এ,কে,এম বেলাল উদ্দীন, চকরিয়া -ঃ চকরিয়া প্রতিনিধি -ঃ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়ন যেন সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে হত্যা, দস্যুতা, সন্ত্রাস, জবর দখল, শিক্ষক নির্যাতন ও সরকারি চাউল আত্বসাত থেকে শুরু করে সব কাজে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে সন্ত্রাসী গ্রুপ তৈরি করে বিভিন্ন অপকর্ম করার অভিযোগ। এসব অপকর্ম চালিয়ে আসলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। এধরণের অভিযোগ করেন; ইউপি সদস্য রেজাউল করিম। তিনি আরো জানান, চেয়ারম্যানের এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করলে নিরীহ লোকজনকে বিভিন্নভাবে মামলা দিয়ে হয়রানী করা হয়। সম্প্রতি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে চেয়ারম্যান নিজেই বলে আসছেন তার ইউনিয়ন সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানায়, চেয়ারম্যান জসিম বাহিনীর বিরুদ্ধে রয়েছে; বিগত ১৯৯৩ সালে ১০ জানুয়ারী চিরিংগা ইউনিয়নের বালুচিরার পশ্চিমে প্রায় সাড়ে ৪১ একর চিংড়ি জমি অবৈধভাবে জবর দখল করতে গিয়ে মৃত আবদুল করিমের পুত্র মোহাম্মদ আলীকে চোখ উপড়ে ও গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করার। পরবর্তীতে চেয়ারম্যানের পক্ষে এক কড়া জমিও দালিলিক প্রমাণ করতে পারেনি।
একইভাবে জসিম চেয়ারম্যান বাহিনী ২০০৯ সালে চরণদ্বীপ চিংড়ি জোন এলাকায় মো: জাহেদকে গুলি করে হত্যা করে। সে সওদাগর ঘোনার নুর আহমদের ছেলে। একইদিনে আতাউল্লাহকেও গুলি করে হত্যা করা হয়।
অপরদিকে, চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন গং দীর্ঘকাল ধরে চিরিংগা ইউনিয়ন বহুমূখী সমবায় সমিতির ১৭০ একর বিশিষ্ট চিংড়ি ঘের জবর দখল করে রাখার অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য জাফর আলম এমএ ও চকরিয়া থানার তৎকালীন ওসি হাবিবুর রহমানের সমন্বয়ে অবৈধভাবে দখলে থাকা ৫৫ একর জমি সমিতিকে ছেড়ে সিদ্ধান্ত হয়। ওই জমি নিয়ে জনৈক মৌলভী বশির আহমদের কাছ থেকে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণা করারও অভিযোগ রয়েছে। এঘটনায় সম্প্রতি থানায় মামলাও হয়েছে।
জানাগেছে, ২০০৪ সালে বিএনপি জোট সরকারের সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করলেও এখন ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন এখন কৃষকলীগের বড় নেতা। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে চেয়ারম্যানের বাড়িতে হেফাজত থেকে বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেন। ওই সময় অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে তাকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করে।
সওদাগরঘোনার জহির আহমদ নামে এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জানিয়েছেন, তাকে শালিস-বিচারের কথা বলে পরিষদে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে টয়লেটে আটকিয়ে রেখে নির্মম নির্যাতন করেন চেয়ারম্যান জসিম। দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও কোন প্রতিদান না পাওয়ায় প্রতিনিয়তই ক্ষোভ ও আতংখিত হয়ে উঠছেন। চেয়ারম্যানের বিচারের বাণি নিয়ে ঘুরেছেন অনেক জায়গায়। কিন্তু কোন পরিত্রাণ পাননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, বিগত ২০১৫সালের ১০ মে পরিষদের নামে সরকারি বরাদ্দের ৪মে: টন চাউল আত্বসাতের অভিযোগে দোষ স্বীকার করে মুচলেখাও দিয়েছেন। একইভাবে বিগত ১৮ বছর ধরে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের নামে-বেনামে অনেক প্রকল্পের অর্থ নয়-ছয় করে আত্বসাতের অভিযোগ উঠেছে।
সামষ্টিক বিষয়ে জানতে চিরিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উত্থাপিত অভিযোগ সমূহ মিথ্যা। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। তিনি পরিষদের অর্থ ও চাল আত্বসাত করেননি। শিক্ষক নির্যাতনের বিষয়ে তিনি বলেন, মাষ্টার জহির আহমদ উল্টো তার কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন।













