এখন ০৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়ী সীমান্ত দিয়ে অবাধে আসছে ভারতীয় গরু, কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, বিজিবি’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

স্বপন চন্দ্র রায়, জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর -ঃ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, পাচাররোধ ও সর্বোপরি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ(বি.জি.বি)।চোরাকারবারীরা গরু পাচারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মাদক পাচারের সাথে জড়িয়ে পড়ছে।এমনটি ঘটছে দিনাজপুরের সীমান্তঘেঁষা উপজেলা ফুলবাড়ীতে।

একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ী সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে গভীর রাত্রে অবৈধভাবে শত-শত ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করাচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতীয় চোরাকারবারীরা। চোরাকারবারিরা গরুর সাথে দেদারচে ফেনসিডিল ও ইয়াবাও আনছে বাংলাদেশে। ফলে মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে উত্তরাঞ্চল।

অভিযোগ আছে, রুদ্রানী ক্যাম্প ইনচার্জ তৌফিকের সাথে চোরাকারবারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের রয়েছে সখ্যতা। তা না হলে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হানিফের গাড়ি মাদকসহ আটক করলেও কেন তিনি তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করলেন? শুধু কি তাই! চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর ঠিকানা ক্যাম্প ইনচার্জকে জানিয়েও কোনো ব্যবস্থা নেননি তিনি।

এমনিভাবে অবৈধ পথে আসা ভারতীয় গরুগুলি সীমান্তের নির্দিষ্ট কয়েকটি বাড়িতে রাখা হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি তাকে।

বিষয়গুলি নিয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয় রুদ্রাণী ক্যাম্প ইনচার্জ তৌফিকের সাথে। তিনি জানান,মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীদের বিষয়ে আমাদের তথ্য দিন। আমরা অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।পরে আমরা খবর নিয়ে জানলাম, এটি ছিল তার অভিনয়।নইলে ওই এলাকায় বসবাসরত চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারির বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে এযাবত ওই চক্রের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি তাকে।

ওই অঞ্চলের বাসিন্দা সরকার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, (বি.জি.বি)সদস্যরা তৎপর হলে সীমান্তে মাদক সহ অন্যান্য বিষয়ে চোরাচালান অনেকাংশে কমে যেত।আমি নিজেও দেখেছি,অবৈধ পথে ভারতীয় গরুগুলি

দরিদ্র কৃষকদের যে ফসলি জমির উপর দিয়ে যায় সেই জমির ফসল গুলোও নষ্ট হয়ে যায়।

যেসব দরিদ্র কৃষক এগুলোর প্রতিবাদ করে তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে ভয়-ভীতিও দেখায় ওই চোরাকারবারীরা।

অভিযোগ আছে,রুদ্রানী ও জলপাইতলি সীমান্তে গরু পাচারের সময় বিজিবি সদস্যরা নিজেরাই উপস্থিত থাকেন।

তাই দাবি উঠেছে সীমান্তে সি.সি ক্যামেরা স্থাপন করা হোক।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় সংশ্লিষ্ট ২৯ বিজিবি’র অধিনায়কের সাথে। তিনি জানান,আপনারা দেখেছেন আমরা ইতোমধ্যেই ভারতীয় একজন নাগরিক সহ বেশকিছু গরু আটক করেছি।আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।চোরাকারবারীদের সাথে কোন আপোষ নেই।

এ বিষয়ে কথা হয় সেক্টর কমান্ডার দিনাজপুরের সাথে।তিনি জানান, আমাদেরকে এই তথ্য দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আশা করি খুব অল্প সময়ের মধ্যে উত্থাপিত বিষয়টির বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর মাদকের বিষয়ে তো আর কোন কথাই নেই। মাদকের ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্সে অবতীর্ণ।

কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি অবৈধ পন্থায় ফুলবাড়ীর বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দেদারসে আনছে ভারতীয় গরু।সেই চক্রের সদস্যরা হলেন-হাফিজুল, রফিকুল, বাচ্চু, খারিজুল ও তাহের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সীমান্ত অঞ্চলের একাধিক ব্যক্তি জানান, এই চক্রের সদস্যরা রুদ্রাণী ও জলপাইতলি ক্যাম্পের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবাধে আনছে এই ভারতীয় গরুগুলি। ফলে করিডোর বিহীন গরুগুলি আনায় বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। এর ফলে সরকার হারাচ্ছে কোটি-কোটি টাকার রাজস্ব।তারা বলছেন, করিডোর হলে প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব আদায় হতো সরকারের।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

