আরোয়ার জাহান পারভেজ,ত্রিশাল প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ত্রিশালের ইটভাটাগুলোতে শুরু হয়েছে ইট তৈরির মৌসুম। ইটের মৌসুমকে ঘিরে পুরাতন প্রায় ৭০টি ইটভাটার মধ্যে ২/৪ টির কাগজপত্র থাকতে পারে। এসব অবৈধ ইটভাটা স্থাপন হয়েছে লোকালয়ে, কৃষিজমিতে,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ মসজিদ মাদ্রাসার সন্নিকটে। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠা এসব ইটভাটার নেই কোন পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের ছাড়পত্র। অবাধে পোড়ানো হচ্ছে জ্বালানি কাঠ, নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি ও রাস্তা-ঘাট। সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কতিপয় প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে চড়া মূল্যে এসব ইট বিক্রি করছে ভাটা মালিকেরা।
এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে ৯৫ থেকে ১২০ ফুট উচ্চতার স্থায়ী চিমনি। কাঠ পোড়ানো ও স্বল্প উচ্চতার চিমনি ব্যবহার করায় ইটভাটাগুলোতে নির্গত হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে কালো ধোঁয়া। এতে জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইটভাটার সৃষ্ট দূষণে বয়স্ক ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া কালো ধোঁয়ার কারণে মানুষের ফুসফুসের সমস্যা, শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডাজনিত নানা রোগ দেখা দিচ্ছে প্রতিনিয়তই। ইটভাটার সৃষ্ট দূষণ পরিবেশ বিপর্যয়সহ কৃষি উৎপাদন ও ফলমূলের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত এবং গাছপালার স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করছে।
এদিকে এলাকাবাসী জানান, ইটভাটার আগ্রাসনে নষ্ট হচ্ছে যেমন ফসলি জমি তেমনি পরিবেশ । অপরিকল্পিত ইটভাটা জমির সর্বনাশ ডেকে আনছে। যা কৃষি নির্ভর দেশের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
আজ( বুধবার ) ১৯ জানুয়ারী, ময়মনসিংহের ত্রিশালে পরিবেশ অধিদপ্তর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে আলামীন ব্রিকসকে ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকা, ABC ব্রিকসকে ৩(তিন) লক্ষ টাকা, বনানী ব্রিকসকে ১(এক) লক্ষ টাকা, সামাল ব্রিকসকে ১(এক)লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করেন।
এছাড়াও সোনার বাংলা ব্রিকস,নবাব ব্রিকস,দামন ব্রিকস, হক ব্রিকস, ত্রিশাল ব্রিকস, শাপলা ব্রিকস, হামিদ ব্রিকস, সরকার ব্রিকস সহ অসংখ্য অবৈধ ইটভাটার মালিক প্রভাব খাটিয়ে বিঘায় বিঘায় আবাদি জমি নষ্ট করে অবৈধভাবে চালাচ্ছেন ইটভাটা।
মানবাধিকারকর্মী ও পরিবেশবিদরা জানান, যত্রতত্র ইটভাটা স্থাপনের ফলে একদিকে কৃষি জমির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। অন্যদিকে জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে। দ্রুত অবৈধ ইটভাটাগুলো আইনের আওতায় আনা উচিত।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মিহির লাল সরদার বলেন,অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ অভিযান অব্যহত রাখা হবে বলে জানায়।













