এখন ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরের পীরগঞ্জের তিনটি গ্রামে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ৪২জন গ্রেফতার

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
ফেসবুকে একটি পোষ্টে ধর্ম অবমাননা করে কমেন্ট করার অভিযোগে রংপুরের পীরগঞ্জের তিনটি গ্রামে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ফাঁকা গুলি ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪২জনকে গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর জেলার সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ কামরুজ্জামান জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোষ্টে ইসলাম ধর্ম অবমাননা করে কমেন্ট করার খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে কথিত এই অভিযোগে ১৫ খেকে ১৮ টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রোববার (১৭ অক্টোবর) রাত দশটার দিকে এই ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

সহকারী পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘ভালবাসার প্রস্তাব’ নামে একটি ফেসবুক আইডির প্রোফাইল ফটোতে কাবা শরীফের ছবি ছিল। সেখানে কমেন্ট করা হয় , সেখান থেকে এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটতে পারে। পরিস্থিতি এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান তিনি।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে বসতবাড়িতে ঢুকে দুর্বৃত্তরা গ্রামজুড়ে তাÐবলীলা চালায়। এ সময় তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে মারধর করে। দুর্বৃত্তরা তখন একের পর এক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

বাড়িতে অগ্নিসংযোগের স্বীকার এক ভুক্তভোগী গৃহবধূ কান্নাজরিত কন্ঠে জানান “গরু একটা নিয়া গেইছে,গাড়ি পুড়ি ফেলাইসে,চাউল টাউল টাকা নিয়ো গেইছে, হামরা এলা কি করি খামো।”

আগুনে পুড়ে যায় ঐ তিন এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে থাকা নানা ধরণের মালামাল,গরু,ভ্যানসহ পুড়ে ছাই হয়ে যায় অনেক দোকানপাট। অনেক বাড়িতে চালানো হয় ভাংচুর ও লুটপাট। ঘটনার সময় আতংকে নারী পুরুষ অনেকে আশ্রয় নেয় পাশের ধানক্ষেতসহ বিভিন্ন জায়গায়।

পূর্ণিমা রানী নামে একজন বলেন, হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর করে ৫০ হাজার টাকা ও একটি গরু নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

জেলা পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, বিনা উস্কানিতে দূবৃত্তরা কিছু ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। বাড়িঘর ভাংচুর করেছে।

রাত ১টায় ঘটনাস্থলে যান জেলা প্রশাসক আসিব আহসান তিনি জানান, যাদের ঘরগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেই ঘরগুলো সংস্কারের জন্য যে যা প্রয়োজন সেটা করা হবে । আমাদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সহায়তা করা হবে।

বিভাগীয় প্রশাসক আবদুল ওয়াহাব ভুঞা, জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, জেলা পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পুলিশ,বিজিবির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসন ও দোসীদের গ্রেফতারের আশ্বাস দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

রংপুরের পীরগঞ্জের তিনটি গ্রামে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ৪২জন গ্রেফতার

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩৭:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
ফেসবুকে একটি পোষ্টে ধর্ম অবমাননা করে কমেন্ট করার অভিযোগে রংপুরের পীরগঞ্জের তিনটি গ্রামে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ফাঁকা গুলি ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪২জনকে গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর জেলার সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ কামরুজ্জামান জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোষ্টে ইসলাম ধর্ম অবমাননা করে কমেন্ট করার খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে কথিত এই অভিযোগে ১৫ খেকে ১৮ টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রোববার (১৭ অক্টোবর) রাত দশটার দিকে এই ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

সহকারী পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘ভালবাসার প্রস্তাব’ নামে একটি ফেসবুক আইডির প্রোফাইল ফটোতে কাবা শরীফের ছবি ছিল। সেখানে কমেন্ট করা হয় , সেখান থেকে এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটতে পারে। পরিস্থিতি এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান তিনি।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে বসতবাড়িতে ঢুকে দুর্বৃত্তরা গ্রামজুড়ে তাÐবলীলা চালায়। এ সময় তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে মারধর করে। দুর্বৃত্তরা তখন একের পর এক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

বাড়িতে অগ্নিসংযোগের স্বীকার এক ভুক্তভোগী গৃহবধূ কান্নাজরিত কন্ঠে জানান “গরু একটা নিয়া গেইছে,গাড়ি পুড়ি ফেলাইসে,চাউল টাউল টাকা নিয়ো গেইছে, হামরা এলা কি করি খামো।”

আগুনে পুড়ে যায় ঐ তিন এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে থাকা নানা ধরণের মালামাল,গরু,ভ্যানসহ পুড়ে ছাই হয়ে যায় অনেক দোকানপাট। অনেক বাড়িতে চালানো হয় ভাংচুর ও লুটপাট। ঘটনার সময় আতংকে নারী পুরুষ অনেকে আশ্রয় নেয় পাশের ধানক্ষেতসহ বিভিন্ন জায়গায়।

পূর্ণিমা রানী নামে একজন বলেন, হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর করে ৫০ হাজার টাকা ও একটি গরু নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

জেলা পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, বিনা উস্কানিতে দূবৃত্তরা কিছু ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। বাড়িঘর ভাংচুর করেছে।

রাত ১টায় ঘটনাস্থলে যান জেলা প্রশাসক আসিব আহসান তিনি জানান, যাদের ঘরগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেই ঘরগুলো সংস্কারের জন্য যে যা প্রয়োজন সেটা করা হবে । আমাদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সহায়তা করা হবে।

বিভাগীয় প্রশাসক আবদুল ওয়াহাব ভুঞা, জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, জেলা পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পুলিশ,বিজিবির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসন ও দোসীদের গ্রেফতারের আশ্বাস দেন।