এখন ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুর পাল্টে মেয়র বললেন, নালায় পড়ে মৃত্যুতে চসিক সিডিএ কেউ দায়ী না

রায়হান হোসাইন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি -ঃ জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ‘প্রসব বেদনায়’ মারা গেছে গত দশ মাসে অন্তত পাঁচজন। স্পষ্ট করে বললে – চট্টগ্রাম নগরের অধিকাংশ খাল-নালা অরক্ষিত অবস্থায় থাকায় এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনার পর বিশেষ করে মুরাদপুরে নালায় পড়ে সবজি বিক্রেতা ছালেহ আহমেদ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সাদিয়ার প্রাণহানিতে চসিক দুষে ছিলেন সিডিএকে। আবার সিডিএ-ও চসিককে তখন উল্টো দায় দিয়েছিল। পাল্টাপাল্টি দোষাদোষির মধ্যেই সরকার গঠিত তদন্ত কমিটিও তখন দুই সংস্থাকে দায়ী করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। তবে এবার আর দোষারোপ না করে সুর পাল্টে সিটি মেয়র বলছেন ভিন্ন কথা। খাল নালায় পড়ে প্রাণহানির ঘটনায় দুই সংস্থার কেউই দায়ী না বলেই মন্তব্য করেছেন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।

শুক্রবার (১ এপ্রিল) বিকেলে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল এলাকায় জলাবদ্ধতা প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ৫টি ব্রিজ ও রাস্তা উদ্বোধনের পর খাল-নালায় পড়ে প্রাণহানির ঘটনায় দায়ী কে – এমন প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের কাছে সিটি মেয়র এ কথা বলেন। তার কিছুক্ষণ আগে সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষকে নিয়ে এসব প্রকল্প উদ্বোধন করেছিলেন মেয়র রেজাউল।

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘কাজ তো চলছে। কিছু কিছু খালের কাজ প্রায় সম্পন্ন। অনেকগুলো খালের কাজ বাকি আছে। এবারও যে জলাবদ্ধতা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হবো এটা চিন্তা করাটা ভুল হবে। কারণ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে আমাদের। আমরা আশান্বিত, প্রকল্প পরিচালক বলেছেন— এপ্রিলের শেষের দিকে খালের বাধগুলো সরিয়ে দিবে। যাতে পানিগুলো চলে যাবে। এগুলো যদি পরিষ্কার হয়ে যায় তাহলে যে আশঙ্কা করছি বেশি পানি হবে সেটা হয়তো নাও হতে পারে। এ বর্ষার আগেই যে খালগুলোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে জলাবদ্ধতার হাত থেকে নগরবাসী রক্ষা পাবে। পানি উঠবে, কারণ ভৌগোলিক পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু সেই পানি বেশিক্ষণ থাকবে না। সহজে পানি নিষ্কাশিত হয়ে যেতে পারে সে জন্য এ ব্যবস্থা। এ জন্য তিনমাস ধরে মাইকিং করছি। আপনারা ময়লাগুলো বিনে জমিয়ে রাখবেন সেবকরা এসে নিয়ে যাবে।’

যার ঘরের সামনে ময়লা দেখবো, যে ময়লা ফেলবে তার বিরুদ্ধে মামলা জরিমানা করো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মেয়র রেজাউল করিম।

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে সিডিএ চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, ‘আমাদের এ কাজ প্রায় ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে এবং এগুলো পুরো শেষ হলে শহরের জলাবদ্ধতা অনেকটা কমে আসবে। আমরা ছাড়াও এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে। এ কাজগুলো যদি শেষ হয় তবে চট্টগ্রামবাসী এ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে। আমাদের প্রকল্পগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমি মাননীয় মেয়র মহোদয়কে অনুরোধ করবো, সিটি কর্পোরেশনের যে প্রকল্পগুলো শেষ হয়ে গেছে এগুলো আপনারা গ্রহণ করে নিবেন। আমরা যেগুলো কাজ করে দিবো সিটি কর্পোরেশনকে কোনো কাজ করতে হবে না।’