ফুলবাড়ী সীমান্ত দিয়ে অবাধে আসছে ভারতীয় গরু, কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, বিজিবি’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৪৯:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২২

স্বপন চন্দ্র রায়, জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর -ঃ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, পাচাররোধ ও সর্বোপরি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ(বি.জি.বি)।চোরাকারবারীরা গরু পাচারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মাদক পাচারের সাথে জড়িয়ে পড়ছে।এমনটি ঘটছে দিনাজপুরের সীমান্তঘেঁষা উপজেলা ফুলবাড়ীতে।

একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ী সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে গভীর রাত্রে অবৈধভাবে শত-শত ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করাচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতীয় চোরাকারবারীরা। চোরাকারবারিরা গরুর সাথে দেদারচে ফেনসিডিল ও ইয়াবাও আনছে বাংলাদেশে। ফলে মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে উত্তরাঞ্চল।

অভিযোগ আছে, রুদ্রানী ক্যাম্প ইনচার্জ তৌফিকের সাথে চোরাকারবারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের রয়েছে সখ্যতা। তা না হলে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হানিফের গাড়ি মাদকসহ আটক করলেও কেন তিনি তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করলেন? শুধু কি তাই! চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর ঠিকানা ক্যাম্প ইনচার্জকে জানিয়েও কোনো ব্যবস্থা নেননি তিনি।

এমনিভাবে অবৈধ পথে আসা ভারতীয় গরুগুলি সীমান্তের নির্দিষ্ট কয়েকটি বাড়িতে রাখা হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি তাকে।

বিষয়গুলি নিয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয় রুদ্রাণী ক্যাম্প ইনচার্জ তৌফিকের সাথে। তিনি জানান,মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীদের বিষয়ে আমাদের তথ্য দিন। আমরা অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।পরে আমরা খবর নিয়ে জানলাম, এটি ছিল তার অভিনয়।নইলে ওই এলাকায় বসবাসরত চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারির বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে এযাবত ওই চক্রের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি তাকে।

ওই অঞ্চলের বাসিন্দা সরকার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, (বি.জি.বি)সদস্যরা তৎপর হলে সীমান্তে মাদক সহ অন্যান্য বিষয়ে চোরাচালান অনেকাংশে কমে যেত।আমি নিজেও দেখেছি,অবৈধ পথে ভারতীয় গরুগুলি

দরিদ্র কৃষকদের যে ফসলি জমির উপর দিয়ে যায় সেই জমির ফসল গুলোও নষ্ট হয়ে যায়।

যেসব দরিদ্র কৃষক এগুলোর প্রতিবাদ করে তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে ভয়-ভীতিও দেখায় ওই চোরাকারবারীরা।

অভিযোগ আছে,রুদ্রানী ও জলপাইতলি সীমান্তে গরু পাচারের সময় বিজিবি সদস্যরা নিজেরাই উপস্থিত থাকেন।

তাই দাবি উঠেছে সীমান্তে সি.সি ক্যামেরা স্থাপন করা হোক।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় সংশ্লিষ্ট ২৯ বিজিবি’র অধিনায়কের সাথে। তিনি জানান,আপনারা দেখেছেন আমরা ইতোমধ্যেই ভারতীয় একজন নাগরিক সহ বেশকিছু গরু আটক করেছি।আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।চোরাকারবারীদের সাথে কোন আপোষ নেই।

এ বিষয়ে কথা হয় সেক্টর কমান্ডার দিনাজপুরের সাথে।তিনি জানান, আমাদেরকে এই তথ্য দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আশা করি খুব অল্প সময়ের মধ্যে উত্থাপিত বিষয়টির বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর মাদকের বিষয়ে তো আর কোন কথাই নেই। মাদকের ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্সে অবতীর্ণ।

কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি অবৈধ পন্থায় ফুলবাড়ীর বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দেদারসে আনছে ভারতীয় গরু।সেই চক্রের সদস্যরা হলেন-হাফিজুল, রফিকুল, বাচ্চু, খারিজুল ও তাহের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সীমান্ত অঞ্চলের একাধিক ব্যক্তি জানান, এই চক্রের সদস্যরা রুদ্রাণী ও জলপাইতলি ক্যাম্পের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবাধে আনছে এই ভারতীয় গরুগুলি। ফলে করিডোর বিহীন গরুগুলি আনায় বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। এর ফলে সরকার হারাচ্ছে কোটি-কোটি টাকার রাজস্ব।তারা বলছেন, করিডোর হলে প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব আদায় হতো সরকারের।