে ৫ হাজার টাকা এই নাম্বারে (০১৭৫৯-০২৮৩২১) বিকাশের মাধ্যমে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেন। পরে তিনি জানতে পারেন এই নামে কোন পুলিশের দারোগা সংশ্লিষ্ট থানায় নেই।

এতে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। বিধবা নারী বলেন, দরিদ্র পরিবারের মেয়ে আমি।

আমার জাহিদ (১২) সামিয়া (৩)বছরের দুটি শিশু সন্তান আছে। স্বামীর মৃত্যুর পর শশুর বাড়িতে ঠাই হয়নি। শশুর বাড়ি গেলে নির্যাতন করে। যার কারণে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। 

এরই মধ্যে পুলিশ পরিচয়ে ৫ হাজার টাকা দিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বিধবা তানিয়া।

এবিষয়ে মেম্বার ফারুক হোসেন বলেন, শফিক নামে এক জন থানার দারোগা পরিচয় দিয়ে তানিয়ার অভিযোগের বিষয়ে আমার কাছে জানতে চায়। পরে সে তানিয়ার মোবাইল নাম্বার চায়। আমি তার বাড়িতে গিয়ে তার ফোন নাম্বার নিয়ে তাকে দিই। 

এরপর শুনলাম বিধবা তানিয়ার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়েছে। এখন আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। এবিষয় তানিয়ার অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এস, আই কামাল এর কাছে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, ওসি স্যার তদন্তের জন্য আমার উপর দায়িত্ব দিয়েছে। ইতি মধ্যে আমি উভয়ের বাড়িতে গিয়েছি। আগামী কাল দুই পক্ষকে নিয়ে থানায় মিমাংসার কথা আছে। এখন আবার শুনছি থানার দারোগা পরিচয় দিয়ে ওয়ার্ড মেম্বার ফারুকের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর ফোন নাম্বার নিয়ে প্রতারণা করে টাকা নিয়েছে। ইতিমধ্যে নাম্বার টা ট্রাক করে গাইবান্ধার এক বিকাশ এজেন্টের নম্বর দিয়ে টাকা টা তুলে নিয়েছে প্রতারক চক্র।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

কোটচাঁদপুর ৪ নং বলুহর ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামের ফারুক মেম্বারের কাছে দেওয়া ফোন নাম্বারে প্রতারণার শিকার বিধবা নারী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:১৩:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২২

মোঃ আবু সুফিয়ান শান্তি, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি -ঃ ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে পুলিশ পরিচয়ে তানিয়া খাতুন (৩০) নামে এক বিধবা নারীর নিকট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। 

প্রতারক নিজেকে কোটচাঁদপুর মডেল  থানার এস,আই শফিক পরিচয় দিয়ে বিধবা ওই নারীর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় বলে জানা যায়।

উপজেলার বলুহর ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামে এঘটনা ঘটে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী  তানিয়া খাতুন। তিনি জানান,, গত রবিবার আমি (১৭এপ্রিল) ২০২২ ইং তারিখে কোটচাঁদপুর মডেল থানায় প্রতারণার অভিযোগ করি। একদিন পর স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন (মেম্বার)আমার বাড়িতে এসে দারোগার কথা বলে মোবাইল নাম্বার দিতে বলে।

আমি মেম্বারের কাছে মোবাইল নাম্বার দেওয়ার কিছুক্ষণ পর (০১৩০৭-৭২৫৮১০) নাম্বার থেকে একটি কল আসে। ফোনে কথা বলা লোকটি নিজেকে মডেল  থানার দারোগা পরিচয় দেয়। থানায় আমার অভিযোগ সর্ম্পকে জানিয়ে বলে, চিন্তা করেন না পুলিশ বাড়িতে গিয়ে অভিযোগের সঠিক বিচার করবে।

এসময় তিনি ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন। ওই নারী ৫’শ টাকা দিতে রাজি হলে তিনি বলেন, অভিযোগে কোন কাজ হবে না। পরে পুলিশের দারোগা পরিচয় দেওয়া প্রতারক ওই নারীর নিকট থেকে ৫ হাজার টাকা এই নাম্বারে (০১৭৫৯-০২৮৩২১) বিকাশের মাধ্যমে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেন। পরে তিনি জানতে পারেন এই নামে কোন পুলিশের দারোগা সংশ্লিষ্ট থানায় নেই।

এতে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। বিধবা নারী বলেন, দরিদ্র পরিবারের মেয়ে আমি।

আমার জাহিদ (১২) সামিয়া (৩)বছরের দুটি শিশু সন্তান আছে। স্বামীর মৃত্যুর পর শশুর বাড়িতে ঠাই হয়নি। শশুর বাড়ি গেলে নির্যাতন করে। যার কারণে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। 

এরই মধ্যে পুলিশ পরিচয়ে ৫ হাজার টাকা দিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বিধবা তানিয়া।

এবিষয়ে মেম্বার ফারুক হোসেন বলেন, শফিক নামে এক জন থানার দারোগা পরিচয় দিয়ে তানিয়ার অভিযোগের বিষয়ে আমার কাছে জানতে চায়। পরে সে তানিয়ার মোবাইল নাম্বার চায়। আমি তার বাড়িতে গিয়ে তার ফোন নাম্বার নিয়ে তাকে দিই। 

এরপর শুনলাম বিধবা তানিয়ার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়েছে। এখন আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। এবিষয় তানিয়ার অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এস, আই কামাল এর কাছে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, ওসি স্যার তদন্তের জন্য আমার উপর দায়িত্ব দিয়েছে। ইতি মধ্যে আমি উভয়ের বাড়িতে গিয়েছি। আগামী কাল দুই পক্ষকে নিয়ে থানায় মিমাংসার কথা আছে। এখন আবার শুনছি থানার দারোগা পরিচয় দিয়ে ওয়ার্ড মেম্বার ফারুকের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর ফোন নাম্বার নিয়ে প্রতারণা করে টাকা নিয়েছে। ইতিমধ্যে নাম্বার টা ট্রাক করে গাইবান্ধার এক বিকাশ এজেন্টের নম্বর দিয়ে টাকা টা তুলে নিয়েছে প্রতারক চক্র।