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

সুর পাল্টে মেয়র বললেন, নালায় পড়ে মৃত্যুতে চসিক সিডিএ কেউ দায়ী না

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:২৩:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ এপ্রিল ২০২২

রায়হান হোসাইন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি -ঃ জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ‘প্রসব বেদনায়’ মারা গেছে গত দশ মাসে অন্তত পাঁচজন। স্পষ্ট করে বললে – চট্টগ্রাম নগরের অধিকাংশ খাল-নালা অরক্ষিত অবস্থায় থাকায় এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনার পর বিশেষ করে মুরাদপুরে নালায় পড়ে সবজি বিক্রেতা ছালেহ আহমেদ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সাদিয়ার প্রাণহানিতে চসিক দুষে ছিলেন সিডিএকে। আবার সিডিএ-ও চসিককে তখন উল্টো দায় দিয়েছিল। পাল্টাপাল্টি দোষাদোষির মধ্যেই সরকার গঠিত তদন্ত কমিটিও তখন দুই সংস্থাকে দায়ী করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। তবে এবার আর দোষারোপ না করে সুর পাল্টে সিটি মেয়র বলছেন ভিন্ন কথা। খাল নালায় পড়ে প্রাণহানির ঘটনায় দুই সংস্থার কেউই দায়ী না বলেই মন্তব্য করেছেন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।

শুক্রবার (১ এপ্রিল) বিকেলে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল এলাকায় জলাবদ্ধতা প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ৫টি ব্রিজ ও রাস্তা উদ্বোধনের পর খাল-নালায় পড়ে প্রাণহানির ঘটনায় দায়ী কে – এমন প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের কাছে সিটি মেয়র এ কথা বলেন। তার কিছুক্ষণ আগে সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষকে নিয়ে এসব প্রকল্প উদ্বোধন করেছিলেন মেয়র রেজাউল।

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘কাজ তো চলছে। কিছু কিছু খালের কাজ প্রায় সম্পন্ন। অনেকগুলো খালের কাজ বাকি আছে। এবারও যে জলাবদ্ধতা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হবো এটা চিন্তা করাটা ভুল হবে। কারণ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে আমাদের। আমরা আশান্বিত, প্রকল্প পরিচালক বলেছেন— এপ্রিলের শেষের দিকে খালের বাধগুলো সরিয়ে দিবে। যাতে পানিগুলো চলে যাবে। এগুলো যদি পরিষ্কার হয়ে যায় তাহলে যে আশঙ্কা করছি বেশি পানি হবে সেটা হয়তো নাও হতে পারে। এ বর্ষার আগেই যে খালগুলোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে জলাবদ্ধতার হাত থেকে নগরবাসী রক্ষা পাবে। পানি উঠবে, কারণ ভৌগোলিক পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু সেই পানি বেশিক্ষণ থাকবে না। সহজে পানি নিষ্কাশিত হয়ে যেতে পারে সে জন্য এ ব্যবস্থা। এ জন্য তিনমাস ধরে মাইকিং করছি। আপনারা ময়লাগুলো বিনে জমিয়ে রাখবেন সেবকরা এসে নিয়ে যাবে।’

যার ঘরের সামনে ময়লা দেখবো, যে ময়লা ফেলবে তার বিরুদ্ধে মামলা জরিমানা করো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মেয়র রেজাউল করিম।

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে সিডিএ চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, ‘আমাদের এ কাজ প্রায় ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে এবং এগুলো পুরো শেষ হলে শহরের জলাবদ্ধতা অনেকটা কমে আসবে। আমরা ছাড়াও এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে। এ কাজগুলো যদি শেষ হয় তবে চট্টগ্রামবাসী এ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে। আমাদের প্রকল্পগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমি মাননীয় মেয়র মহোদয়কে অনুরোধ করবো, সিটি কর্পোরেশনের যে প্রকল্পগুলো শেষ হয়ে গেছে এগুলো আপনারা গ্রহণ করে নিবেন। আমরা যেগুলো কাজ করে দিবো সিটি কর্পোরেশনকে কোনো কাজ করতে হবে না।’