সামছুদ্দিন, নোয়াখালী প্রতিনিধি -ঃ ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলা শহরঘেঁষা মুহুরি নদী। এখান থেকে প্রতিদিন রাতের আঁধারে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। ভরাট হচ্ছে ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা, ফলে তৎসংলগ্ন রেলসেতু ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এভাবে দিনের পর দিন চলতে থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ কোনো খবর রাখেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে একাধিক ব্যক্তির সাথে কথাবলে জানা গেছে, সেতু ও বাঁধের খুব কাছ থেকে একটি মহল নদীর তীর থেকে মাটি কাটা শুরু করেছে। প্রশাসনের কড়া নজরদারি থাকায় রাতের আঁধারে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে সরবরাহ করা হয় ইটভাটায়। এতে করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত মাটিকাটা চলে। কিছু মাটিখেকো ব্যক্তি ইট মৌসুম এলেই সরকারি মাটি বিক্রি করতে হন্যে হয়ে পড়েন। নদীর পাড় থেকে মাটি বিক্রি করায় বাঁধ ও সেতুর ক্ষতি হলেও সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। অথচ মাটি ব্যবসায়ীদের আগ্রাসী মনোভাবে বন্যা এলেই এসব বাঁধ ভেঙে যায়।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, উপজেলায় ১৭টি ইটভাটা রয়েছে। বিভিন্ন ভাটায় নদীর পাড় থেকে মাটি সরবরাহ করা হয়। মাটিগুলো বিক্রি করেন মাসুদ নামের এক ব্যক্তি। তিনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল আলিমের ফুফাতো ভাই। প্রতি পিকআপে ১৫০ ঘনফুট মাটি বহন করা যায়। এই পরিমাণ মাটি দিয়ে এক হাজার ইট তৈরি হয়। তবে এ ব্যাপারে মাসুদ বলেন, নদীর তীরে মাটি কাটার সাথে তার জড়িত থাকার তথ্য সত্য নয়।
সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম জানান, মাটি কাটা নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সভায় আলোচনা হয়। মাটি কাটা বন্ধে অভিযানও চালানো হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আক্তার হোসেন মজুমদার জানান, বাঁধ ও সেতুর কাছ থেকে মাটি কাটার খবর জেনে তিনি ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অন্য কাজে মাটিগুলো পুনরায় ভরাট করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী বেগম জানান, গত ক’দিন আগে রাতে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ছয়টি পিকআপ ও একটি স্কেভেটর জব্দ করা হয়। খোঁজখবর নিয়ে মাটি কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল আলিম মজুমদার জানান, মাটি কাটার ঘটনায় মাসুদ জড়িত নয়। তবে নদীর পাড় থেকে ফুলগাজী মহিলা কলেজের মাঠ ভরাট ও শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য মাটি কাটা হচ্ছে। মাটি কাটায় বাঁধ হুমকির পড়ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে। তাদের অনুমতি নিয়ে মাটি কাটার বিষয়টি তিনি জেনেছেন।













